মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০৯ পি.এম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে রওনা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী তেহরান ত্যাগ করার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরান তার অধিকার ও অবস্থান বিন্দুমাত্র ছাড় না দিয়ে দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘকালীন বিরোধ এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একটি কঠোর বার্তা প্রদান করেন। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি বলেন, "চাপ সৃষ্টি বা গায়ের জোর খাঁটিয়ে কোনো স্বাধীন জাতিকে কখনো দমিয়ে রাখা যায় না।"
এই সফরের সার্বিক বিষয় তদারকি করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যেই নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। তিনি সোমবার সেখানে পৌঁছান এবং জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে মূল প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্র: এবিসি নিউজ
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন রাস্তা নির্মাণের পর সেই রাস্তা কেটে নালা নির্মাণের আয়োজন, বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ দামে ডাস্টবিন কেনাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজ থেমে আছে, কোথাও নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আবার কোথাও যোগ্য ঠিকাদারকে বঞ্চিত করে বহিষ্কৃত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কাজ না করেও অনেক পরামর্শক বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন (আইইউজিআইপি)’ প্রকল্পের এই চিত্র, যা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রকল্পটি দেশের পৌরসভা ও শহর অঞ্চলে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নত করতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব অনিয়মের বিষয়ে নিউজ না করতে তদবির করা হয়েছে। প্রকল্পের উপপরিচালক ইমতিয়াজ জহিরুল হক এই প্রতিবেদককে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেন এবং জানান, প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমেদ তাকে দিতে বলেছেন। তবে প্রতিবেদক তা প্রত্যাখ্যান করেন (রেকর্ড সংরক্ষিত)।
জানা যায়, প্রকল্পটির ব্যয় ৬ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনায় নানা গলদ রয়েছে। সমন্বয়হীনতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার চৌগাছা এলাকায় দেখা গেছে। সেখানে সড়ক ও নালার কাজ আলাদা প্যাকেজে নেওয়া হয়। পরে নালা করতে গিয়ে দেখা যায়, জায়গা নেই। এখন সেই নতুন সড়ক কেটেই নালা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কাজ করতে গিয়ে অনুমোদন পেতেই কেটে গেছে কয়েক মাস। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রম নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। অডিট আপত্তিতে অস্বাভাবিক দামে নিম্নমানের ডাস্টবিন কেনা এবং যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই সেগুলোর বিল পরিশোধের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সরকারি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ টাকা। ক্রয় কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রকল্পে দুই ধরনের ডাস্টবিন কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ লিটারের ডাস্টবিন ২ লাখ ৫২ হাজারটি। প্রতিটির দাম ৬৮০ টাকা হিসাবে এতে ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১২০ লিটারের ডাস্টবিন কেনা হয়েছে ২৫ হাজার ২০০টি। প্রতিটির দাম ৬ হাজার ৮০০ টাকা, এতেও ব্যয় হয়েছে ১৭ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বাজারদর যাচাই করে দেখা গেছে, এসব ডাস্টবিনের প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় হয়েছে।
ঠিকাদার নিয়োগেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে এমন এক ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যিনি ওই সময় সরকারি কাজ থেকে বহিষ্কৃত ছিলেন। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫০ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৫ টাকা। পৃথক ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত না করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা।
এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করলেও অফিস ভাড়া দেয়নি। এতে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আয়কর না কাটায় ৩৮ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৭ টাকা ক্ষতি হয়েছে। পাঁচটি অডিট আপত্তিতে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা।
নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শুধু ক্রয় ও ঠিকাদার নির্বাচন নয়, মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজের মান নিয়েও একাধিক গলদ পাওয়া গেছে আইএমইডির প্রতিবেদনে। ৪০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সড়কের ঢাল ও বাঁকের উঁচু-নিচু ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এর ফলে যান চলাচলের নিরাপত্তা ও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নকশা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গলদ রয়েছে। জমিদখল ও জায়গাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিভিন্ন স্থানে নকশা পরিবর্তন করতে হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিরাপত্তাঝুঁকিও রয়েছে। কোথাও ফুটপাতের পাশে গভীর গর্ত থাকলেও নিরাপত্তাবেষ্টনী বা খুঁটি নেই। কোথাও পথের পাশে রেলিং না থাকায় পথচারী পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নালার গর্তের ঢাকনা নিরাপদ না হওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্মিত কিছু অংশ ভেঙে গেলেও তা মেরামত করা হয়নি। কোথাও ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় উন্মুক্ত নালা দুর্ঘটনা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতার শঙ্কা তৈরি করেছে। আবার কালীগঞ্জে নির্মাণবর্জ্য নালার সঙ্গে যুক্ত স্থানে ফেলে রাখায় নালার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার চিত্রও পাওয়া গেছে। সরকারের ইটের ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা ও অনুমোদিত কাজের পরিমাণ নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার সড়ক ও ৯০০ কিলোমিটার নালা নির্মাণের লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদিত প্রকল্পে সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭ দশমিক ৮১ কিলোমিটার এবং নালার পরিমাণ ৪৩৭ দশমিক ৮ কিলোমিটার। আবার প্রকল্পের যুক্তিকাঠামোতেও সড়ক ও নালার পরিমাণের ভিন্ন হিসাব রয়েছে। ফলে প্রকল্পের লক্ষ্য নির্ধারণ, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত কাজের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারিত হলো-সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। প্রকল্পের আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নিয়েও দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নারী ও পুরুষের প্রয়োজন বিবেচনায় অবকাঠামো নির্মাণ এবং দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় কার্যক্রমে অন্তত ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
অনিয়মের বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তোফায়েল আহমেদ বলেন, "অডিট আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোনো আপত্তি নিষ্পত্তি হয়নি। যাচাই প্রক্রিয়া চলমান আছে। আর কাজের ক্ষেত্রে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মাদ্রিদ ডার্বির পর রেফারিং নিয়ে মন্তব্য করার কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিও। তবে আপাতত পর্তুগিজ এই কোচের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। স্প্যানিশ রেফারিদের সংগঠন মরিনিওর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর রিপোর্ট অনুযায়ী, মরিনিওর মন্তব্যের পর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার বিষয়টি রেফারিদের সংগঠন বিবেচনা করেছিল। এ বিষয়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারি কমিটির (সিটিএ) আইনি বিভাগের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়। তবে সোমবারের বৈঠকের পর অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে ২-১ গোলে পরাজিত হয় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ শেষে মূল রেফারি মিগেল আনহেল ওর্তিস আরিয়াসের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মরিনিও। বিশেষ করে ভিএআর কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ত্রুহিয়ো সুয়ারেসের ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মরিনিওর অভিযোগ ছিল, আতলেতিকোর দুই খেলোয়াড় এমন অপরাধ করেছেন, যার জন্য লাল কার্ড প্রদানের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রেফারি তাদের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেননি। একই সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনার জন্য রেফারি ওর্তিস আরিয়াসের অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচ সামলানোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মরিনিও। ভিএআর কর্মকর্তা ত্রুহিয়োর পূর্ববর্তী একটি রিয়াল-সংশ্লিষ্ট ম্যাচের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
মরিনিওর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হলে সর্বোচ্চ চার ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জরিমানা হতে পারত। তবে রেফারিদের সংগঠন অভিযোগ না করার ফলে আপাতত সেই সম্ভাবনা থাকছে না।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদে নামাজ, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন এবং বিভিন্ন গণজমায়েতে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীতে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু আলোচনায় রয়েছেন। তিনি নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দল সংগঠিত করার কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন প্রত্যাশা করতে পারেন।
অন্যদিকে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা গত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু মন্তব্য করেন, "দল এবং দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।"
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, "আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।"
সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, "দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের কোনো লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে অনুযায়ী এগিয়ে যাব।"
২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট পেয়েছিলেন।
২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট পেয়েছিলেন।
২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার ২৯ হাজার ২৯ ভোট পেয়েছিলেন।
আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়েছিলেন। নিজাম উদ্দিন কায়সার ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট পেয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রযোজক ও অভিনেত্রী দিয়া মির্জা ২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন। প্রায় এক দশক পর তিনি প্রযোজনায় নাম লেখান। বলিউডের অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার এই যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না।
২০১৪ সালে, দিয়া মির্জা তার নিজস্ব প্রযোজনায় ‘ববি জাসুস’ সিনেমাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে তাকে নিজের প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রাখতে হয়। পাশাপাশি, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে, তিনি সেই ঋণের বোঝা মিটিয়ে নিজের বাড়ি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
নারীপ্রধান গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ববি জাসুস’ সিনেমাটির জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন বিদ্যা বালান। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগে, সিনেমাটির সব বিনিয়োগকারী সরে দাঁড়ান। ফলে, দিয়া মির্জা চরম বিপাকে পড়েন। পুরো প্রজেক্টটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
এমন অবস্থায়, দিয়া মির্জা হাল না ছেড়ে, কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখে ও ব্যাংকঋণ নিয়ে সিনেমার কাজ শুরু করেন। সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তবে, তিনি সিনেমাটি নিজের মনের মতো করে নির্মাণ করতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন। ব্যবসায়িক ক্ষতি সামলে, ধীরে ধীরে তিনি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন এবং বন্ধক রাখা বাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।
‘ববি জাসুস’ সিনেমাটি নির্মাণের সময়, নারী হওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও জানান দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর, অভিনয়ে কাজ পেতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পুরুষ অভিনেতা এই কাজ করলে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতেন, তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও একই সম্মান বজায় রাখা উচিত বলে জানান তিনি।
দিয়া বলেন, "আমি আমার প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী আমার সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। একটা টিমও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ