মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১২ পি.এম
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। মসজিদে নামাজ, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে, সামাজিক আন্দোলন এবং বিভিন্ন গণজমায়েতে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীতে নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুসারে, আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু আলোচনায় রয়েছেন। তিনি নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দল সংগঠিত করার কাজেও নিয়োজিত রয়েছেন।
মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়ন প্রত্যাশা করতে পারেন।
অন্যদিকে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা গত দুটি সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
কুমিল্লা সিটির প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু মন্তব্য করেন, "দল এবং দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকি। নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।"
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, "আমি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে নই। এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকিনি। অতীতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের মুখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আশা করি, দল ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে।"
সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, "দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছি। দলের জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিএনপির বাইরের কোনো লোক নই। আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সে অনুযায়ী এগিয়ে যাব।"
২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান ৩৬ হাজার ৪৭১ ভোট পেয়েছিলেন।
২০১৭ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা ৫৭ হাজার ৮৬৩ ভোট পেয়েছিলেন।
২০২২ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে নিজাম উদ্দিন কায়সার ২৯ হাজার ২৯ ভোট পেয়েছিলেন।
আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট পেয়েছিলেন। নিজাম উদ্দিন কায়সার ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট পেয়েছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রযোজক ও অভিনেত্রী দিয়া মির্জা ২০০১ সালে ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন। প্রায় এক দশক পর তিনি প্রযোজনায় নাম লেখান। বলিউডের অভিনেত্রী থেকে প্রযোজক হওয়ার এই যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না।
২০১৪ সালে, দিয়া মির্জা তার নিজস্ব প্রযোজনায় ‘ববি জাসুস’ সিনেমাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এই সিনেমাটি নির্মাণ করতে গিয়ে তাকে নিজের প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রাখতে হয়। পাশাপাশি, ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। তবে বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে, তিনি সেই ঋণের বোঝা মিটিয়ে নিজের বাড়ি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
নারীপ্রধান গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ববি জাসুস’ সিনেমাটির জন্য অভিনয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন বিদ্যা বালান। কিন্তু শুটিং শুরুর ঠিক আগে, সিনেমাটির সব বিনিয়োগকারী সরে দাঁড়ান। ফলে, দিয়া মির্জা চরম বিপাকে পড়েন। পুরো প্রজেক্টটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।
এমন অবস্থায়, দিয়া মির্জা হাল না ছেড়ে, কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখে ও ব্যাংকঋণ নিয়ে সিনেমার কাজ শুরু করেন। সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। তবে, তিনি সিনেমাটি নিজের মনের মতো করে নির্মাণ করতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন। ব্যবসায়িক ক্ষতি সামলে, ধীরে ধীরে তিনি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেন এবং বন্ধক রাখা বাড়িটি ছাড়িয়ে নেন।
‘ববি জাসুস’ সিনেমাটি নির্মাণের সময়, নারী হওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেও জানান দিয়া মির্জা। তিনি বলেন, প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর, অভিনয়ে কাজ পেতে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পুরুষ অভিনেতা এই কাজ করলে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেতেন, তাই নারী অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রেও একই সম্মান বজায় রাখা উচিত বলে জানান তিনি।
দিয়া বলেন, "আমি আমার প্রথম কেনা বাড়িটি বন্ধক রেখেছিলাম। যে গল্পটা বলতে চেয়েছিলাম, সেটি লেখা হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যা বালানের মতো অসাধারণ একজন শিল্পী আমার সিনেমায় অভিনয় করতে রাজি হয়েছিলেন। একটা টিমও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ বিনিয়োগকারীরা সরে গেলেন।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে উন্নত করার জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।"
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
মন্ত্রী আরও বলেন, "গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।"
মন্ত্রী বলেন, "দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।"
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে মন্তব্য করেছেন যে, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাস কেনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপনে এয়ারবাসের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রায় ৫০ শতাংশ ইউরোপে রপ্তানি হয়, তাই ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য একটি বড় স্বার্থের বিষয়।
মঙ্গলবার ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ডিক্যাব টকে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপ উদ্বিগ্ন নয়। ফ্রান্স কিংবা ইউরোপ কোনো চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কের পক্ষে নয়। বরং, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইউরোপ সত্যিকার অর্থে একটি আস্থাশীল অংশীদার হতে চায়। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য এয়ারবাসের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, "এয়ারবাস বিক্রিকে ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে তুলে ধরে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেন এটা ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?" তিনি আরও বলেন, ১০টি উড়োজাহাজ বড় চুক্তি নয়, কিন্তু এটি আমাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ইউরোপীয়দের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বে যাওয়ার জন্য আলোচনায় যুক্ত হতে আগ্রহী।
এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে আগ্রহী হওয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, "এটা এমন নয় যে, শুধু এয়ারবাস বিক্রি করলাম, এরপর সব শেষ; এটি আসলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বে যুক্ত হওয়ার বিষয়।"
রাষ্ট্রদূত ইউরোপকে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমেরিকায় ১৭ শতাংশের বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৪৮ শতাংশ ইউরোপে যায়। যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করলে এই অনুপাত আরও বাড়ে। সুতরাং, ইউরোপ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান অংশীদার। তিনি বলেন, "আমরা যখন বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে আলাপ করি, তখন কেবল একটি বিষয়ই স্মরণ করিয়ে দিই যে, আমাদের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে অংশীদারিত্বের গড়ে তোলা।"
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানের জন্য উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চলছিল। বিলিয়ন ডলারের এই ব্যবসা মার্কিন জায়ান্ট বোয়িং না ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছে যাবে, তা নিয়ে তখন থেকেই টানাহেঁচড়া চলছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার শেষ দিকে এসে এয়ারবাসের পক্ষে ঝুঁকেছিল এবং তৎকালীন বিমানমন্ত্রী মাহাবুব আলী এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে ৫ আগস্টের পালাবদলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও সিয়াটলের পথে হেঁটেছে এবং দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মাথায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি করে।
তবে সেই চুক্তির পরেও এয়ারবাসের কর্মকর্তারা দৃশ্যত হাল ছাড়েননি। তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলোচনা কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা তুলে ধরে বলেন, "মিশ্র বহরের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভালো ‘কারিগরি কারণে’ বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, ‘রাজনৈতিক কারণে নয়’।" তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু বিমান সংস্থা এয়ারবাসকে গ্রহণ করেছে, বিমানের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "কয়েক বছর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কারিগরি মূল্যায়ন ও গুরুত্বভেদে আলোচনার পর এয়ারবাস কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, বিমান বাংলাদেশের বহরে এয়ারবাস থাকা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সুবিধাজনক ছিল।
তিনি বলেন, "বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থা দুই ধরনের উড়োজাহাজ তাদের বহরে রাখে। তাদের এয়ারবাসও থাকে, আবার বোয়িংও থাকে।" ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেন, কাউকে কোনো একটি একক কোম্পানির ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না। দুটির সুবিধা তুলনা করে বেছে নেওয়া যায়।
তিনি উদাহরণ দেন, "এমন একটি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা ঢাকা থেকে কোনো বিরতি ছাড়াই সরাসরি আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। এবং সেটি বোয়িং নয়, সেটি এয়ারবাস।" তিনি বলেন, "বিশ্বে শুধু এই একটি উড়োজাহাজ তা করতে সক্ষম। তাই অনেক যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারবাসকে বেছে নিয়েছিল, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়।"
জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, "দেখলেই বোঝা যাবে, বিশ্বের কত শত বিমান সংস্থা এয়ারবাস ব্যবহার করছে। তাই বিমানের এই সিদ্ধান্তে কোনো সন্দেহ বা ভুল ছিল না।" তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কিছু উড়োজাহাজ বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের দিকে সরবরাহ করা হবে। এটি তাদের বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনও এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে। এ নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপ কখনও বলে না, ‘আমাদের’ এবং ‘তাদের’ মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নাও। তিনি বলেন, "আমি শুরুতে যেভাবে বলেছি, আমরা অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। অংশীদারত্ব মানে বাদ দেওয়া নয়, অন্তর্ভুক্তি।" তিনি যোগ করেন, "আপনি যদি না চান, আপনার যদি মনে হয় এফটিএ নিয়ে আগানো ভালো কিছু হবে না, এটা আপনার সিদ্ধান্ত।" রাষ্ট্রদূত বলেন, "হয়ত, ইউরোপীয় দেশগুলোও সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে, তারা এফটিএ চায় না, এটা তাদের সিদ্ধান্ত।" সুতরাং, ঢাকা ইউরোপ কী বার্তা পাঠাচ্ছে, সেটি গুরুত্ব বহন করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ দেশের মুদ্রায় ২৫ হাজার ৩৭৪ কোটি ৯০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরিফ হোসেন জানান, সোমবার প্রবাসী আয় হিসেবে ৮৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার পরিমাণ এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২০৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এক দশমিক ৬০ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৭৮৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ