প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জরুরি পরিস্থিতিতে গাড়ির দরজা খুলতে অসুবিধা হওয়ার আশঙ্কার কারণে চীনে টেসলাসহ নয়টি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার করছে। এটি দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রত্যাহারের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যাহার করা গাড়িগুলোর ত্রুটি সমাধানে পদক্ষেপ হিসেবে সফটওয়্যার আপডেট, সতর্কতামূলক লেবেল, এবং জরুরি দরজা খোলার ব্যবস্থা সহজে শনাক্ত করতে উন্নত চিহ্ন ব্যবহারের মতো বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার চীনে বর্তমানে তীব্র মূল্যযুদ্ধের সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি খাতে নজরদারি জোরদার করেছে বেইজিং এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিমালাও চালু করেছে।
চীন জানিয়েছে, ২০২৭ সালে গাড়িতে লুকানো দরজার হাতলের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। টেসলার মাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া এই ধরনের ডিজাইন এখন চীনের স্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গাড়ি প্রত্যাহার করছে টেসলা। প্রতিষ্ঠানটি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানি করা এবং চীনে তৈরি মোট প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার মডেল ৩, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স গাড়ি প্রত্যাহার করবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের সংঘর্ষ বা বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার পর এসব গাড়ির যান্ত্রিক জরুরি দরজা খোলার হাতলকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। এ কারণে যাত্রীদের গাড়ি থেকে বের হওয়া কিংবা উদ্ধারকারীদের গাড়ির ভেতরে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
টেসলার নেয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে সতর্কতামূলক লেবেল যুক্ত করা এবং দূর থেকে সফটওয়্যার আপডেট দেয়া। আপডেটের মাধ্যমে দুর্ঘটনার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির জানালা নামানোর ব্যবস্থা করার উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।
টেসলা ছাড়াও শাওমি, লিপমোটর, এক্সপেং, এবং জিলিসহ অন্যান্য নির্মাতাদেরও বড় আকারে গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। শাওমি প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার, লিপমোটর প্রায় ৩ লাখ ৭১ হাজার, এবং এক্সপেং প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার গাড়ি প্রত্যাহার করবে বলে জানা গেছে।
চীনা আইনে পণ্য প্রত্যাহারের শ্রেণীবদ্ধ এসব পদক্ষেপের বেশিরভাগই জরুরি অবস্থায় যান্ত্রিকভাবে দরজা খোলার ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে। নিয়ন্ত্রকদের আশঙ্কা, দুর্ঘটনা বা আগুন লাগার সময় এসব হাতল খুঁজে পাওয়া বা ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে।
গত অক্টোবরে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, একটি শাওমি এসইউ৭ সেডান দুর্ঘটনার পর আগুন ধরে যাওয়ার ফলে চালক মারা যান। সেই সময় পথচারীরা গাড়ির দরজা খুলে তাকে বের করতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কি-ফব, স্মার্টফোন, বা স্পর্শ-সংবেদনশীল প্যানেলের মাধ্যমে খোলা যায় এমন দরজার হাতল নিয়ে নজরদারি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গাড়ির ভেতরে যাত্রী আটকা পড়ার ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ড বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে একই ধরনের গাড়ি প্রত্যাহারের পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে এখন পর্যন্ত জানাননি।
সূত্র- রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন