প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজশাহীর হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজির প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে টাকার বিনিময়ে পাস করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ওই এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের খাতায় তার মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল। নম্বরটি পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর চোখে পড়ে যখন তিনি খাতা দেখতে যান। এরপর, ১৪ আগস্ট সকালে, তিনি ফোন করে পরীক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন। পরীক্ষার্থী গিয়ে দেখে, তার প্রাপ্ত নম্বর ২৫। পরে, ২ হাজার টাকায় রফাদফার মাধ্যমে পরীক্ষক তাকে খাতায় লিখতে দেন। লেখার পর তার নম্বর হয়ে যায় ৫০।
পরীক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান। তিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকায় অবস্থিত আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। মানবিক বিভাগ থেকে তিনি এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। মেহেদী পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
মেহেদী হাসান সেদিন রুহুল আমিন নামের এক বন্ধুকে নিয়ে পরীক্ষকের বাসায় গেলেও তার পরিচয় জানাতে পারেননি। তবে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে সেকেন্দার আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়।
মেহেদীর মোবাইলে পরীক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের সময় শোনা যায়, সেকেন্দার আলী টাকা নিয়ে মেহেদীকে ডাকেন এবং বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতে নিষেধ করেন। মেহেদী বলেন, "টাকা নিতে হলে তো অভিভাবককে জানাতে হবে।" পরীক্ষক তখন বলেন, "একজন ভিক্ষুকের কাছেও ২-১০-২০ হাজার টাকা থাকে।"
মেহেদী জবাব দেন, "স্যার তো বুঝতে পারছেন, আমরা তো বেকার ছেলে, ভিক্ষুক না। ভিক্ষুকের কাছে তো টাকা থাকবেই, আমরা তো বেকার।" পরীক্ষক তখন বলেন, "না না ঠিক আছে। আরও ক্যান্ডিডেটদের নিয়ে আসো।"
পরে, ১৪ আগস্ট সকালে, মেহেদী, ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামিসহ ছয়জন রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে যায়। কিছুক্ষণ পর, পরীক্ষক একটি মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তাদের সঙ্গে আসে। এরপর তারা পরীক্ষকের বাড়িতে যায় এবং খাতা বের করে দেন। মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই পাওয়া যায়, কিন্তু রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ অন্য সহপাঠীদেরও খাতা পাওয়া যায়নি।
দুপুরে, মেহেদী গণমাধ্যমকে জানান, মোটরসাইকেলে প্রায় ১০ মিনিটে পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছান। কিন্তু জায়গাটি তিনি চেনেন না। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের বিনোদপুরে রেখে যান।
মেহেদী জানান, পরীক্ষক তাদের নাম জানাননি এবং তার মোবাইল থেকে নিজের নম্বরটি ডিলিট করে দেন। মেহেদী বলেন, "আমার খাতায় ২৫ মার্ক ছিল। স্যার ২ হাজার টাকা নিয়েছে। খাতায় লিখতে দিল। যেগুলো ভুল লিখেছিলাম সেগুলো ঠিক করে দিয়েছি। আর যেটা লিখিনি, সেটা ফাঁকা জায়গায় লিখে দিয়েছি।" এখন তার নম্বর কত হবে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, "৫০ প্লাস হবে।"
পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট পরীক্ষক যে মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সেটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএ থেকে জানা যায়, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গাড়িটি তিনি অনেক আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এভাবে গাড়িটি তিন হাত বদল হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম সেন্টুকে পাওয়া যায়। তিনিই বর্তমানে মোটরসাইকেলটির মালিক। সেন্টু ওই প্রভাষকের আত্মীয়। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামে। ৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই ওই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ওই এলাকার এক ব্যক্তিকে ছবি দেখাতেই তিনি প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তার বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।
সেদিন বিকেলে বাড়িতে সেকেন্দার আলীকে পাওয়া যায়। ফোনকল রেকর্ড এবং ছবি দেখানো হলেও তিনি পরীক্ষার্থীকে বাসায় নিয়ে টাকার বিনিময়ে লেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন।
হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল জানান, অনেক আগে থেকেই তিনি জানেন যে সেকেন্দার আলী এইচএসসির খাতা দেখেন। কিন্তু তিনি এমন কাজ করেন, তা তিনি জানতেন না। শিক্ষা বোর্ড যদি কোনো পদক্ষেপ নিতে বলে, তাহলে তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
এ ছাড়া মেহেদীর সঙ্গে এই প্রভাষকের কথোপকথনের রেকর্ড শুনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, "এমন হলে এটা তো খুবই ভয়াবহ ঘটনা। আমরা এটা কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন