ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালালে ১৪ কেজি সোনাসহ এক মালয়েশিয়ান ও দুই বিমানকর্মী গ্রেপ্তার


শাহজালালে ১৪ কেজি সোনাসহ এক মালয়েশিয়ান ও দুই বিমানকর্মী গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একদিনের মধ্যে দুটি বড় অবৈধ সোনার চালান জব্দ করেছে। পৃথক এই দুই অভিযানে ধরা পড়েছেন মালয়েশিয়ার একজন নাগরিক এবং দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মী; উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪ কেজি সোনা।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসে আসা ওই যাত্রীর কাছে পাওয়া গেছে ৪.৫ কেজি সোনা, অন্যদিকে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯.৩৪ কেজি সোনা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মোট ১৩.৮৪ কেজি সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিমানবন্দরে এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: সদরঘাটে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের আকস্মিক পরিদর্শন

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা ‘এমিরাটস এয়ারলাইনসের ইকে ০৫৮২’ ফ্লাইটের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন প্রায় ৯.৩৪ কেজি, যার বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।

বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে সোনার বার লুকিয়ে চোরাচালানের এই কৌশল সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। তারা তদন্ত করছেন, বিমানকর্মীদের মাধ্যমে সোনা পাচারের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না।

অন্যদিকে, শনিবার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪.৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ, যিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার শরীরে বিশেষ কায়দায় বহন করা সোনার বারের সন্ধান পাওয়া যায়। আনুমানিক রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে ৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৮ কোটি টাকা হতে পারে।

আরও পড়ুন: জামায়াত নেতার কথা শুনে ব্যথিত হয়েছি: ইশরাক হোসেন

সোনার বারগুলো একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় তার শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং সোনার বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি। উভয় ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু

পরীক্ষার হলে খাতা-কলমের অভাব, প্রশ্নপত্রের স্তূপ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির সাহায্যে সরাসরি ডিজিটাল প্লাটফর্মে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। পরীক্ষার শেষে ফলাফলও দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কাগজনির্ভর পরীক্ষার পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এ পরীক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেছে। এটি দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির এ সিস্টেম তৈরি করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’-এ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্লাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল, ভুল উত্তরের সঠিক উত্তর এবং ব্যাখ্যা দেখতে পারবেন।

উদ্ভাবকদের তথ্য অনুযায়ী, সিস্টেমটিতে একটি সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে, যা শিক্ষকদের জন্য প্রশ্ন তৈরি ও একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা সহজ করে। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময় কমে যাবে, ফলাফল দ্রুত প্রকাশিত হবে এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

এছাড়া, প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার, সময়ের অপচয় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে।

আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, ‘পরীক্ষা পদ্ধতিটি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শনের বিষয়টি আমার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

একই বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি জানান, ‘ই-এক্সাম আমাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল দেখার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। ফলে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষার পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী।’

পদ্ধতিটির তত্ত্বাবধায়ক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরো আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পরীক্ষা পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন ও আধুনিক পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুততম সময়ে ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন, ফলাফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অধিকতর সহজ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিই বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবসময় চেষ্টা করে আসছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরো স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপাচার্য আরও বলেন, এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর শিক্ষা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার মজুতের ঘটনায় জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪১ পি.এম


সার মজুতের ঘটনায় জামায়াত নেতা মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত করার ঘটনায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ মো. মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত (সদস্য পদ) বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তিনি সংগঠনটির নায়েবে আমীর-২ পদে আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, রুকন বা পূর্ণাঙ্গ সদস্য সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তরের সদস্যপদ। একজন কর্মী নির্ধারিত সাংগঠনিক ও নৈতিক শর্ত পূরণ করে রুকন হলে তিনি এই সদস্যপদ লাভ করেন।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, "মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। রুকনিয়াত বাতিল হওয়ার ফলে তিনি আর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।"

এর আগে গত ১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে মনিরুল ইসলামের সার গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিনির্দেশবহির্ভূতভাবে সার গুদামজাত করার অভিযোগে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুদামে মজুত করা ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার সরকারের অনুকূলে জব্দ করা হয়।

মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫২ ঘরের ৩৭টি পরিত্যক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


ফরিদপুরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫২ ঘরের ৩৭টি পরিত্যক্ত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের নতুন বাজারসংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, চলাচলের রাস্তার বেহাল অবস্থা এবং ঘরের চারপাশে ঝোপঝাড় বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ৫২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৫টি পরিবার কোনো রকমে বসবাস করছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে প্রকল্পটি পরিদর্শন করার সময় দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ঘরগুলোর চারপাশে লতাপাতা ও ঝোপঝাড় গজিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা অনেকটা জঙ্গলের মতো হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার কারণে ঘরের বারান্দা, উঠান ও বাথরুমের সামনেও দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে। এর ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একদিন বৃষ্টি হলে অনেক সময় কয়েক দিন ধরে পানি জমে থাকে। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি কাদায় চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়েছে। এ অবস্থায় অনেক পরিবার প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

প্রকল্পের বাসিন্দা মিনু আক্তার বলেন, "বৃষ্টির পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। একদিন বৃষ্টি হলে কয়েক দিন পর্যন্ত পানি জমে থাকে। ঘর ও বারান্দায় পানি ঢুকে পড়ে, এমনকি বাথরুমেও পানি জমে থাকে। প্রতিদিন পানি সেচতে হয়। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বাধ্য হয়ে এখানেই বসবাস করছি।"

আরেক বাসিন্দা জিয়াসমিন আক্তার বলেন, "বৃষ্টির পর ঘরের সামনে দিনের পর দিন পানি জমে থাকে। কয়েক দিন আগে তার আট মাসের শিশুসন্তান উঠানের পানিতে পড়ে যায়। পানি কমে গেলে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনার অভিযোগ থাকায় তারা নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশ্রয়হীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় সেগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এসব স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগও করেছেন।

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতি বলেন, "প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি আমি দেখেছি। সেখানে বসবাসের পরিবেশ বর্তমানে ভালো নয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "প্রকল্পটি নির্মাণের সময় মাটি ভরাট করা প্রয়োজন ছিল। এখন পুরো এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। তাই বিকল্প হিসেবে চারপাশে পাকা ড্রেন নির্মাণ করে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।"

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা হলে প্রকল্পটির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এতে অসহায় পরিবারগুলোও নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিত শর্মা ভাঙলেন শচীনের ২২ বছরের রেকর্ড, ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার রান পূর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


রোহিত শর্মা ভাঙলেন শচীনের ২২ বছরের রেকর্ড, ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার রান পূর্ণ

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের ২২ বছর ধরে অক্ষত থাকা রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন রোহিত শর্মা। ভারতের এই তারকা ব্যাটার ওয়ানডে ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে দ্রুততম ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

রোহিত এই কীর্তি গড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে। মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। ক্রিজে নেমে নিজের খেলা চতুর্থ বলে জেডেন সিলসের বিপক্ষে দুই রান নিয়ে ওপেনার হিসেবে পূর্ণ করেন ১০ হাজার রান।

রোহিতের এই মাইলফলকে পৌঁছাতে লেগেছে মাত্র ২০২ ইনিংস। অন্যদিকে, ২০০৪ সালে রেকর্ডটি গড়তে শচীন টেন্ডুলকার খেলেছিলেন ২১৪ ইনিংস। ফলে, রোহিত নতুন রেকর্ডের মালিক হলেন শচীনের চেয়ে ১২ ইনিংস কম খেলে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে ১০ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করা চতুর্থ ব্যাটার হলেন রোহিত। এই তালিকায় তার আগে রয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল ও শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়সুরিয়া। গেইলের জন্য প্রয়োজন হয়েছিল ২৬৮ ইনিংস, আর জয়সুরিয়ার জন্য ৩০৩ ইনিংস।

এদিকে, আগের ম্যাচেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন রোহিত। তৃতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৮৫ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেললেও মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন তিনি।

একদিকে ব্যক্তিগত মাইলফলক, অন্যদিকে শচীনের মতো কিংবদন্তির রেকর্ড ভাঙা—সব মিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন রোহিত শর্মা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%