প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
এক সময় পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল। ফলে পানিপ্রবাহ হারানোর কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হতে যেতো, আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত তীব্র সেচ সংকট। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে রাজাপুর। সরকারের উদ্যোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের ফলে ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এর ফলে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সরাসরি উপকৃত হবেন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানাচ্ছে, সরকারের 'সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি)' এবং 'জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা' প্রকল্পের আওতায় এসব খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।
এর মাঝে শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। আরও উল্লেখযোগ্য, সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়ার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা, যার সুফল পাবেন সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।
এছাড়া রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এখানে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ হাজার ৫০ জন। তুলাতলি এলাকার ২ হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যার সুফল পাবেন আড়াই হাজার মানুষ। রাড়িবাড়ি খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, খালগুলোতে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় সেচের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। কৃষক রিপন সিকদার, কাদের সিকদার ও করিম বলেছেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কিন্তু এখন সহজেই পানি পাওয়া যাবে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে।
শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে মিলছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি, মনিকা রায় ও শেফালি বেগম জানিয়েছেন, আগে রান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির সংকট ছিল নিয়মিত ঘটনা। খাল পুনঃখননের পর সেই সমস্যা অনেকটা দূর হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ে, দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরি হয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হয় এবং জলাবদ্ধতা কমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও খালের দুই পাড়ে চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।
কিন্তু স্থানীয় জনগণের দাবী, শুধু খাল পুনঃখনন করলেই হবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।
রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
একসময় যে খাল ছিল দুর্ভোগের প্রতীক, পুনঃখননের পর সেটিই এখন রাজাপুরের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই খালগুলো দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন