ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি: ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ


পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি: ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত সেলের পঞ্চম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বৃক্ষরোপণ সেলের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ। সভায় বৃক্ষরোপণের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যা, চারার বেঁচে থাকার হার পর্যবেক্ষণ এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। এই আন্দোলনকে সফল করতে জনসম্পৃক্ততা আরো বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাছের চারা উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পুরস্কার বা সম্মাননা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করেন। বৃক্ষরোপণে কর্মসূচিকে সফল করতে সকলকে আহবান জানান তিনি। বৃক্ষরোপণে কোন অনিয়ম ও অনাচার সহ্য করা হবে না বলে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু চারা মারা যাবে, তাই সকল মন্ত্রণালয়কে আগামী চার বছরের পরিকল্পনায় সেই হিসাব ধরতে হবে। নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তিনি বন অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। একই সাথে কোন জেলায় কোন গাছ উপযোগী এবং অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ও ভূমিরূপ বিবেচনা করে বৃক্ষরোপণ করলে রোপিত বৃক্ষ বাঁচার হার বাড়ানো সম্ভব। সেই বিবেচনা থেকেই উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি কেওড়া গাছের চারা আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে রোপণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ বলেন, রোপিত চারার পরিচর্যা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় পুনঃরোপণ এবং বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য আগামী চার বছরের কর্মপরিকল্পনায় রোপণ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। একই সাথে রোপণস্থলের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ চারা রোপণ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনার বিপরীতে অগ্রগতি ৬৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। নির্ধারিত ছকে তথ্য প্রদানকারী ১১টি দপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ এবং অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৫২ লাখ ৯৩ হাজার চারা রোপণের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করছে, সেসকল তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয়টি দপ্তর ইতোমধ্যে নিজ নিজ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উপকূলীয় অঞ্চলে বন অধিদপ্তরের আরও ২ কোটি ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চলতি বছরের সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে।

কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর নির্ধারিত ছকে তথ্য সংগ্রহ চলমান রাখার কথা বলা হয়। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প সংগঠনগুলোর বৃক্ষরোপণের তথ্য একই কাঠামোয় সংগ্রহ এবং সমন্বিত হিসাব প্রস্তুতের প্রয়োজনীয়তা সভায় তুলে ধরা হয়।

শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে ‘One Tree One Child’ উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় যথাক্রমে ৬ কোটি ১৫ লাখ, ৫ কোটি ৪ লাখ এবং ২ কোটি ১৫ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

বৃক্ষরোপণের তথ্য সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার এবং ড্যাশবোর্ড তৈরির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে উপকমিটির সুপারিশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে কর্মশালা আয়োজন, তথ্য সংগ্রহের অভিন্ন কাঠামো নির্ধারণ এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞের সহায়তায় সম্ভাব্যতা ও ব্যয়- যাচাইয়ের আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম অনলাইনে যুক্ত হন এবং সেলের সদস্য ও টেকনিক্যাল এক্সপার্ট জামাইল বশীর মতামত তুলে ধরেন। বৃক্ষরোপণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় অংশগ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দেন তারা।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: এমদাদুল হক চৌধুরী সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


‘জলপরী’ দেখতে পাঁচ দিন ধরে পুরনো পুকুরে ভিড়, জাল ফেলে মিলল সিলভার কার্প

নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুরনো পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওর কারণে ঘটনাটি নিয়ে নানা কল্পকাহিনীও সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসনের তল্লাশিতে ‘জলপরী’র কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পুকুরে জাল ফেললে সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উঠে এসেছে।

গুজবের সূত্রপাত হয়েছে মনোহরদী উপজেলার একদরিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের কবির আহমেদ ভূইয়ার প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পারিবারিক পুকুরকে কেন্দ্র করে।

পুকুরের মালিক কবির আহমেদ ভূইয়া জানান, পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কয়েক দিন আগে সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে সাঁতার কাটার দৃশ্যকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ সেটিকে ‘জলপরী’ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এরপর থেকেই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ নানা কাল্পনিক গল্পও প্রচার করছেন। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

পুকুরের মালিক আরও জানান, প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গুজব বন্ধ এবং পুকুরপাড়ে মানুষের অযাচিত ভিড় ঠেকাতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ইউএনও বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘জলপরী’ পাওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে যাচাই না করেই নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন এবং পুকুরটির সামনে ভিড় করছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই চারার হাট জমে ওঠে। দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের চারা সারি সারি করে সাজানো থাকে। পাইকারি ক্রেতারা তাদের পছন্দের চারা কিনে নিয়ে যান দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে। স্থানীয় ক্রেতারাও বিকেলে এসে বাড়ির আঙিনা কিংবা বাগানের জন্য পছন্দের চারা কিনে নেন।

এমনই জমজমাট চিত্র দেখা যাচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে। গদাইপুর বাজার ও আশপাশের নার্সারিগুলোতে প্রতিদিন চলছে চারা ও কলমের বেচাকেনা। সপ্তাহের শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার গদাইপুরে নিয়মিত হাট বসে, তবে চারা বিক্রি প্রতিদিনই হয়ে থাকে।

স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে সারা বছর চারা উৎপাদন ও পরিচর্যা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এ সময় চারা বিক্রি বেড়ে যায়। নার্সারি মালিকেরা ভোরে চারা তুলে হাটে নিয়ে আসেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দিনের শুরুতেই চারা কিনে বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান।

গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে দেশি জাতের আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা ও নারিকেলের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত, ডগ মাই, বেগুনি ম্যাঙ্গো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউ জায় ও চিংমাই আমের চারা ক্রেতাদের আগ্রহ কাড়ছে। রামবুটানসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের চারা এবং নানা প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে।

চারা বিক্রির দাম ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আকার, জাত ও মানভেদে দাম কমবেশি হয়। বিদেশি নারিকেলের চারা প্রায় ৫০০ টাকা এবং বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তালা উপজেলা থেকে গদাইপুরের চারার হাটে এসেছেন সবুর গাজী। তিনি বলেন, "বাজারে প্রচুর গাছের চারা উঠেছে। ঘুরে ঘুরে পছন্দের চারা কেনা যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম।"

পাইকগাছা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার বলেন, "গদাইপুর এলাকায় প্রায় ৫০০টি নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও এখানকার চারা যায়।"

সমিতির সভাপতি আছাদুল ইসলাম জানান, করোনার সময় কয়েক বছর চারা বিক্রি কমে গিয়েছিল। বর্তমানে আবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। নার্সারি মালিকদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, "কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে নার্সারি পরিচালনা করলে আরও মানসম্মত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। নার্সারি মালিকদের সহজ শর্তে বা কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা এ ব্যবসায় আরও লাভবান হতে পারবেন।"

নার্সারি মালিকেরা জানান, ভোরে চারা কেনাবেচার অন্যতম কারণ হলো সূর্যের তাপ বাড়ার আগেই চারা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এতে চারার ক্ষতি কম হয়। গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে মানসম্মত চারা পাওয়ায় পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রা, আশাশুনি, দাকোপসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন।

স্থানীয়দের মতে, একই জায়গায় বিভিন্ন জাত ও আকারের চারা পাওয়ায় গদাইপুরের চারার হাট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে ভোর থেকে জমে ওঠা এই হাট এখন এলাকার নার্সারি ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা

রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহৃত ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৪। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের বালক শাখা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-৪ জানায়, অপহরণের পর শিশুটিকে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় অপহরণকারীরা। পরে তারা শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের একটি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে। সেখানেই এতদিন অবস্থান করছিল বায়জিদ।

এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪-এর একটি দল।

তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তাদের গতিবিধির আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে এসআরবি জানতে পারে, বায়জিদের বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েক দিন ধরে ওই বাসায় অবস্থান করছিল। প্রাথমিক তদন্তে নাসরিনের একটি শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে লিপির সঙ্গে মিলে শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাজীপুরে নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এসআরবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের মাধ্যমে বায়জিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর বায়জিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাসরিন ও লিপি তাকে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছিল। তবে কোথাও তাকে বিক্রি করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয় থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে যায়।

শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বায়জিদের বাবা রিকশাচালক এবং মা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার মা বায়জিদ ও তার বাবাকে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে কাজে বেরিয়ে যান। পরে দুপুরে ঘুম থেকে উঠে বাবা দেখতে পান, বায়জিদ বাসায় নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে রূপনগর থানায় মামলা করেন তিনি।

শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের মানসিক চিকিৎসক ইসমত আরা মিতা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের বাসন থানা থেকে বায়জিদকে তাদের কেন্দ্রে দিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, আগের রাতে শিশুটিকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়।

এদিকে বায়জিদকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকার ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করতে যাচ্ছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে, এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কারণে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%