ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কাতারের সতর্কতা, ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়


কাতারের সতর্কতা, ইরানের হামলার শঙ্কায় বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির তলদেশে অবস্থিত সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ ক্যাবলকে নতুন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করার হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুমকি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। কাতার সতর্ক করে বলেছে যে, যদি এসব ক্যাবলে হামলা হয়, তাহলে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দোহা একই সঙ্গে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।

সউদী গেজেটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবলের কথা উল্লেখ করেন, যা হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে চলে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

মোহেব্বি বলেন, "আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।" তিনি আরও জানান, ইরান অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবশিষ্ট প্রভাব দূর করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ক্যাবলগুলোতে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস লাতিনো ভোটাররা

গত মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে এবং ক্লাউড সেবায় সমস্যা দেখা দেয়। নতুন হুমকির পর গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত এসব ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা পরিচালিত হয়। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে একাধিক দেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অনলাইন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, "ইরানের পক্ষের কেউ যদি পরিস্থিতি নিয়ে সৎভাবে চিন্তা করেন, তাহলে তাঁর প্রশ্ন করা উচিত, ‘সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’" আল-হাশমির মতে, এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরই বেশি পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

কাতার আরও সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে শুধু যোগাযোগব্যবস্থা নয়, পানির নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের মতো কর্মকাণ্ডে প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই জলপথটিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

এর আগে ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অবকাঠামো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এসব অবকাঠামোতে হামলা হলে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। দেশটির মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির ক্যাবলে হামলা হলে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট সেবা কতটা ব্যাহত হবে, তা নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবলের সংখ্যা, বিকল্প সংযোগের সক্ষমতা এবং মেরামতের সময়ের ওপর।

আরও পড়ুন: ইউরোপের ১০ দেশের সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা, খাদ্যপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিশপ্ত নদের যৌবন ফেরাতে ব্যয় ২৮০ কোটি টাকা, কাজ শুরু হবে শিগগিরই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


অভিশপ্ত নদের যৌবন ফেরাতে ব্যয় ২৮০ কোটি টাকা, কাজ শুরু হবে শিগগিরই

দখল ও দূষণের কারণে এক সময়ের খড়স্রোতা নারদ নদ তার অস্তিত্ব হারিয়ে এখন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। নদটির পানিতে জলজপ্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। দুর্গন্ধের কারণে নদটি নাটোরবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণে দুর্ভোগের নারদ নদের যৌবন ফেরাতে এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন ও ওয়াকওয়ের নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।

দ্রুত কাজ শুরু করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নারদ নদ পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নাটোর শহর দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খড়স্রোতা নারদ নদটিতে এখন স্রোত তো দূরের কথা, কচুরিপানার কারণে পানি প্রবাহ হয় না। পৌর এলাকার প্রায় ২০ কিলোমিটার নদটির দুপার দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। সরকারি ও বেসরকারি শিল্প কলকারখানার বর্জ্যে নদটির পানি দূষিত হয়েছে। নদটির পানিতে কোনো জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব নেই এবং দুর্গন্ধের কারণে নদটির পাশে বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শহরবাসী দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে চান।

জংলী এলাকার আব্দুর রহিম জানান, ‘দুষিত পানির গন্ধে মানুষ অসুস্থ হয়ে যায়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান দরকার।’

লেংগুড়িয়া এলাকার সেলিম বলেন, ‘নারদ নদে এক সময় স্রোত ছিল; নৌকা চলত। পর্যাপ্ত মাছ ছিলো এই নদে। এখন নদটিতে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব নেই। নদটির সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। নদটি খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাসহ শহরের ২০ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ের পাশাপাশি ফ্লাড লাইট স্থাপন করা হবে। কাজ সম্পূর্ণ হলে নারদ নদ নাটোরবাসীর বিনোদনের স্থান হবে।’

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাত করিম বলেন, ‘আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত হবে। কাজ শেষ হলে নদটি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুদার দুলু বলেন, ‘ওয়াকওয়ের পাশাপাশি ফ্লাড লাইট স্থাপনের পর এটি পর্যটন কেন্দ্র হবে।’

এ দিকে দ্রুত খনন কাজ শুরু করতে গত সপ্তাহে (১৫ অক্টোবর) পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নারদ নদ পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘নারদ নদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে এর পানি সেচের জন্য ব্যবহার করা হবে। নাটোরবাসীর দুর্ভোগের নারদ নদ হবে পর্যটন কেন্দ্র।’

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘নাটোরবাসীর দুর্ভোগ এই নারদ আর্শিবাদ হবে। সারাবছর নদটিতে পানি থাকবে। নারদের পানিতে উৎপাদন হবে মাছ। ফসলের সেচ কাজে ব্যবহার হবে পানি।’

৪৩ কিলোমিটারের এই নারদ পুরোটা দখলমুক্ত করে ম্যাপ অনুযায়ী খনন করা হবে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৬ পি.এম


৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৬ শাখা থেকে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা এই ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের জনপ্রিয় ফিচার।

এর আগে ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভা বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটাচ্ছেন। এই ছুটি মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত চলবে। ছুটির পর ২৫ অক্টোবর (রবিবার) থেকে অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আপনার ফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ, জানবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


আপনার ফোনটি বৈধ নাকি অবৈধ, জানবেন যেভাবে

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি বিটিআরসির কমিশন সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিংয়ের এই ব্যবস্থাটি কার্যকর করার জন্য বিটিআরসির এটি তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে ২০২১ সালে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল।

আরো পড়ুন

ফেসবুকের জনপ্রিয় ফিচার বন্ধ হতে যাচ্ছে। বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু হবে। এই ব্যবস্থায় অবৈধ ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে, একই আইএমইআই নম্বর একাধিক ফোনে ব্যবহার করে চালানো ক্লোন সেট বন্ধ হবে না এই ধাপে।

দ্বিতীয় ধাপে ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করা সহজ হবে। তবে, এ ধাপের জন্য এখনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, "আমরা অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। তবে তাড়াহুড়া করব না। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর একটা সমাধান বের করা হবে, যাতে বরাবরের মতো এই উদ্যোগ ব্যর্থ না হয়।"

আরো পড়ুন

৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি

নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে বৈধতা যাচাই করতে হবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে যেকোনো মাধ্যম থেকে (বিক্রয়কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র, ই-কমার্স সাইট ইত্যাদি) মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেনার রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। বৈধ হলে মোবাইল ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

যেভাবে জানবেন মোবাইল ফোনটি বৈধ কি না:

ধাপ-১ : মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখুন। উদাহরণস্বরূপ KYD 123456789012345।

ধাপ-২ : আইএমইআই নম্বরটি লেখার পর ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিন।

ধাপ-৩ : ফিরতি বার্তার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, উপকূলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি, উপকূলের উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি একটি দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, এসব কারণে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। অথচ বরগুনার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে উচ্চশিক্ষার জন্য জেলার বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোকেও অতিরিক্ত আবাসন, যাতায়াত ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে হয়।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আর্থিক সংকটে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থী এবং প্রত্যন্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। আবাসন ও যাতায়াতের ব্যয় কমলে অনেক পরিবারের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে, এটি নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

তবে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে জেলাটি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ সম্ভাবনাময়। বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন উপকূল, মৎস্যসম্পদ, কৃষি, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, এসব বিষয়ে গবেষণার জন্য বরগুনা হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মৎস্যবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হলে স্থানীয় সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে। এর সুফল কৃষক, জেলে ও উপকূলের দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে। পাশাপাশি, গবেষণার ফলাফল জাতীয় পর্যায়ের নীতি প্রণয়নেও সহায়ক হতে পারে।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আবাসন, পরিবহন, খাবারের দোকান, বই ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, যোগ্য শিক্ষক, গবেষণাগার এবং মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নে ইতোমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করেছেন। ২০২৩ সালে বরগুনাসহ কয়েকটি জেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইউজিসির সুপারিশের কথা জানানো হয়। বর্তমানে বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফাইল বন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, জমির উপযুক্ততা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপদ ও টেকসই ক্যাম্পাস স্থাপনের অংশ হিসেবে পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একটি একক গোষ্ঠীর দাবি নয়; এটি উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয়। এখন প্রয়োজন দাবিটির বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা। উপকূলের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়।

বরগুনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক বরগুনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোস্তফা জামান দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, 'বরগুনা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। উপকূলীয় জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ, মৎস্যসম্পদ ও কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার শক্তিশালী ক্ষেত্র গড়ে তোলার সুযোগ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এ অবস্থায় বরগুনায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয় নয়; এটি জেলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কমানো এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরির উদ্যোগ হতে পারে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বরগুনার শিক্ষার্থীদের অন্য জেলায় যেতে হলে পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। বরগুনায় মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি শিক্ষক, গবেষক ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।

অধ্যাপক মোস্তফা জামানের মতে, বরগুনার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মৎস্যবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও কৃষির সংকট নিয়ে গবেষণা হলে তার সুফল শুধু বরগুনা নয়, দেশের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার মানুষও পাবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, যোগ্য শিক্ষক, গবেষণাগার এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%