ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাসা দেখার অজুহাতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, জিম্মি করে ডাকাতি


বাসা দেখার অজুহাতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, জিম্মি করে ডাকাতি

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার নাম করে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে তিন নারীকে বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ও এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীও হন তিনি।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে ১ লাখ টাকা লুটের টাকা উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।

পুলিশের ভাষ্য, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ এবং পরে নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম জিয়ার সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্ক, তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


বেগম জিয়ার সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্ক, তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজিকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর। তাদের মধ্যে একজন ডিএমপিতে কর্মরত, একজন সিআইডিতে এবং অপরজন নৌপুলিশে কর্মরত। জানা যাচ্ছে, আজ অথবা কাল তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বুধবার (২২ জুলাই) এই তথ্য দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগে সরকার আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরের প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নথিতে তাদেরকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন লাভ করেছেন।

অন্যদিকে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে, পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। বিশেষত সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনেন।

জেসমিনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে আলোচিত। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করেছেন এবং তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেছেন, 'আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় সেখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময়, তাই একটি চক্র ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।'

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পরে সাবেক বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির দ্বিতীয় সিটে বসেছিলেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার বিষয়ে সেসময় প্রশংসা পেয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন, কিন্তু বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বর একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

শনাক্তকৃত বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন, সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাদ পড়েননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে রাজাপুরের চিত্র, সুফল পাচ্ছেন ২৪ হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে রাজাপুরের চিত্র, সুফল পাচ্ছেন ২৪ হাজার মানুষ

এক সময় পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল। ফলে পানিপ্রবাহ হারানোর কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হতে যেতো, আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত তীব্র সেচ সংকট। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে রাজাপুর। সরকারের উদ্যোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের ফলে ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এর ফলে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সরাসরি উপকৃত হবেন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানাচ্ছে, সরকারের 'সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি)' এবং 'জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা' প্রকল্পের আওতায় এসব খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

এর মাঝে শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। আরও উল্লেখযোগ্য, সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়ার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা, যার সুফল পাবেন সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।

এছাড়া রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এখানে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ হাজার ৫০ জন। তুলাতলি এলাকার ২ হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যার সুফল পাবেন আড়াই হাজার মানুষ। রাড়িবাড়ি খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, খালগুলোতে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় সেচের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। কৃষক রিপন সিকদার, কাদের সিকদার ও করিম বলেছেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কিন্তু এখন সহজেই পানি পাওয়া যাবে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে।

শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে মিলছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি, মনিকা রায় ও শেফালি বেগম জানিয়েছেন, আগে রান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির সংকট ছিল নিয়মিত ঘটনা। খাল পুনঃখননের পর সেই সমস্যা অনেকটা দূর হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ে, দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরি হয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হয় এবং জলাবদ্ধতা কমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও খালের দুই পাড়ে চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় জনগণের দাবী, শুধু খাল পুনঃখনন করলেই হবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।

রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

একসময় যে খাল ছিল দুর্ভোগের প্রতীক, পুনঃখননের পর সেটিই এখন রাজাপুরের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই খালগুলো দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারওয়ান বাজারে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৫ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ পি.এম


কারওয়ান বাজারে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৫ জন গ্রেপ্তার

ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে পাঁচ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রায়হান (২০), মো. নূর আলম (২৫), মো. হৃদয় (২৬), মো. মেহেদী হাসান (৩৮) ও মো. জুয়েল (৩০)।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সিটিটিসি’র ট্রান্সন্যাশনাল বিভাগের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে কারওয়ান বাজার এলাকায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ছিনতাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনার নিজ শহরে কান্নায় ভেঙে পড়া স্কালোনির বীরোচিত সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৫ এম


আর্জেন্টিনার নিজ শহরে কান্নায় ভেঙে পড়া স্কালোনির বীরোচিত সংবর্ধনা

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের দুঃখবোধ নিয়ে বুধবার লিওনেল স্কালোনি ফিরে আসেন স্বদেশ পুহাতোতে। প্রিয় শহরের মানুষের উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা দেখে তিনি আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিচিত মুখগুলোর সামনে স্কালোনি অশ্রু আর ধরে রাখতে পারেননি। যদিও শিরোপা হাতছাড়া হওয়ার বিষণ্ণতা তার মনে ছিল, কিন্তু তারপরও শহরজুড়ে হাজার হাজার সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ভিড় করেন।

গত রোববার রাতে নিউইয়র্ক নিউজার্সি স্টেডিয়ামে মারাত্মক হার মেনে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা, যারা আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ে চলা ফাইনালে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে হেরে গেছে তারা, যার ফলে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে প্রবেশ করেছে স্পেন। পরদিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুয়েন্স এইরেস পৌঁছানোর পর স্কালোনি সান্তা ফে প্রদেশের শহর পুহাতোতে পা রাখেন। সেখানে তাকে এক বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়, তবে আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে নাতে পাওয়ার কষ্ট তার ভিতরে স্পষ্ট ছিল।

ফাইনাল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুহাতোতে এসে তিনি নিজেকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারছিলেন না এবং টানা দুদিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার জনসমক্ষে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, এই পরাজয়ের ভার এখনও তাকে এবং তার খেলোয়াড়দের গভীরভাবে পীড়া দিচ্ছে। স্প্যানিশ সংবাদপত্র এএসের প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, 'আমরা জিততে পারিনি। আমরা জানি যে, দেশের মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমরা খেলি। আর ঠিক এই কারণেই এই কষ্টটা এত বেশি।'

৪৮ বছর বয়সী এই কোচ ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, ফাইনালের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা নেই, 'মাঝেমধ্যে আপনি জিতবেন, আবার কখনও হারবেন। আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে যে, স্পেন ভালো খেলেছে। আর এই উপলব্ধিটা আমাদের আরও পরিণত হতে সাহায্য করবে।'

স্কালোনি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল অধ্যায়ের রূপকার। শেষ পর্যন্ত হেরে গেলেও দলের লড়াই করার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি, 'আমাদের মানসিকতা সব সময় একই থাকে। আর তা হলো— পরিস্থিতির বিরুদ্ধে থাকার পরও আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করি। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে যে, প্রতিপক্ষও মাঠে খেলতে নামে এবং তারা আমাদের চেয়ে ভালোও হতে পারে। কিন্তু আমরা তাদের কাজটা বেশ কঠিন করে দিয়েছিলাম।'

এই আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে জাতীয় দলের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে সমর্থকরা বারবার স্লোগান দেন, 'লিও, ছেড়ে যেও না!'

আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কালোনির চুক্তির মেয়াদ আছে। চুক্তির সময় শেষ হলে তিনি সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আগেই। তবে এখনও পর্যন্ত তার কাছ থেকে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা এসেছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। শিল্পকের স্লোগানের জবাবে তিনি বিশেষ কিছু ধারণা দেননি।

শিরোপার দীর্ঘ খরা কাটিয়ে গত আট বছরে আর্জেন্টিনাকে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দেওয়ার কারিগর স্কালোনি মন্তব্য করেন, 'আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকছি। আর আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%