মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২৮ এম
টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের জন্য আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো এবং গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায়।
মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’
তিনি জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।
দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।
উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আথর্-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট-দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করা।’
জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’
এর আগে বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
টোকিও, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেছেন।
আজ স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে অনুষ্ঠিত এই মধ্যাহ্নভোজে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমানও সেখানে ছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া তাঁরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
এর আগে কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর উভয়ে শীর্ষ বৈঠকে বসেন।
সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
‘বাবুই শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২৬’ জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শনিবার ২৪ অক্টোবর দিনব্যাপী এ উৎসবের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত তিন শতাধিক শিশুসাহিত্যিক, লেখক, কবি ও শিশুদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে একাডেমি প্রাঙ্গণ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক মনসুর মুসা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুসাহিত্যিক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অরুণ কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ছড়াকার জুলফিকার শাহাদাত এবং উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব কাদের বাবু সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে ছড়াকার আবু সালেহ উল্লেখ করেন, ‘শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেমন উন্মুক্ত মাঠ প্রয়োজন, তেমনি তাদের সুস্থ মনন গঠনে শৈশব থেকেই সাহিত্যের আস্বাদন অপরিহার্য।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা শিশুদের উপযোগী মানসম্মত ভাষা প্রয়োগ এবং বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুসাহিত্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি হাসান হাফিজ বলেন, ‘সাহিত্যের আলো ছাড়া মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব নয়; তাই সংবাদপত্র ও প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে শিশুসাহিত্য চর্চায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’ অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার প্রতি গুরুত্ব দেন অরুণ কুমার বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানের যুগ্ম-আহ্বায়ক খালেদুর রহমান জুয়েল ও বাচিকশিল্পী শাহারিয়া সিদ্দিকী সূচনার সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য: সংকট ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও শিশুসাহিত্যিক ইমরুল ইউসুফ।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিশুদের জন্য ছবি আঁকা এবং গল্প ও ছড়া লেখার সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মধ্যাহ্নবিরতির আগে দেশবরেণ্য ও তরুণ লেখকদের অংশগ্রহণে শিশুতোষ ছড়া ও কবিতা পাঠের আসর বসে। এছাড়া শিশুদের জন্য খায়রুননেসা রিমির মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনীও ছিল।
উৎসবের সমাপনী পর্বে সৃজনশীল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৪ জন লেখক ও সাহিত্যিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘বাবুই সেরা লেখক সম্মাননা ২০২৬’।
সম্মাননাপ্রাপ্ত ২৪ জন লেখক হলেন—জগলুল হায়দার, প্রিন্স আশরাফ, বিশ্বজিৎ দাস, রেজাউল করিম খোকন, রণজিৎ সরকার, খায়রুল বাবুই, আশিক মুস্তাফা, সফুরা খাতুন, আবুল কালাম আজাদ, আশরাফুজ্জামান বাবু, এনামূল হক পলাশ, কাজী তাহমিনা, তরুন ইউসুফ, সৈয়দা আঁখি হক, দীপ্তি সরকার, ফজলুল পলাশ, মুনীরুল ইসলাম, মিনহাজ ফয়সল, মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী, রকিবুল ইসলাম, অপু বড়ুয়া, আপন অপু, শাম্মী তুলতুল, সাফওয়ান সামি দৃক।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনার প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে, ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দুই জোটই দূরে অবস্থান করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) জানায়, ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এই চিত্র উঠে এসেছে।
টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইলের দুটি প্রধান আরব দল সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর ফলে, সরকার গঠনে এই দুটি দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ পাওয়া এই ফলাফল নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে না। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ ও মাস আগে প্রকাশিত প্রায় সব জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে আইজেনকোটের জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে, সেসব জরিপেও কোনো জোটের এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশটির প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো বুথফেরত জরিপ প্রকাশ করে। সেসব জরিপে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে দুই থেকে তিনটি আসনে এগিয়ে ছিল আইজেনকোটের জোট। রাতভর ভোট গণনা এবং বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, আইজেনকোটের জোটকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে নেতানিয়াহুর দল ও তার নেতৃত্বাধীন জোট। এতে বুথফেরত জরিপের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বুধবার রাত ৯টার কিছু পর দেয়া হালনাগাদ তথ্যে সিইসি জানায়, মোট ভোটের ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ গণনা শেষ হয়েছে। এতে প্রায় সব সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলাফল এখনো চূড়ান্ত না হলেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে এবারের ইসরাইলের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো। নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরাতে বিপুল সংখ্যক আরব ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে, ইহুদি দলগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া সব দলই আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছে।
সেনাসদস্য ও কূটনীতিকদের দেয়া ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার ভোট এখনো গণনা করা হয়নি। ফলে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দুই দিন লাগতে পারে, সংবাদ মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এরপর, যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করবেন, তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, সরকার গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত ইসরাইলে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
বুধবার জেরুজালেমে নিজের বাসভবনে এক বৈঠকে মঙ্গলবারের নির্বাচনে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। গত দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
তিনি বলেন, ‘এটি ইসরাইলি সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। ইসরাইলে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষা কতটা গভীর, তা দেখে বিস্মিত হয়েছি।’
হারজোগ আরও জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল হাতে পাওয়ার আশা করছেন। এরপর, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন।
তিনি বলেন, ‘গতকালের নির্বাচনের পর আমাদের অবশ্যই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে, যাতে আরেকটি নির্বাচন এড়ানো যায়। সবার কাছে আমার প্রত্যাশা, এখানে আলোচনায় আসা প্রত্যেকেই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’
যদিও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট দুজনই সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ইসরাইলের তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত প্রাথমিক বুথফেরত জরিপে গাদি আইজেনকোটের ‘চেঞ্জ ব্লক’ নেসেটে ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। এ ফলের পর আইজেনকোট বলেন, জনগণ ‘পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে’।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির নির্বাচনী সদর দফতরে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার জোট জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের রায়কে একটি জায়নবাদী সরকারে রূপ দিতে আমি আমার জোটসঙ্গীদের সঙ্গে কাজ করব।’
এদিকে জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির সদর দফতরে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তার ডানপন্থি জোট ‘বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ পেয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’ নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘জায়নবাদবিরোধী আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করে ইসরাইলকে বিপদের মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
সূত্র: বিবিসি, টাইমস অব ইসরাইল
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির সন্নিকটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন ছাত্রনেতারা। এ সময় ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল তাদের। সেই গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন এএফপির ঢাকা ব্যুরোর ফ্যাক্ট-চেক সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির। বর্তমানে তিনি দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, এএফপির ঢাকা ব্যুরোতে তার ডেস্ক থেকে মাত্র এক গজ দূরে বসে শিশির অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন হাতেগোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি। ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ স্থাপন এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেন শিশির নিজেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতা ছাড়ার সময় তখনও দুই দিন বাকি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে তার নিরাপত্তা বাহিনী পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি। শফিকুল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে কুখ্যাত ওই বাহিনী বিষয়টি জানতে পারলে শিশিরসহ এএফপির পুরো দলকে গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখার আশঙ্কা ছিল।
শফিকুল আলম আরও লেখেন, পুরো সময়জুড়ে শিশির অত্যন্ত শান্ত ও অবিচল থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি গোপনে ওই সময়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতেও শুরু করেছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ