০৪:৫৬ পি.এম
মুহাম্মদ আমিনুল হক
সুনামগঞ্জ, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ছাতক উপজেলা, সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এখানে শিল্প ও খনিজ সম্পদের পাশাপাশি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক, শিল্পীসহ অনেক গুণীজন জন্মগ্রহণ করেছেন, যারা দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছেন।
বাংলার মরমী সংগীতের আকাশে যেসব নাম আলো ছড়ায়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাউল সাধক দুর্বিন শাহ। তিনি ১৯২০ সালের ২ নভেম্বর ছাতক উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ
দুর্বিন শাহ শুধু একজন গীতিকার বা বাউলশিল্পী নন, তিনি ছিলেন মরমী দর্শন, আধ্যাত্মিক চিন্তা ও মানবপ্রেমের এক সাধক। তাঁর গানের কথায় জীবন, মৃত্যু, স্রষ্টার সন্ধান, আত্মার পরিচয় এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ফুটে উঠেছে।
‘প্রেমশেল বিন্দিল বুকে মরি সে ব্যথায়, আমার অন্তরায় আমার কলিজায়/নির্জন যমুনার কূলে বসিয়া কদম্বতলে, বাজায় বাঁশি বন্ধু শ্যামরায়/ বন্ধু যদি হইত নদীর জল, পিপাসাতে পান করিয়া পোড়া প্রাণ করতাম শীতল।’
কালজয়ী গানগুলোর স্রষ্টা মরমী সাধক দুর্বিন শাহকে ‘জ্ঞানের সাগর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। আজ, তাঁর জন্মদিনে, ‘জ্ঞানের সাগর’ খ্যাত মরমী গীতিকবি, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাউল সাধক দুর্বিন শাহের জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছে। তিনি সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন। দুর্বিন শাহের পিতা সফাত আলি শাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন একজন পীরানী (পীর)। এই কারণে, দুর্বিন শাহ সঙ্গীতচর্চার ক্ষেত্রে পারিবারিক ঐতিহ্যে বেড়ে উঠেছেন।
তাঁর রচিত অধিকাংশ গানে সুফি ও মরমীবাদ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, তবে তিনি বিভিন্ন মেজাজের অসংখ্য গানও লিখেছেন। শ্রেণি বিভাজন করলে এসব গানগুলোকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী, হামদ-নাত, মারফতি, পীর-মুর্শিদ স্মরণ, আল্লাহকে স্মরণ, নবী স্মরণ, ওলি আউলিয়াকে স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব এবং দেশের গান বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এছাড়াও, বিবিধ শিরোনামে তাঁর রচিত আরো বিভিন্ন পদাবলী চিহ্নিত করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বাউল সাধক দুর্বিন শাহ ১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। তাঁর সফর সঙ্গী ছিলেন বাউল সাধক শাহ আব্দুল করিম। সেখানে দুর্বিন শাহের গানের কথা ও সুরে বিমোহিত হয়ে সঙ্গীত প্রেমীরা তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সাত বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান।
১৯৪৬ সালে সুরফা বেগমের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁর রচিত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হল-নির্জন যমুনার কূলে বসিয়া কদম্বতলে, আমার অন্তরায় আমার কলিজায়, সুখের নিশি প্রভাত হলো উদয় দিনমণি, শমন লইয়া পিয়ন খাড়া আর কত দিন দেরি, ছাড়িয়া যাইও না বন্ধু রে, পরদেশীরে দূর বিদেশে ঘর, নব যৌবন আষাঢ় মাসে, তোমার মতো দরদী কেউ নাই, বন্ধু যদি হইতো নদীর জল। বিখ্যাত এ বাউল সাধক ৫৭ বছর বয়সে ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ৩ ফাল্গুন, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাবেল বাসসকে জানিয়েছেন, ‘জ্ঞানের সাগর’ মরমী গীতিকবি, বাউল সাধক দুর্বিন শাহ’র ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হবে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে একাডেমিক নিরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন