১১:২৮ পি.এম
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চরম বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দিচ্ছে। রিয়াদকে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সূত্রগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে প্রায় ৩০ বছর। এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলো যুক্ত হবে। যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার পরে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য প্রেরণ করা হবে। তবে সেখানে এটি বাধার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতা উদ্বিগ্ন, সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএআইএ)-এর সদস্য। সংস্থাটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির তদারকি করে এবং গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম আছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করে।
তবে সূত্রগুলোর একজন বলেছেন, এই চুক্তিতে আইএইএর ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। এই প্রোটোকল কার্যকর হলে আইএইএ আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও যাচাইয়ের ক্ষমতা পাবে।
চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণা এমন একটি সময় আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব দাবি করছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
ইরান বরাবরই দাবি করেছে, তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ। যদিও অতীতে দেশটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দাবি করেছিল। চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং রিয়াদের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিলেন।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পথ প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তখন সৌদি আরবও সেই পথে হাঁটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়; এজন্য আরও জটিল প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তবুও সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রস্তুত করে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সৌদি আরব সফর করে দেশটির বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্প গড়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
এদিকে ইসরাইলের হামলার পর সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। এই মন্তব্যকে অনেকে ইসরায়েলের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করেনি।
পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা এ মডেলটিকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করেন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন