রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৪১ পি.এম
অনেক নারীর ক্ষেত্রে সবসময় বিরক্তি, রাগ বা সামান্য বিষয়েও অস্থির হয়ে ওঠাকে অনেক সময় খারাপ স্বভাব বা বদমেজাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে, এই দীর্ঘস্থায়ী বিরক্তি সবসময় ব্যক্তিত্বের সমস্যা নির্দেশ করে না। এর পেছনে মানসিক চাপ, দুঃখ, শোক কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিরক্তি অনেক সময় শরীর ও মনের ভেতরে জমে থাকা অস্বস্তির একটি প্রকাশ হতে পারে। বিষণ্নতা, দ্বিমেরু মানসিক সমস্যা, অমীমাংসিত শোক, মানসিক আঘাত কিংবা অতিরিক্ত উদ্বেগের মতো বিষয়গুলি এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
বিষণ্নতায় বিরক্তি প্রকাশ পেতে পারে
অনেক নারীর ক্ষেত্রে বিষণ্নতা সবসময় চোখের পানি বা গভীর দুঃখের মাধ্যমে প্রকাশ পায় না। বরং দীর্ঘদিনের বিরক্তি, রাগ, অধৈর্যতা বা সামান্য বিষয়েও অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি প্রকাশ পেতে পারে।
মনের দুঃখ, হতাশা বা নিজের প্রতি নেতিবাচক ধারণা অনেক সময় রাগ ও বিরক্তির রূপ নিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এই অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, পছন্দের কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন এবং নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়ার মতো লক্ষণও থাকতে পারে।
দ্বিমেরু মানসিক সমস্যায় মেজাজের পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মেজাজের অস্বাভাবিক ওঠানামার সময় একজন ব্যক্তি খুব দ্রুত রেগে যেতে পারেন বা অল্পতেই অস্থির হয়ে উঠতে পারেন।
এছাড়া, হঠাৎ করে অনেক বেশি আনন্দ বা গভীর বিষণ্নতা, না ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
অমীমাংসিত শোকও হতে পারে কারণ
কোনো প্রিয়জনকে হারানো কিংবা গভীর কোনো ক্ষতির পর অনেকেই নিজের দুঃখ ও অপরাধবোধ ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন না। সেই জমে থাকা অনুভূতি পরে রাগ, বিরক্তি বা অধৈর্যতার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ, হারানোর কথা মনে করিয়ে দেয় এমন বিষয় এড়িয়ে চলা, আবেগ অনুভব করতে না পারা কিংবা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারাও এর সঙ্গে থাকতে পারে।
মানসিক আঘাতের প্রভাব
পুরোনো কোনো মানসিক আঘাত দীর্ঘদিন পরও আচরণ ও অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ সবসময় সতর্ক বা সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারেন। সামান্য বিষয়েও রাগ, বিরক্তি বা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
এর সঙ্গে ভয়ংকর ঘটনার স্মৃতি বারবার মনে পড়া, দুঃস্বপ্ন, সবসময় বিপদের আশঙ্কা করা, আবেগ অনুভব না করা কিংবা সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয় এমন বিষয় এড়িয়ে চলার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।
সবসময় বিরক্তি মানেই খারাপ স্বভাব নয়
দীর্ঘদিনের বিরক্তিকে শুধু ‘খারাপ ব্যবহার’ বা ‘এমনই স্বভাব’ বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় এটি ভেতরে থাকা দুঃখ, শোক, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে।
হরমোনের ওঠানামা, দীর্ঘদিনের চাপ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপও বিরক্তি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে তীব্র মানসিক পরিবর্তন বা অতিরিক্ত উদ্বেগের মতো সমস্যার ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যেতে পারে।
কোন পরিস্থিতিতে বিরক্তি বাড়ছে, তা খেয়াল করা জরুরি। বিরক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হতে পারে কোন পরিস্থিতিতে এটি বেশি হচ্ছে তা বোঝা। কর্মক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কাজ, সহকর্মী বা বাইরের চাপ থেকে বিরক্তি তৈরি হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করা যেতে পারে।
বিরক্ত হওয়ার পর নিজের আচরণ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে, নাকি সামলাতে সাহায্য করছে—সেটিও ভাবা জরুরি। সন্তানের আচরণে বিরক্ত হওয়ার সময় নিজের ভেতরে তখন কী অনুভূতি কাজ করছে, সেটিও খেয়াল করা যেতে পারে।
বিষয়টি শুধু শিশুর আচরণের কারণে, নাকি নিজের ক্লান্তি বা অন্য কোনো চাপ থেকেও বিরক্তি তৈরি হচ্ছে—তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। গাড়ি চালানোর সময় যানজট, অন্য চালকের আচরণ কিংবা সময়ের চাপ থেকেও বিরক্তি তৈরি হতে পারে।
তখন শরীরে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, যেমন দাঁত চেপে রাখা বা কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া—সেদিকেও খেয়াল করা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে গভীর শ্বাস নেওয়া, শান্তভাবে নিজেকে সামলানো বা মনোযোগ অন্যদিকে নেওয়ার মতো পদ্ধতি কাজে লাগানো যেতে পারে।
বিরক্তির কারণ লিখে রাখুন
কোন মানুষ, পরিস্থিতি বা পরিবেশে বিরক্তি বেশি হচ্ছে, তা লিখে রাখলে নিজের আচরণের কিছু ধরন বোঝা সহজ হতে পারে। কখন বিরক্তি হচ্ছে, তখন কী ঘটেছিল এবং নিজের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল—এসব লিখে রাখলে একই ধরনের পরিস্থিতি বারবার ঘটছে কি না, তা শনাক্ত করা সম্ভব।
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
দীর্ঘদিন ধরে বিরক্তি থাকলে এবং তা দৈনন্দিন জীবন, কাজ বা সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেললে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসার মাধ্যমে বিরক্তির পেছনে থাকা দুঃখ, মানসিক আঘাত বা শোক নিয়ে কাজ করা সম্ভব।
বিষণ্নতা, দ্বিমেরু মানসিক সমস্যা বা মাসিকের আগে তীব্র মানসিক পরিবর্তনের মতো কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা
বিরক্তি বা রাগের মুহূর্তে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া, শরীরের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল করা এবং কিছুক্ষণ শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার মতো পদ্ধতি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত মনোযোগ ধরে রাখার অনুশীলন ও শিথিল হওয়ার অভ্যাসও উপকারী হতে পারে।
দীর্ঘদিনের বিরক্তিকে তাই শুধু স্বভাবের সমস্যা হিসেবে দেখার বদলে এর পেছনে থাকা কারণ বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া, বিরক্তির কারণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া মানসিক সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সূত্র: এসেন্স সাইকোলজিকেল হেলথ সার্ভিসেস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভিডিও এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। নির্মাতারা ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দর্শক এবং ভিউ বাড়ানোর পাশাপাশি বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করেন। তবে নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য ইউটিউব আয়ের পথ আরও কঠিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (ওয়াইপিপি)-এর আওতায় বিজ্ঞাপন থেকে আয় করার যোগ্যতার শর্তগুলো বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের আয় পেতে নতুন নির্মাতাদের আগের তুলনায় দ্বিগুণ ওয়াচ আওয়ার অথবা ‘শর্টস’ ভিউ অর্জন করতে হবে।
নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পেতে একজন নির্মাতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো-
*) শেষ ৩৬৫ দিনে কমপক্ষে ৮ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার,
*) শেষ ৯০ দিনে কমপক্ষে ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ‘শর্টস’ ভিউ,
*) কমপক্ষে ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার।
বর্তমানে ইউটিউবের বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পাওয়ার জন্য একজন নির্মাতার গত ১২ মাসে ৪ হাজার ঘণ্টা ওয়াচ আওয়ার অথবা শেষ ৯০ দিনে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ‘শর্টস’ ভিউ এবং অন্তত ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকার শর্ত রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওয়াচ আওয়ার ও ‘শর্টস’ ভিউ উভয় ক্ষেত্রেই যোগ্যতার সীমা দ্বিগুণ হবে।
নতুন নির্মাতারা বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। নতুন নিয়মের সরাসরি প্রভাব মূলত নতুন কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর পড়বে। ইতোমধ্যে যারা ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়বে না।
তবে যারা আগামী বছর ইউটিউবকে আয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে কনটেন্ট তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন শর্ত পূরণ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কম সাবস্ক্রাইবার ও সীমিত দর্শকসংখ্যা নিয়ে কাজ করা নির্মাতাদের আরও বেশি সময় ধরে দর্শক তৈরি করতে হতে পারে।
কেন নিয়ম পরিবর্তন করছে ইউটিউব?
যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তনের বিষয়ে ইউটিউবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে নতুন নীতির ফলে বিজ্ঞাপন আয়ের অংশ পাওয়ার আগে নির্মাতাদের আরও বেশি দর্শক এবং ওয়াচ আওয়ার অর্জন করতে হবে।
ফলে আয় করার যোগ্যতা অর্জনের আগেই নির্মাতাদের বড় পরিসরে দর্শক তৈরি এবং নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হতে পারে।
নতুন এই শর্তের কারণে অন্যান্য ভিডিও এবং কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মও নতুন নির্মাতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। ইউটিউবের পাশাপাশি মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে দর্শক তৈরির দিকে নতুন নির্মাতারা আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসে সামান্য হ্রাসের পর আগস্টে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি পুনরায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগস্ট মাসে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৯১৫ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৮২ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে, দুই মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৩ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমেছিল। তবে আগস্টে রপ্তানি ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে জুলাইয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাজ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যার মাসিক গড় ছিল ৩৬৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় গত অর্থবছরের মাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। মাত্র দুই মাসে গত অর্থবছরের পুরো বছরের রপ্তানি আয়ের ২০ দশমিক ৮৬ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি মূলত অর্থবছরের শুরুতে যুক্তরাজ্যের বাজারে সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।
যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই এই বাজারে রপ্তানি আয় বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক তৈরি পোশাক রপ্তানিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তর-আটলান্টিক সাগরে উদ্ভূত শক্তিশালী নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘নর’ইস্টার’ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবল বর্ষণ, তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং আকস্মিক বন্যার কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঝড়টি সাগর থেকে উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে মাইন পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের প্রায় ১৪টি অঙ্গরাজ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভেনিয়া।
ঝড়ের আঘাতের পর থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এসব অঞ্চলের ১ লাখ ১৯ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চারটি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটিতে অন্তত ২৫ হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর। ঝড় ও খারাপ দৃশ্যমানতার কারণে পূর্ব উপকূলের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক বার্তা জারি করে জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এই নর’ইস্টারের প্রভাব বজায় থাকবে। এ সময়ে উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রে বিপজ্জনক রিটার্ন স্রোত, তীব্র দমকা হাওয়া এবং টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইতালির সিসিলি দ্বীপে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইউরোপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট এতনা। আগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রায় ৪ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে যায়। এর প্রভাবে সিসিলির কাতানিয়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি (আইএনজিভি) জানায়, মাউন্ট এতনা থেকে নির্গত আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে বিমান চলাচলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে আকাশসীমার সি-১ সেক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতির কারণে কাতানিয়া বিমানবন্দরে আগমনকারী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি ঘণ্টায় ১২টির পরিবর্তে সর্বোচ্চ চারটি ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল।
ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি স্থগিত হওয়ার আগে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। আইটিএ এয়ারওয়েজের অন্তত ১০টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ফ্লাইট পালের্মো, তিনটি ত্রাপানি এবং দুটি কোমিসোর দিকে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া ভোলোতিয়া এয়ারের একটি ফ্লাইটও কোমিসো বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে বিমান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাউন্ট এতনা ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি এবং সিসিলির পূর্বাঞ্চলে এর অবস্থান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ