বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের জীবনে যেকোনো সময় আইনি সমস্যা দেখা দিতে পারে। অভিবাসন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, নাগরিকত্ব, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক, গাড়ি চালানো বা ট্রাফিক মামলা, সড়ক দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ফৌজদারি মামলা, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যবসায়িক জটিলতায় একজন যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব, জরুরি পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা না করে, নিজের ফোনে কয়েকজন আইনজীবী বা আইন প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখা উপকারী হতে পারে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথা মাথায় রেখে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী মানুষের সঙ্গে কাজ করা কিছু আইনজীবী ও আইন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য যোগাযোগ তথ্য তুলে ধরা হলো। এটি কোনো আইনজীবীর দক্ষতা, সেবা বা মামলার ফলাফলের র্যাংকিং নয়। যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বর্তমান অনুমতিপত্র, কোন ধরনের মামলা তিনি নেন এবং আপনার অঙ্গরাজ্যে আইনচর্চার অনুমতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
নিউইয়র্ক
নিউইয়র্কে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী মওমিতা রহমানের আইন প্রতিষ্ঠানের অফিস নম্বর ২১২-২৪৮-৭৯০৭। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলায় সেবা প্রদান করেন এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন।
আইনজীবী নাসরিন মোজ্নুরের ব্রঙ্কস কার্যালয়ের ফোন ৭১৮-৫১৮-০৪৭০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯।
আইনজীবী মীর এম. মিজানুর রহমানের ম্যানহাটন কার্যালয়ের ফোন ২১২-৭৩২-২২২০, বিকল্প নম্বর ৯১৭-৬২২-৭৯৬৯। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব কার্যালয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি সেবা প্রদান করে।
নিউইয়র্কের আরেকটি বাংলাদেশিকেন্দ্রিক আইন প্রতিষ্ঠান খায়রুল বাশার আইন-এর অফিস নম্বর ২১২-৪৬৪-৮৬২০ এবং ৭১৮-৭৭৫-৮৫০৯। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা অভিবাসন, পারিবারিক অভিবাসন, নাগরিকত্ব, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক, জামিনসহ বিভিন্ন অভিবাসন মামলা নিয়ে কাজ করে।
জ্যাকসন হাইটসের রুমা জুননাতুল আইন কার্যালয়ের প্রকাশিত ফোন নম্বর ৫১৬-৫৪৯-৬৭০৭ এবং ৭১৮-৪২৭-১২৩৩। প্রতিষ্ঠানটি অভিবাসন ও দেওয়ানি মামলা পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এবং বাংলায় সহায়তার কথা জানিয়েছে।
জর্জিয়া
আটলান্টা মহানগর এলাকায় মনির মেহরান আইন প্রতিষ্ঠানের ডোরাভিল কার্যালয়ের ফোন ৪৭০-৮০০-৯২১৩।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গ্রাহকদের অভিবাসনসংক্রান্ত সেবা প্রদান করে। তবে ব্যক্তিগত আঘাতসংক্রান্ত মামলা জর্জিয়াকেন্দ্রিক এবং অন্য অঙ্গরাজ্যের আইনচর্চার ক্ষেত্রে অনুমতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই ফোন করার সময় নিজের মামলার ধরন ও অঙ্গরাজ্যের নাম স্পষ্টভাবে জানানো উচিত।
মিশিগান
হ্যামট্রামকে আইনজীবী রুহুল এম. মুমেনের কার্যালয়ের ফোন ৩১৩-৮৯৩-২৫০০। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে সেবা প্রদান করেন। গাড়ি দুর্ঘটনা, ব্যক্তিগত আঘাত, ফৌজদারি মামলার প্রতিরক্ষা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে আইনজীবী জুবাইদা ইকবালের প্রকাশ্য যোগাযোগ নম্বর ৪০৭-৯৩০-১৫৫২। ফ্লোরিডা বার-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবী। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলা তিনি গ্রহণ করছেন কি না, তা আগে ফোন করে নিশ্চিত করা উচিত।
টেক্সাস
হিউস্টনে আইনজীবী মনিকা উদ্দিন আহমাদ জাভিতসানোস ও মেনসিং আইন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেন। টেক্সাসের ফেডারেল আদালতের আইনজীবী সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অফিসের ফোন ৭১৩-৬০০-৪৯১৩ এবং হিউস্টন কার্যালয়ের ঠিকানা ১২২১ ম্যাককিনি স্ট্রিট, স্যুট ২৫০০।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান এবং বাংলায় কথা বলেন। তার মূল আইনচর্চা বাণিজ্যিক মামলা ও ব্যবসায়িক বিরোধকেন্দ্রিক। তাই অভিবাসন বা ব্যক্তিগত মামলার জন্য যোগাযোগের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তিনি গ্রহণ করেন কি না জেনে নেওয়া উচিত।
ক্যালিফোর্নিয়া
লস অ্যাঞ্জেলেসে আইনজীবী ওমর এইচ. বেঙ্গালির কার্যালয় গিরার্ড বেঙ্গালি আইন প্রতিষ্ঠান। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী নিবন্ধনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার অনুমতিপত্র সক্রিয়। কার্যালয়ের ফোন ৩২৩-৩০২-৮৩০০।
কার্যালয়ের ঠিকানা ৩৫৫ সাউথ গ্র্যান্ড অ্যাভিনিউ, স্যুট ২৪৫০, লস অ্যাঞ্জেলেস। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যায় যোগাযোগের আগে তার প্রতিষ্ঠান সেই ধরনের মামলা নেয় কি না নিশ্চিত করা উচিত।
ওয়াশিংটন
সিয়াটলে আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসনের ওয়াটসন অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠানের ফোন ২০৬-২৯২-৫২৩৭।
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী নিবন্ধনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার অনুমতিপত্র সক্রিয় এবং আইনচর্চার প্রধান ক্ষেত্র অভিবাসন। একই তথ্য অনুযায়ী, বাংলা তার জানা ভাষার একটি।
অভিবাসন, বহিষ্কার ঠেকানোর মামলা, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি, নাগরিকত্ব, পারিবারিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাসহ বিভিন্ন অভিবাসন বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠান কাজ করে।
মিশিগানে আরও একজন
মিশিগানে আইনজীবী মঈন চৌধুরীর কার্যালয়ের প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বর ১-৮৬৬-৬৬৪-৬৫২৯ এবং সরাসরি নম্বর ৯১৭-২৮২-৯২৫৬।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে আইনচর্চার অনুমতি পেয়েছেন। নিউইয়র্কে তার কাজ অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়ে সীমিত। অন্য অঙ্গরাজ্যের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে কাজ করার তথ্যও তার কার্যালয় জানিয়েছে।
ইমিগ্রেশন মামলায় কাকে আইনজীবী ভাববেন?
অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নোটারি, কাগজপত্র প্রস্তুতকারী, ভিসা পরামর্শদাতা বা সাধারণ অভিবাসন পরামর্শদাতাকে আইনজীবী ধরে নেওয়া উচিত নয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, অভিবাসন আদালত ও অভিবাসন আপিল বোর্ডের সামনে সাধারণত বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত আইনজীবী অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধিই আইনগতভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। নোটারি, ভিসা পরামর্শদাতা ও অভিবাসন পরামর্শদাতারা সেখানে আইনগত প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না।
কম খরচে আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের তালিকাও মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু বিনা খরচে বা কম খরচে আইনি সহায়তা দিতে পারে। তবে তালিকায় থাকা কোনো আইনজীবী বা প্রতিষ্ঠানকে বিচার বিভাগ ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করে না।
নম্বর রাখলেই হবে না, আগে যাচাই করুন
প্রবাসীদের জন্য জরুরি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কয়েকজন আইনজীবীর নম্বর ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনে নম্বরটি চালু আছে কি না, কার্যালয় কী ধরনের মামলা নেয়, জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে যোগাযোগ করতে হয় এবং প্রথম পরামর্শের জন্য কোনো ফি আছে কি না—এসব আগে জেনে নেওয়া ভালো।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, প্রকাশ্যে থাকা ফোন নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে এবং কোনো আইনজীবী সব ধরনের মামলা নাও নিতে পারেন। তাই আইনি সমস্যায় পড়লে নিজের অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি নিবন্ধন থেকে আইনজীবীর বর্তমান অবস্থান ও অনুমতিপত্র যাচাই করা নিরাপদ।
এই তালিকার উদ্দেশ্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া নয়। জরুরি সময়ে প্রবাসীরা যেন দ্রুত আইনি সহায়তার যোগাযোগ খুঁজে পেতে পারেন, সেই প্রস্তুতির কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে পাস করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় তার মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল। নম্বরটি পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর চোখে পড়ে যখন তিনি খাতা দেখতে যান। এরপর, ১৪ আগস্ট সকালে, তিনি ফোন করে পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন। পরীক্ষার্থী গিয়ে দেখে, তার প্রাপ্ত নম্বর ২৫। পরে, ২ হাজার টাকায় রফাদফার মাধ্যমে পরীক্ষক তাকে খাতায় লিখতে দেন। লেখার পর তার নম্বর হয়ে যায় ৫০।
পরীক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায় অবস্থিত আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। মানবিক বিভাগ থেকে তিনি এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। মেহেদী পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
মেহেদী হাসান সেদিন রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুকে নিয়ে পরীক্ষকের বাসায় গেলেও তার পরিচয় জানাতে পারেননি। তবে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সেকেন্দার আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়।
মেহেদীর মোবাইলে পরীক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতে নিষেধ করেন। মেহেদী বলেন, "টাকা নিতে হলে তো অভিভাবককে জানাতে হবে।" পরীক্ষক তখন বলেন, "একজন ভিক্ষুকের কাছেও ২-১০-২০ হাজার টাকা থাকে।"
মেহেদী জবাব দেন, "স্যার তো বুঝতে পারছেন, আমরা তো বেকার ছেলে, ভিক্ষুক না। ভিক্ষুকের কাছে তো টাকা থাকবেই, আমরা তো বেকার।" পরীক্ষক তখন বলেন, "না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো।"
পরে, ১৪ আগস্ট সকালে, মেহেদী, ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামিসহ ছয়জন রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে যায়। কিছুক্ষণ পর, পরীক্ষক একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তাদের সঙ্গে আসে। এরপর তারা পরীক্ষকের বাড়িতে যায় এবং খাতা বের করে দেন। মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদেরও খাতা পাওয়া যায়নি।
দুপুরে, মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেলে প্রায় ১০ মিনিটে পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছান। কিন্তু জায়গাটি তিনি চেনেন না। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের বিনোদপুরে রেখে যান।
মেহেদী জানান, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি এবং তার মোবাইল থেকে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। মেহেদী বলেন, "আমার খাতায় ২৫ মার্ক ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছে। খাতায় লিখতে দিল। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।" এখন তার নম্বর কত হবে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, "৫০ প্লাস হবে।"
পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএ থেকে জানা যায়, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি তিনি অনেক আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এভাবে গাড়িটি তিন হাত বদল হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম সেন্টুকে পাওয়া যায়। তিনিই বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিক। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয়। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। ৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই ওই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে ছবি দেখাতেই তিনি প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তার বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।
সেদিন বিকেলে বাড়িতে সেকেন্দার আলীকে পাওয়া যায়। ফোনকল রেকর্ড এবং ছবি দেখানো হলেও তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে লেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি জানেন যে সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন। কিন্তু তিনি এমন কাজ করেন, তা তিনি জানতেন না। শিক্ষা বোর্ড যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে বলে, তাহলে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
এ ছাড়া মেহেদীর সঙ্গে এই প্রভাষকের কথোপকথনের রেকর্ড শুনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, "এমন হলে এটা তো খুবই ভয়াবহ ঘটনা। আমরা এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার বাবা ফজলুল হক মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর খবরটি নিজেই জানিয়েছেন সালমা।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, "আমার আব্বা আর নেই।"
বাবার আকস্মিক মৃত্যুর ফলে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে ফজলুল হকের মৃত্যুর কারণ, জানাজা ও দাফনের সময় ও স্থান সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন সালমা। সম্প্রতি তিনি ফ্যাশন ডিজাইনার ও সংগীতশিল্পী বিপ্লব সাহার সঙ্গে ‘প্রেম লীলা’ শিরোনামের একটি দ্বৈত গান প্রকাশ করেছেন। এই গানটি আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও ভালোবাসার গল্প নিয়ে নির্মিত এবং এর ভিডিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এ ছাড়া, সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ বিরতির পর গুরু শফি মণ্ডলের লেখা ও সুরে ‘কুঞ্জে আর ভালো লাগে না বন্ধু বিহনে’ শিরোনামের একটি লালনগীতির রেকর্ডিং শেষ করেছেন সালমা। গানটি আসন্ন দুর্গাপূজায় প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, রোহান রাজের আলোচিত গান ‘মানুষ বড়ই স্বার্থপর’-এর নতুন আয়োজনেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। সুমী শবনম, তসিবা, জারিন ও রোহান রাজের সঙ্গে গাওয়া গানটির শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর গানটি প্রকাশের কথা ছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সশস্ত্র ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন মার্কিন তারকা কিম কার্দাশিয়ান। ওই ঘটনায় ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না লুট করা হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর পর প্যারিসের একটি আদালত কার্দাশিয়ানকে মাত্র ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি এই ১ ইউরো ক্ষতিপূরণই চেয়েছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এই রায়কে অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না কার্দাশিয়ান। সংবাদ সংস্থা দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানানো হয়েছে, তার এবং তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই রায় মূলত জবাবদিহি এবং ঘটনার স্বীকৃতির প্রতীক।
কার্দাশিয়ান বলেন, ২০১৬ সালের ওই ডাকাতির ঘটনা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব তার এবং পরিবারের ওপর রয়ে গেছে। তবে বর্তমানে তিনি সেই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।
২০১৬ সালের ২ অক্টোবর প্যারিসে ফ্যাশন সপ্তাহ চলাকালে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন কার্দাশিয়ান। ওই সময় পুলিশের পোশাক পরা দুই ডাকাত জোর করে তার কক্ষে ঢুকে পড়ে।
ডাকাতরা জিপ টাই ও টেপ দিয়ে কার্দাশিয়ানকে বেঁধে ফেলে। এরপর তার কাছ থেকে ৬০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। লুট হওয়া গয়নার মধ্যে একটি হীরার আংটিও ছিল, যেটি ওই রাতে একটি ফ্যাশন প্রদর্শনীতে পরেছিলেন তিনি।
বয়স বেশি হওয়ায় ফ্রান্সে ডাকাত দলের সদস্যদের ‘দাদু ডাকাত’ নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছিল। বিচার চলাকালীন তাদের মধ্যে ছয়জনের বয়স ছিল ৬০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে।
গত বছর এই ডাকাতির ঘটনায় আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। বিচার-পূর্ব আটক অবস্থায় তাদের মধ্যে কেউ নতুন করে কারাগারে যেতে হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে তাদের কেউ আপিলও করেননি।
এরপর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালত কার্দাশিয়ানকে ১ ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি তার রূপসজ্জাশিল্পী সিমন হারুশকেও ১ ইউরো দিয়েছে। ডাকাতির সময় হারুশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ওই হোটেলের সাবেক এক কর্মীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫১৬ ইউরো এবং হোটেল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার ইউরো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সাবেক ওই কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ ও সুদ বাবদ সাড়ে ৫ লাখ ইউরো দাবি করেছিলেন। তার আইনজীবী আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
রায়ের পর কার্দাশিয়ান এবং হারুশ যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তারা বলেন, ওই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং এর প্রভাব এখনো তাদের মনে রয়েছে। তাদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্ষতিপূরণের বিষয় নয়; বরং এটি জবাবদিহি এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি স্বীকৃতির প্রমাণ।
কার্দাশিয়ান আরও বলেন, ঘটনাটি তিনি কখনো ভুলতে পারবেন না। তবে মানুষের মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা এবং জবাবদিহির শক্তিতে তিনি বিশ্বাস করেন। বর্তমানে তিনি এবং তার পরিবার এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, দেশের সব মাদরাসাকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষায় সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো সব শিশুর কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার শিশুদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারীর পরিচয় কেবল কন্যা, মা বা স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজে নারীর বহুমাত্রিক পরিচয় ও সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শারীরিক শক্তির চেয়ে যোগ্যতা, অংশগ্রহণ এবং জনগণের আস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার জন্য সমাজে সঠিক ও ইতিবাচক ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ