ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা সম্পর্কের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে


রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা সম্পর্কের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে

ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সম্পর্ক—এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। সম্পর্ক নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন রিলস ভিডিওতে কখনও সঙ্গীর আচরণকে খারাপ, বিষাক্ত বা মানসিক নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ভিডিও দেখে অনেকে নিজেদের সঙ্গীর আচরণের সঙ্গে মিল খুঁজতে শুরু করেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি বিষয় বাস্তব জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। একটি রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করা বা সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা উল্টো সম্পর্কের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দেখানো বিষয় এবং বাস্তব সম্পর্কের সমস্যার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞ কী বলছেন?

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

কাউন্সেলর ও পরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব বিষয়কে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। কারণ, সম্পর্কের সীমারেখা তৈরি, মানসিক নির্যাতন বা অশালীন আচরণের মতো বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে।

তবে অনেক সময় একেবারে সাধারণ বিষয়কেও সেখানে জটিলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বিষয় নিজের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

একটি ভুলেই সঙ্গীকে ‘বিষাক্ত’ ভাবা উচিত নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল সংকেত, বিষাক্ত সম্পর্ক বা মানসিকভাবে প্রভাবিত করা—এ ধরনের শব্দের ব্যবহার খুব বেশি দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক সব সময় এসব শব্দের সহজ সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।

আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

সঙ্গী যদি একবার কোনো ভুল করে, তবে তাকে বিষাক্ত মানুষ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, তিনি কি একই ধরনের ভুল বারবার করছেন, নিজের ভুল বুঝতে পারছেন কি না এবং ভুল বুঝতে পারলে আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন কি না।

একটি মাত্র রিলস ভিডিও দেখে কারও মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিত্ব বিচার করাও সঠিক নয়। বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হলে আচরণের ধারাবাহিকতা এবং ঘটনার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা জরুরি।

মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক খারাপ নয়

দুজন মানুষের মধ্যে মতের অমিল থাকতেই পারে। তাই মতবিরোধ হলেই সঙ্গী আপনার জন্য সঠিক মানুষ নন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

বরং সম্পর্কের মধ্যে একে অন্যের কথা শোনা, অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। দুজনের মধ্যে মতের অমিল থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের সুযোগ থাকে।

তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, যদি সঙ্গীর আচরণ বারবার অসম্মানজনক হয় অথবা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে থাকে। এমন আচরণ নিয়মিত হলে সম্পর্কের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা প্রয়োজন।

সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কোনো ভিডিওকে নিজের সম্পর্কের চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসেবে না নিয়ে বাস্তব আচরণ, পরিস্থিতি ও সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করাই জরুরি।

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মানসিক শান্তির খোঁজে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে খুললেন বান রুটির দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


মানসিক শান্তির খোঁজে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে খুললেন বান রুটির দোকান

২০ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন চিকিৎসক হিসেবে। সম্মান, দায়িত্ব এবং মানুষের চিকিৎসার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল তার। কিন্তু মানসিক চাপের কারণে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে বাষ্পে রান্না করা পুরভরা রুটির দোকান খুলেছেন চীনের এক নারী। তিন বছর পরে, তার দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং সফলভাবে চলতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তিনি দ্বিতীয় দোকানও খুলেছেন।

৪৮ বছর বয়সী ওই নারীর নাম তুং মিন। চীনের হুপেই প্রদেশের উহানে তার দোকান অবস্থিত। চলতি বছরের জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় দোকানটি চালু করেন।

তুং মিন ১৯৯৯ সালে উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। এরপর শেনচেনে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে, মাকে একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করার জন্য উহানে ফিরে আসেন।

মা অবসর নেওয়ার পর, তারা চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধ করে নিজ শহর থিয়ানমেনে ফিরে যান। সেখানে তুং একটি চিকিৎসকের পদে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চিকিৎসক হিসেবে সেই সময়টিকে তিনি বেশ চাপের বলে উল্লেখ করেছেন। রোগী দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিয়মিত পরিদর্শনসহ নানা অচিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ সামলাতে হতো তাকে।

তিনি জানান, "চীনে হাসপাতাল ও রোগীর সম্পর্ক অনেক সময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।" কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিলে হাসপাতালের আইনগত প্রতিনিধি হিসেবে পুরো দায়ও তাঁকেই নিতে হতো।

তুং বলেন, চিকিৎসক থাকাকালে প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা তার মনে হতো। কিন্তু এখন, প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করেও তিনি মানসিকভাবে কোনো চাপ অনুভব করেন না। বরং ব্যস্ততা ও ক্লান্তির মধ্যেও নিজেকে অনেক বেশি সুখী মনে হয়।

২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের ভাপে রান্না করা পুরভরা রুটির দোকান দেখে তার ব্যবসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। প্রথমে তিনি একটি দোকানে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু একপর্যায়ে দোকানের রাঁধুনি হঠাৎ কাজ ছেড়ে দিলে নিজেই রুটি বানানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন।

খুব দ্রুতই তিনি রুটি বানানোর কৌশল আয়ত্ত করে ফেলেন। কাজটি করতে গিয়ে আনন্দও পেতে শুরু করেন। একসময় চিকিৎসা পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে দোকান পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। কারণ, চিকিৎসক পেশাকে পরিবার ও সমাজে সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখা হয়।

তুং অবশ্য অন্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেননি। তার ভাষায়, "বয়স প্রায় ৫০ বছর। জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি।" তাই অন্যরা কী ভাবছে, তা নিয়ে তিনি আর ভাবতে চান না। নিজের পছন্দের জীবনই বেছে নিতে চান।

ধীরে ধীরে তার মা ও ভাইও সিদ্ধান্তটি মেনে নেন। এখন তারা মাঝে মাঝে দোকানের কাজে তাকে সহযোগিতা করেন।

তুং বলেন, "জীবনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। পরিবর্তন আনার জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না।" যতদিন চলাফেরা করতে পারবেন, ততদিন তিনি নিজের রুটির দোকান চালিয়ে যেতে চান।

চীনে চিকিৎসকদের পেশা পরিবর্তনের এমন ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালে চেচিয়াং প্রদেশের ইউউ শহরের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসাগারে ১৩ বছর কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে পথের পাশে খাবারের দোকান শুরু করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ওই দোকান থেকে তাঁর আয় আগের মাসিক ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

চীনের চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও জানিয়েছে, চিকিৎসকদের সমস্যা শুধু শারীরিক ক্লান্তিতে সীমাবদ্ধ নয়; মানসিক অবসাদও বড় সমস্যা। রোগী দেখার পাশাপাশি চিকিৎসকদের নানা অচিকিৎসাসংক্রান্ত কাজ এবং রোগীর অভিযোগের ঝুঁকি সামলাতে হয়। অথচ তাঁদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবন ও পরিশ্রমের তুলনায় আয় সবসময় সেই অনুপাতে হয় না।

সূত্র: দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে সাংবাদিককে হুমকি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাবেক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


ঝিনাইদহে সাংবাদিককে হুমকি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে সাবেক এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মোন্তাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের অভিযোগে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার কারণে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শৈলকুপা থানায় কর্মরত আছেন।

​

পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলার নং- ১০/২০২৬, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​

আইজিপি বরাবর পাঠানো ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিতর্কিত নারী সাংবাদিক বিউটি খাতুন মিরাজ জামান রাজকে হুমকি দেন। এই ঘটনার পর তিনি ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫২) করেন। পরে ১০ নভেম্বর ওই নারী পাল্টা একটি জিডি করেন। উক্ত নারীর কাউন্টার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সদর থানার এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে রাত ১০টার পর থানায় ডেকে পাঠান।

​

অভিযোগকারী সাংবাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেবিলের সামনে বসিয়ে মোবাইল ফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন এবং অবান্তর প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিক আপত্তি জানালে এবং নিজের পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।

অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ আরও উল্লেখ করেন, উক্ত নারীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতে বিতর্কের রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর পক্ষাবলম্বন করে এমন আচরণ করায় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন।

​

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ বলেন, এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিতর্কিত ওই নারীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি তদন্তপূর্বক এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

​

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মোন্তাহারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে থানায় ডেকেছিলাম, মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা তার ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মোসফেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে উরস শরীফের জন্য দীর্ঘ যাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৮ পি.এম


নদীর বুকে বাঁশের ভেলা, স্রোত পেরিয়ে উরস শরীফের জন্য দীর্ঘ যাত্রা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে চার দিনব্যাপী বাৎসরিক উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২৭ সালের উরস ও বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে আসতে শুরু করেছে বিশাল বাঁশের ভেলা। ভক্তদের কাছে এই বাঁশগুলো ‘নজরানা’ বা খেদমতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বাঁশ একত্রিত করে তৈরি করা হয় এসব ভেলা। এরপর, দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে স্রোত, নাব্যতা এবং নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ভেলাগুলো আটরশি দরবারে পৌঁছে যায়।

দরবার-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে খাজাবাবা ফরিদপুরীর নির্দেশে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় প্রথম ‘নজরানার বাঁশ’ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে এই যাত্রায় যুক্ত ছিল মাত্র দুটি ভেলা। প্রথমদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভেলা ছাড়া হলেও পরে চিলমারী ঘাটকে কেন্দ্র করে এই নৌযাত্রা নিয়মিত হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এই প্রথা।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও নরসিংদী, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অনেক এলাকায় উরসের কয়েক মাস আগে থেকেই বাঁশ সংগ্রহ ও ভেলা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়।

একেকটি বড় ভেলায় ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত বাঁশ থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য বাঁশগুলো বিশেষ কৌশলে বাঁধা হয়। ভেলার ওপর তৈরি করা হয় ছাউনি বা অস্থায়ী ঘর। সেখানে ভক্তদের থাকার, রান্নাবান্না করার এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে। প্রতিটি ভেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভক্ত অবস্থান করেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পরিবর্তে লগি, বৈঠা ও নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে চলে এসব ভেলা।

কুড়িগ্রামসহ দূরবর্তী জেলা থেকে আটরশি দরবারে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে ভক্তরা ভেলার ওপরেই অবস্থান করেন। সেখানে খাবার প্রস্তুত ও বিশ্রামের পাশাপাশি ইবাদত, জিকির, হামদ-নাত ও মোর্শেদি গানে সময় কাটান তারা।

তবে নদীযাত্রা মোটেও সহজ নয়। ভেলাগুলোকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, যমুনা, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমারসহ বিভিন্ন নদী ও খাল পাড়ি দিতে হয়। কোথাও নাব্যতা কম থাকলে ভেলা টেনে নিতে হয়, কোথাও কচুরিপানা কেটে পথ তৈরি করতে হয়। আবার প্রবল স্রোতের বিপরীতে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও দীর্ঘ এই যাত্রার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভেলা তৈরি এবং দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে তা দরবারে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই ভক্তরা খেদমত হিসেবে করেন। তারা বাঁশের কোনো মূল্য নেন না, এমনকি নিজেদের শ্রমের জন্যও কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ বাঁশ সংগ্রহ, ভেলা তৈরি ও পরিবহনের পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় স্বেচ্ছাশ্রমে। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভেলা আটরশি দরবারে পৌঁছালে ভক্তরা মানসিক তৃপ্তি পান বলে জানান।

আটরশি দরবারে পৌঁছানোর পর এসব বাঁশ উরসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। সামিয়ানা ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সাজসজ্জাসহ অন্যান্য আয়োজনে ব্যবহারের পাশাপাশি বাঁশের কিছু অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

দরবার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাঁশের ভেলা নিয়ে যাত্রার জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম বুধবার জলসা এবং বৃহস্পতিবার উষালগ্ন থেকে ভক্তরা ভেলা নিয়ে দরবারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

মাত্র দুটি ভেলা দিয়ে ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই নদীযাত্রা ৫১ বছর পরও তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নদীর স্রোত, নাব্যতা ও দীর্ঘ পথের বাধা পেরিয়ে প্রতিবছর ভক্তদের বহন করে আটরশি দরবারে পৌঁছে এসব বাঁশের ভেলা। পরে সেই বাঁশই ব্যবহৃত হয় উরসের নানা আয়োজনে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণায় যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড

নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে হোটেলে কক্ষ বুকিং, বিকাশের দোকান থেকে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ আদায় এবং সরকারি নিয়োগপত্র ও বিসিএস গেজেট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

কুয়াকাটায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার বাসিন্দা।

প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাসেল বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। কুয়াকাটায় এসে তিনি ওই পরিচয়ে একটি হোটেলে কক্ষ বুক করেন। পরে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, বিয়ের ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তার দুইটি বিয়ে রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন।

সূত্র জানায়, নিজের ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ৪৪তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’র নাম পরিবর্তন করে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ করা হয়। এ জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতারক রাসেল দাবি করেছেন। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্রও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসলে মহিপুর থানার এসআই মো. মাসুদ খানের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে রাসেল হাওলাদারকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত কাগজপত্র ও নথিপত্র যাচাই করা হয়।

পরে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, "নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।"

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%