০৫:১৬ পি.এম
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির জবাবে তেহরান সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) ইরান বলেছে, যদি ওয়াশিংটন নতুন কোনো হুমকি দেয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া হবে ‘বিধ্বংসী’। এই তথ্যটি বার্তাসংস্থা রয়টার্স প্রকাশ করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানান, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সাইবার সক্ষমতা নিয়ে ইরানের বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি আসলে ইরান ‘কঠোর, শাস্তিমূলক ও বিধ্বংসী’ জবাব দেবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য বা সহায়তা অব্যাহত রাখতে চাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন যে, আগামী সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন চায় ইরানের শাসনব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে রাখতে।
তবুও, নিষেধাজ্ঞার হুমকির উপরে ইরানের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সামরিক শক্তির উপর ভরসা করে টিকে থাকা সম্ভব নয়; মানুষের খাবার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থের প্রবাহ এবং জাতীয় উৎপাদন নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
এদিকে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর প্রতি চাপ বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে।
চীনে ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা। এ কারণে ওয়াশিংটন চীনকে চাপ দিতে পারে। তবে চীনের দূতাবাস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা এবং চাপ কোনো সমস্যার সমাধান করে না। কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে অতীতে দুবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্ব বাজারে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।
হরমুজে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ মিত্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রধানদের সঙ্গে ভিডিও বৈঠক করেছেন।
ন্যাটো জানিয়েছে, এটি জোটের কোনো সামরিক অভিযান নয়; তবে হরমুজে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহযোগিতার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন