ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভেজাল পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ


ভেজাল পচা দই-মিষ্টির সিরায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট-সন্দেশ

দেশের বাজার ভেজাল শিশুখাদ্যে সয়লাব হয়ে গেছে। জেলি, জুস ও আইস ললি তৈরিতে কৃত্রিম রং, ফ্লেভার এবং রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। চকলেট-সন্দেশ তৈরিতে আরও ভয়াবহ উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দইয়ের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য এসব খাবার। সময় সংবাদে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে শিশুখাদ্য তৈরির এমন ভয়ংকর চিত্র।

সময় সংবাদ যখন উপস্থিতি টের পায়, তখন অধিকাংশ কারখানার ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। তবে কৌশলে রূপগঞ্জের একটি কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে সময় সংবাদ। প্রবেশের সময় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা সরে গেছেন। পুরো কারখানায় ফলের কোনো অস্তিত্ব নেই। অথচ এখানে আম, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের জেলি, জুস ও আইস ললি তৈরি করা হয়।

ক্যামেরায় এসব খাবার তৈরিতে রাসায়নিক উপাদান ও ক্ষতিকর রং ব্যবহারের চিত্র ধরা পড়ে। কারখানার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি জানান, তারা আসল ফলের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে শিশুখাদ্য তৈরি করেন।

আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ

কারখানার ভেতরের আরেকটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায় আরও ভয়াবহ চিত্র। সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচা পণ্য ও ময়লা-আবর্জনা। সেখান থেকেই জেলি বের করছেন কয়েকজন। পরে এসব জেলি আবার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে।

সাভারের আরেকটি কারখানায় শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ তৈরি হচ্ছে। সেখানে অসংখ্য ড্রামে জমিয়ে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগের পচা মিষ্টির সিরা। সেই সিরা দিয়েই তৈরি হচ্ছে শিশুদের জন্য সন্দেশ, যা কয়েক দিনের মধ্যেই বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

প্যাকেটের গায়ে দুধ, চিনি ও বিভিন্ন উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও ড্রামগুলোতে রয়েছে শুধু মিষ্টির সিরা ও পচা দই। এর মধ্যে মরে পচে আছে মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়। এসব উপাদান গরম করেই তৈরি করা হচ্ছে সন্দেশ ও চকলেট। কারখানার পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। চারদিকে দুর্গন্ধে টেকা দায়।

মিষ্টির সিরা ও ফ্লেভার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে কারখানার এক কর্মচারী জানান, তারা মিষ্টির দোকান থেকে ফেলে দেয়া মিষ্টির সিরা সংগ্রহ করে আটা দিয়ে জ্বাল দেন। এতে মিষ্টির স্বাদ ও ফ্লেভার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

এরপর কারখানার মালিক পরিচয়ে দুই জন ব্যক্তি সময় সংবাদের সামনে হাজির হন। তারা জানান, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নয়, বরং টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমনকি টাকা দিয়ে সময় সংবাদকেও সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন তারা। তাদের একজন বলেন, ‘কিছু টাকা-পয়সা দেই। গরিব মানুষ, অনেক কষ্ট করি। ওই নিউজটা করে আমাদের ক্ষতি করবেন না।’

শুধু একটি বা দুটি কারখানা নয়, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় তৈরি হচ্ছে এমন ক্ষতিকর শিশুখাদ্য। এসব কারখানায় তৈরি পণ্যের গন্তব্য পুরান ঢাকার চকবাজার। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে এসব খাবার।

এ বিষয়ে মুদি দোকানিরা বলছেন, তারা বিক্রি বন্ধ করলেও অন্য দোকানে এসব পণ্য বিক্রি হবে। একজন দোকানি বলেন, ‘আমি যদি না বিক্রি করি, দেখা যাবে আমার পরিবর্তে আরেকটা দোকান বিক্রি করবে। বাংলাদেশে জন্মলগ্ন থেকেই এসব চলছে, এর কী হবে? এসব জিনিস বিক্রি করলেও আমি আমার বাচ্চাকে খাওয়াই না।’

দেশের শিশুখাদ্যের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী করছে, তা জানতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হয় সময় সংবাদ। তবে তাদের বক্তব্যে হতাশার চিত্র উঠে আসে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে একাডেমিক নিরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ‘ভেজালবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করছি। তারপরও এসব কমছে না। এর মূল কারণ তাদের অসততা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করি, তাদের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

উৎপাদন থেকে শুরু করে বিক্রি-সবই চলছে প্রকাশ্যে। অথচ এসব বন্ধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শিশুদের জন্য তৈরি খাবারেই যখন বিষাক্ত ও পচা উপাদান ব্যবহার হচ্ছে, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে-সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


মাতারবাড়ীতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে অব্যবহৃত জমিতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নজমুল হক।

তিনি উল্লেখ করেন, মাতারবাড়ীর ২×৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে অব্যবহৃত ১৭১ একর জমিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার জন্য প্রস্তুত করা খসড়া ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ৬০৪ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫৩২ কোটি ৩৯ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯ কোটি ৭১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা প্রস্তাবিত প্রকল্পটিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি সুবিধা কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে। এই কাঠামোর অধীনে ৩৫ কোটি ইউরো ঋণ এবং ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো অনুদান সহায়তা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রকল্পটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা মিলবে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ শুরুতে ছাই সংরক্ষণের জন্য প্রায় ৬৩০ একর জমি বরাদ্দ করেছিল। সেখানে মাত্র ১০৫ একর জমিতে ছাইয়ের পুকুর নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বাকি ৫২৫ একর জমি অব্যবহৃত রয়েছে।

প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি ছাই সংরক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা ওই অব্যবহৃত জমির একটি অংশে স্থাপন করা হবে। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

প্রকল্পের বিবরণে বলা হয়েছে, ছাইয়ের পুকুরের চারপাশে বিদ্যমান ১৪ মিটার উঁচু বাঁধ থাকায় নতুন করে সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণেরও প্রয়োজন হবে না। প্রকল্পের আওতায় সৌর ফটোভোলটাইক (পিভি) মডিউল, ইনভার্টার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে নিকটবর্তী মাতারবাড়ী ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করতে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ১৩২ কেভি ওভারহেড সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া মাতারবাড়ী ও চকরিয়া ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের মধ্যে ১৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় সার্কিটের ওভারহেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে। মাতারবাড়ীতে তিনটি এবং চকরিয়ায় একটিসহ মোট চারটি ১৩২ কেভি এয়ার ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার (এআইএস) বে নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আশা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান আমদানি করা সরঞ্জাম দ্রুত খালাস ও পরিবহনে সহায়ক হবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সম্পন্ন সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রাথমিকভাবে বিবেচিত ৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষমতা বাড়িয়ে ৭০ মেগাওয়াট করার সুপারিশ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম প্রধান মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, প্রকল্পের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে প্রাক-প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

সব মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই এবং আধুনিক জ্বালানির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ৭ নম্বর লক্ষ্যের সঙ্গে প্রকল্পটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৪ দশমিক ৫৪ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

তবে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার আগে আলোচনার জন্য কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে পরিকল্পনা কমিশন। এরমধ্যে রয়েছে একই ধরনের চলমান বা সম্পন্ন প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করে প্রধান সরঞ্জামের প্রস্তাবিত মূল্যের বিশ্লেষণ, প্রস্তাবিত অর্থায়ন কাঠামোর বিষয়ে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমোদন গ্রহণ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানো।

কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত বলে মনে হলেও সিপিজিসিবিএল মোট ব্যয়ের মাত্র ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ বা প্রায় ২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা নিজস্ব অর্থায়নের প্রস্তাব করেছে।

পিইসি সভায় সৌর পিভি মডিউল ও ইনভার্টারের গুণগত মান এবং প্রচলিত বাজারদরও পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া যানবাহন, অফিস সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের জন্য ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের যৌক্তিকতা এবং মোটরসাইকেলের সংখ্যা ‘লট’ হিসেবে উল্লেখ না করে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়ার বিষয়টিও পরীক্ষা করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বাস্তবায়নকারী সংস্থার কাছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা এবং বিদ্যমান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছে। সংস্থা ও অবস্থানভিত্তিক তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন ও অননুমোদিত প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কোনাবাড়ীতে পুলিশের বক্সে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কোনাবাড়ীতে পুলিশের বক্সে আগুন

গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ ও অবরোধে নেমেছেন, যার ফলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা কোনাবাড়ীতে একটি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও অবরোধ শুরু করেন। পরে কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সকালে সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই সময় তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান করছেন, যার ফলে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া জানিয়েছেন, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বিজিবি সদস্যের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া জানা যায়, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করে আসছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালে হারের পর শ্রীলঙ্কার জন্য আরেক দুঃসংবাদ, জরিমানা আইসিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ফাইনালে হারের পর শ্রীলঙ্কার জন্য আরেক দুঃসংবাদ, জরিমানা আইসিসির

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের ধাক্কা কাটানোর আগেই শ্রীলঙ্কা নতুন একটি দুঃসংবাদ পেয়েছে। স্লো ওভার রেটের কারণে আইসিসি শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা আরোপ করেছে।

তবে, এই জরিমানা ফাইনালের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, বরং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত আগের ম্যাচে ধীরগতিতে ওভার শেষ করার জন্য দেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লাহোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক ওভার কম সম্পন্ন করেছিল।

এ কারণে এমিরেটস আইসিসি এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো দলটিকে জরিমানা করেছেন। আইসিসির আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে ব্যর্থ হলে প্রতি এক ওভার কম হওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়ে থাকে।

শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস এই অভিযোগ মেনে নিয়ে শাস্তি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আহসান রাজা ও শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ, তৃতীয় আম্পায়ার ওয়েন নাইটস এবং চতুর্থ আম্পায়ার নাসির হুসেইন স্লো ওভার রেটের অভিযোগ তুলেছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় ফেসবুকে অস্ত্রসহ ভিডিও: চার কিশোর আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


কুমিল্লায় ফেসবুকে অস্ত্রসহ ভিডিও: চার কিশোর আটক

কুমিল্লায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর সূত্রে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ভিডিওটিতে দেশীয় অস্ত্রসহ কিশোরদের একটি দলকে দেখা যায়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটকদের মধ্যে এসবিএস এবং সিটিজি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ রাতের অভিযানে তাদের আটক করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর দক্ষিণ মডেল থানার ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন টমছম ব্রিজ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে দেশীয় অস্ত্রসহ ৮ থেকে ১০ জনের একটি দলের অবস্থানের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা পুলিশের নজরে আসার পর সদর দক্ষিণ মডেল থানার একটি বিশেষ দল ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু করে।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%