প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একদিনের মধ্যে দুটি বড় অবৈধ সোনার চালান জব্দ করেছে। পৃথক এই দুই অভিযানে ধরা পড়েছেন মালয়েশিয়ার একজন নাগরিক এবং দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মী; উদ্ধার হয়েছে মোট ১৪ কেজি সোনা।
মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসে আসা ওই যাত্রীর কাছে পাওয়া গেছে ৪.৫ কেজি সোনা, অন্যদিকে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৯.৩৪ কেজি সোনা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত মোট ১৩.৮৪ কেজি সোনার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা কাস্টমস, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিমানবন্দরে এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যা এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে ঢাকায় আসা ‘এমিরাটস এয়ারলাইনসের ইকে ০৫৮২’ ফ্লাইটের রানওয়েতে দুই বিমানকর্মীর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর বিশেষ কায়দায় লুকানো ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন প্রায় ৯.৩৪ কেজি, যার বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার বেশি।
বিমানকর্মীদের জুতার ভেতরে সোনার বার লুকিয়ে চোরাচালানের এই কৌশল সামনে আসার পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। তারা তদন্ত করছেন, বিমানকর্মীদের মাধ্যমে সোনা পাচারের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্র রয়েছে কি না।
অন্যদিকে, শনিবার দিবাগত রাতে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ৪.৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টমস হাউস। আটক যাত্রীর নাম মি. ইয়াং ডন সিউ, যিনি মালয়েশিয়ার নাগরিক।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর থেকেই ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরে তিনি ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় তার শরীরে বিশেষ কায়দায় বহন করা সোনার বারের সন্ধান পাওয়া যায়। আনুমানিক রাত ১টা ৪৫ মিনিটে তার শরীর থেকে ৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য ৮ কোটি টাকা হতে পারে।
সোনার বারগুলো একটি কালো কাপড়ের বেল্টে মোড়ানো অবস্থায় তার শার্টের নিচে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই যাত্রী কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা দেননি এবং সোনার বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো নথি বা দলিলও দেখাতে পারেননি। উভয় ঘটনায় ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন