ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি সেরা: বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম?


ঘামের গন্ধ দূর করতে কোনটি সেরা: বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট নাকি পারফিউম?

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দামি পারফিউম স্প্রে করার পর, অফিসে পৌঁছানোর সময় দেখা যায় শরীরের সুগন্ধ উধাও হয়ে গেছে। বরং ঘামের দুর্গন্ধে নিজেকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়ে থাকে।

অনেকে এই পরিস্থিতির জন্য সুগন্ধির ব্র্যান্ড বা মানকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবে সমস্যাটি অনেক সময় সুগন্ধির নয়, বরং ভুল ধরনের পণ্য ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে।

বডি মিস্ট, ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম তিনটি সুগন্ধি পণ্য হলেও, তাদের কার্যকারিতা এক নয়। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা, ঘাম নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী সুবাস ধরে রাখার জন্য আলাদা ধরনের পণ্য প্রয়োজন। তাই কখন কোনটি ব্যবহার করা উচিত, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

ডিওডোরেন্ট

যারা প্রতিদিন বাইরে বের হন, গণপরিবহনে যাতায়াত করেন কিংবা দীর্ঘ সময় গরমের মধ্যে থাকেন, তাদের জন্য ডিওডোরেন্ট বেশ কার্যকর।

সাধারণভাবে ঘামের নিজস্ব গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে ক্রিয়া করে দুর্গন্ধ তৈরি করে। ডিওডোরেন্টের মূল কাজ হলো সেই দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা। এতে সুগন্ধি উপাদানের পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকতে পারে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, সব ডিওডোরেন্ট ঘাম বন্ধ করে না। ঘাম কমানোর জন্য ব্যবহৃত পণ্যকে সাধারণত ‘অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট’ বলা হয়। এতে ঘামগ্রন্থির কার্যক্রম সাময়িকভাবে কমাতে অ্যালুমিনিয়াম-ভিত্তিক উপাদান থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

অতএব, ঘামের গন্ধ নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলে ডিওডোরেন্ট উপকারী, আর অতিরিক্ত ঘাম কমাতে চাইলে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট বেছে নেওয়া যেতে পারে।

পারফিউম

বিয়ে, পার্টি, করপোরেট মিটিং কিংবা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী ও আকর্ষণীয় সুবাসের জন্য পারফিউমের তুলনা নেই।

পারফিউমে সুগন্ধি তেলের ঘনত্ব সাধারণত বডি মিস্টের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এর সুবাস তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে পারফিউমের মূল কাজ ঘামের দুর্গন্ধ দূর করা নয়; এটি মূলত শরীর বা পোশাকে কাঙ্ক্ষিত সুবাস যোগ করে।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

তাহলে প্রচণ্ড ঘামে ভেজা শরীরে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও পাওয়া যেতে পারে। বরং ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের তীব্র সুবাস মিশে অস্বস্তিকর গন্ধ তৈরি করতে পারে।

বডি মিস্ট

বডি মিস্ট হলো তুলনামূলকভাবে হালকা ধরনের সুগন্ধি। এতে সুগন্ধি উপাদানের ঘনত্ব পারফিউমের চেয়ে কম থাকায় এর সুবাসও সাধারণত কোমল ও স্নিগ্ধ হয়।

যারা তীব্র সুগন্ধি পছন্দ করেন না কিংবা হালকা সতেজ অনুভূতি চান, তাদের জন্য বডি মিস্ট একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। গোসলের পর, বাসায় থাকার সময় কিংবা বিকেলে হাঁটতে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

তবে বডি মিস্টের সুবাস সাধারণত পারফিউমের মতো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার ব্যবহার করতে হতে পারে।

তাহলে কোনটি আপনার জন্য?

ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে শুধু পারফিউমের ওপর নির্ভর না করে ডিওডোরেন্ট বা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।

আর দীর্ঘ সময় শরীরে সুন্দর সুবাস ধরে রাখতে চাইলে ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের পর পছন্দের পারফিউম ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পরিষ্কার ও শুকনো শরীরে এগুলো ব্যবহার করাই ভালো।

আরও পড়ুন: পূজায় মিষ্টিমুখ, ঘরেই বানান সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

অন্যদিকে, যারা হালকা ও স্নিগ্ধ সুবাস পছন্দ করেন, তাদের জন্য বডি মিস্ট হতে পারে আদর্শ।

অর্থাৎ, তিনটি পণ্যের কাজ তিন রকম। ঘামের গন্ধ নিয়ন্ত্রণে ডিওডোরেন্ট, ঘাম কমাতে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট, দীর্ঘস্থায়ী সুবাসের জন্য পারফিউম আর হালকা সতেজ অনুভূতির জন্য বডি মিস্ট—ব্যবহারটা হওয়া উচিত প্রয়োজন বুঝে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি আঁকার কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১১ পি.এম


নোবেলজয়ীদের কালো-সোনালি ছবি আঁকার কারণ কী?

নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পরপরই বিজয়ীদের নামের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে কিছু ব্যতিক্রমী পোর্ট্রেট দেখা যায়। এই পোর্ট্রেটগুলো কালো রেখায় আঁকা মুখাবয়ব, যার ওপর ঝকঝকে সোনালি পাতের ছোঁয়া থাকে। প্রশ্ন উঠছে—ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেন এমন হাতে আঁকা ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে?

এই বিশেষ পোর্ট্রেটের সঙ্গে পুরস্কারের একটি স্বতন্ত্র সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা সাহিত্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজয়ীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কালো রেখা ও সোনালি অলংকরণে তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। এর পেছনে একসময়কার বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে।

অনেক নোবেলজয়ীর মানসম্মত বা উপযুক্ত ছবি অনলাইনে পাওয়া যেত না, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ঝাপসা বা নিম্নমানের ছবি খুঁজে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। আবার উপযুক্ত ছবি না পাওয়া পর্যন্ত বিজয়ীর নাম প্রকাশও পিছিয়ে দেওয়া যেত না। কারণ বিশ্ব মিডিয়ায় এটি ব্রেকিং সংবাদ হিসেবে প্রচারিত হয়। এই সমস্যার দ্রুত সমাধানে শিল্পী নিকলাস এলমেহেড (Niklas Elmehed) ২০১২ সালে ‘নোবেল মিডিয়া’র আর্ট ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন এবং তিনি বিজয়ীদের পোর্ট্রেট আঁকা শুরু করেন।

এখন সময়ের সঙ্গে এই তাৎক্ষণিক সমাধানটি নোবেল পুরস্কারের নিজস্ব ভিজ্যুয়াল পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের চিত্রশৈলীতে বিজয়ীদের উপস্থাপন করার ফলে বিজ্ঞানী থেকে সাহিত্যিক—সবাই যেন একই ‘নোবেল পরিবারের’ অংশ হিসেবে দৃশ্যমান হন।

এলমেহেডের পোর্ট্রেটগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও স্পষ্ট কালো রেখা। অতিরিক্ত শেডিং বা নানা রঙের ব্যবহার না থাকায় ছবিগুলো সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিক্সের মতো সহজেই নজর কাড়ে। বড় সংবাদপত্রের পাতার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের ছোট থাম্বনেলেও এগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তবে শুরু থেকেই এসব ছবিতে সোনালি রঙের ব্যবহার ছিল না। ২০১৭ সালে নোবেল ফাউন্ডেশন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিতে পরিবর্তন আনে। নোবেল মেডেলের ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে সোনালি রঙকে প্রধান ভিজ্যুয়াল রং হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১৮ সাল থেকে এলমেহেড তার পোর্ট্রেটে ‘গোল্ড ফয়েল’ ব্যবহার শুরু করেন।

অনেকের ধারণা হতে পারে, ছবিগুলো হয়তো কম্পিউটার সফটওয়্যার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি। কিন্তু বাস্তবে এগুলো পুরোপুরি হাতে আঁকা শিল্পকর্ম। সুতি বা মোটা কাগজে কালো অ্যাক্রিলিক রং ও মার্কার দিয়ে পোর্ট্রেটের আউটলাইন তৈরি করা হয়। এরপর বিশেষ আঠার সাহায্যে বসানো হয় আসল ধাতব সোনার পাত বা ‘গোল্ড ফয়েল’।

নোবেল বিজয়ীদের উপযুক্ত ছবি না পাওয়ার সমস্যা সমাধানে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এখন সেটিই নোবেল পুরস্কারের একটি পরিচিত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কালো রেখা ও সোনালি পাতের এই পোর্ট্রেট বিশ্বজুড়ে বিশেষ এক ভিজ্যুয়াল সিগনেচার হিসেবে রূপ পেয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি: ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি: ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সেলের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বৃক্ষরোপণ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ। সভায় বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। এই আন্দোলনকে সফল করতে জনসম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাছের চারা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেন। বৃক্ষরোপণে কর্মসূচিকে সফল করতে সকলকে আহবান জানান তিনি। বৃক্ষরোপণে কোন অনিয়ম ও অনাচার সহ্য করা হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন।

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু চারা মারা যাবে, তাই সকল মন্ত্রণালয়কে আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় সেই হিসাব ধরতে হবে। নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তিনি বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কোন জেলায় কোন গাছ উপযোগী এবং অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করলে রোপিত বৃক্ষ বাঁচার হার বাড়ানো সম্ভব। সেই বিবেচনা থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়া গাছের চারা আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে রোপণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ বলেন, রোপিত চারার পরিচর্যা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় পুনঃরোপণ এবং বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আগামী চার বছরের কর্মপরিকল্পনায় রোপণ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একই সাথে রোপণস্থলের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনার বিপরীতে অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত ছকে তথ্য প্রদানকারী ১১টি দপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা রোপণের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করছে, সেসকল তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি দপ্তর ইতোমধ্যে নিজ নিজ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উপকূলীয় অঞ্চলে বন অধিদপ্তরের আরও ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চলতি বছরের সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর নির্ধারিত ছকে তথ্য সংগ্রহ চলমান রাখার কথা বলা হয়। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংগঠনগুলোর বৃক্ষরোপণের তথ্য একই কাঠামোয় সংগ্রহ এবং সমন্বিত হিসাব প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তা সভায় তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘One Tree One Child’ উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় যথাক্রমে ৬ কোটি ১৫ লাখ, ৫ কোটি ৪ লাখ এবং ২ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বৃক্ষরোপণের তথ্য সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং ড্যাশবোর্ড তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপকমিটির সুপারিশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে কর্মশালা আয়োজন, তথ্য সংগ্রহের অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সম্ভাব্যতা ও ব্যয়- যাচাইয়ের আলোচনা করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম অনলাইনে যুক্ত হন এবং সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশীর মতামত তুলে ধরেন। বৃক্ষরোপণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেন তারা।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুরনো পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওর কারণে ঘটনাটি নিয়ে নানা কল্পকাহিনীও সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের তল্লাশিতে ‘জলপরী’র কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুকুরে জাল ফেললে সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠে এসেছে।

গুজবের সূত্রপাত হয়েছে মনোহরদী উপজেলার একদরিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের কবির আহমেদ ভূইয়ার প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পারিবারিক পুকুরকে কেন্দ্র করে।

পুকুরের মালিক কবির আহমেদ ভূইয়া জানান, পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কয়েক দিন আগে সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে সাঁতার কাটার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ সেটিকে ‘জলপরী’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এরপর থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ নানা কাল্পনিক গল্পও প্রচার করছেন। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

পুকুরের মালিক আরও জানান, প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গুজব বন্ধ এবং পুকুরপাড়ে মানুষের অযাচিত ভিড় ঠেকাতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ইউএনও বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জলপরী’ পাওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে যাচাই না করেই নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন এবং পুকুরটির সামনে ভিড় করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই চারার হাট জমে ওঠে। দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের চারা সারি সারি করে সাজানো থাকে। পাইকারি ক্রেতারা তাদের পছন্দের চারা কিনে নিয়ে যান দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে। স্থানীয় ক্রেতারাও বিকেলে এসে বাড়ির আঙিনা কিংবা বাগানের জন্য পছন্দের চারা কিনে নেন।

এমনই জমজমাট চিত্র দেখা যাচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে। গদাইপুর বাজার ও আশপাশের নার্সারিগুলোতে প্রতিদিন চলছে চারা ও কলমের বেচাকেনা। সপ্তাহের শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার গদাইপুরে নিয়মিত হাট বসে, তবে চারা বিক্রি প্রতিদিনই হয়ে থাকে।

স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে সারা বছর চারা উৎপাদন ও পরিচর্যা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এ সময় চারা বিক্রি বেড়ে যায়। নার্সারি মালিকেরা ভোরে চারা তুলে হাটে নিয়ে আসেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দিনের শুরুতেই চারা কিনে বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান।

গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে দেশি জাতের আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা ও নারিকেলের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত, ডগ মাই, বেগুনি ম্যাঙ্গো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউ জায় ও চিংমাই আমের চারা ক্রেতাদের আগ্রহ কাড়ছে। রামবুটানসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের চারা এবং নানা প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে।

চারা বিক্রির দাম ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আকার, জাত ও মানভেদে দাম কমবেশি হয়। বিদেশি নারিকেলের চারা প্রায় ৫০০ টাকা এবং বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তালা উপজেলা থেকে গদাইপুরের চারার হাটে এসেছেন সবুর গাজী। তিনি বলেন, "বাজারে প্রচুর গাছের চারা উঠেছে। ঘুরে ঘুরে পছন্দের চারা কেনা যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম।"

পাইকগাছা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার বলেন, "গদাইপুর এলাকায় প্রায় ৫০০টি নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও এখানকার চারা যায়।"

সমিতির সভাপতি আছাদুল ইসলাম জানান, করোনার সময় কয়েক বছর চারা বিক্রি কমে গিয়েছিল। বর্তমানে আবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। নার্সারি মালিকদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, "কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে নার্সারি পরিচালনা করলে আরও মানসম্মত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। নার্সারি মালিকদের সহজ শর্তে বা কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা এ ব্যবসায় আরও লাভবান হতে পারবেন।"

নার্সারি মালিকেরা জানান, ভোরে চারা কেনাবেচার অন্যতম কারণ হলো সূর্যের তাপ বাড়ার আগেই চারা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এতে চারার ক্ষতি কম হয়। গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে মানসম্মত চারা পাওয়ায় পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রা, আশাশুনি, দাকোপসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন।

স্থানীয়দের মতে, একই জায়গায় বিভিন্ন জাত ও আকারের চারা পাওয়ায় গদাইপুরের চারার হাট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে ভোর থেকে জমে ওঠা এই হাট এখন এলাকার নার্সারি ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%