০৮:০৯ পি.এম
ভারতের গুজরাটে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে এক নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখা, গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন এবং পরে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, কথিত ‘পবিত্রকরণ আচার’-এর নামে ওই নারীর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনায় দুই নারীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলায় ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ওই নারী স্বামী ও আত্মীয়দের ছেড়ে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে বসবাস করছিলেন, যার কারণে তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে ওই নারীকে শিকল দিয়ে বেঁধে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এরপর দড়ি দিয়ে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বসবাস করায় তাকে ‘পবিত্রকরণ’-এর নামে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায়ে তার ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণও চালানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই পুরুষকেও মারধর করা হয়।
পুরো নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যাতে অন্যদের ভয় দেখানো ও সতর্ক করা হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
সুরেন্দ্রনগরের পুলিশ সুপার প্রেমসুখ দেলু জানান, ভিডিওর সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করা হয় এবং তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। অপরাধে প্ররোচনা ও সহায়তার অভিযোগে দুই নারীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
তদন্ত অব্যাহত রয়েছে, যাতে ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অভিযুক্তদের অতীত অপরাধের কোনো ইতিহাস রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা যায়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন