শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
ঝিনাইদহ সদর থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মোন্তাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের অভিযোগে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, অশালীন আচরণ ও হুমকি দেওয়ার কারণে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শৈলকুপা থানায় কর্মরত আছেন।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা যায়, সাংবাদিকের পক্ষ থেকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। মামলার নং- ১০/২০২৬, তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আইজিপি বরাবর পাঠানো ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার সময় বিতর্কিত নারী সাংবাদিক বিউটি খাতুন মিরাজ জামান রাজকে হুমকি দেন। এই ঘটনার পর তিনি ৫ নভেম্বর ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৫২) করেন। পরে ১০ নভেম্বর ওই নারী পাল্টা একটি জিডি করেন। উক্ত নারীর কাউন্টার জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে তৎকালীন সদর থানার এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজকে রাত ১০টার পর থানায় ডেকে পাঠান।
অভিযোগকারী সাংবাদিকের বক্তব্য অনুযায়ী, থানায় যাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তা তাকে টেবিলের সামনে বসিয়ে মোবাইল ফোনের ভিডিও ক্যামেরা অন করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন এবং অবান্তর প্রশ্ন করতে থাকেন। সাংবাদিক আপত্তি জানালে এবং নিজের পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পরও ওই কর্মকর্তা তাকে গালিগালাজ করেন ও ভয়ভীতি দেখান।
অভিযোগপত্রে সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ আরও উল্লেখ করেন, উক্ত নারীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অতীতে বিতর্কের রেকর্ড রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ওই নারীর পক্ষাবলম্বন করে এমন আচরণ করায় তিনি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ও বিব্রতবোধ করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজ বলেন, এসআই মোন্তাহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিতর্কিত ওই নারীর কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা পেয়ে তিনি আমাকে হয়রানি করেছেন। আমি তদন্তপূর্বক এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. মোন্তাহারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, একটি জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিউটি খাতুন সাংবাদিক মিরাজ জামান রাজের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তাকে থানায় ডেকেছিলাম, মিরাজ জামান রাজের সঙ্গে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা তার ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়।
এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মোসফেকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফ একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে পরিচিত। প্রতি বছর এখানে চার দিনব্যাপী বাৎসরিক উরস শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায়, ২০২৭ সালের উরস ও বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে আসতে শুরু করেছে বিশাল বাঁশের ভেলা। ভক্তদের কাছে এই বাঁশগুলো ‘নজরানা’ বা খেদমতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার বাঁশ একত্রিত করে তৈরি করা হয় এসব ভেলা। এরপর, দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে স্রোত, নাব্যতা এবং নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ভেলাগুলো আটরশি দরবারে পৌঁছে যায়।
দরবার-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে খাজাবাবা ফরিদপুরীর নির্দেশে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় প্রথম ‘নজরানার বাঁশ’ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে এই যাত্রায় যুক্ত ছিল মাত্র দুটি ভেলা। প্রথমদিকে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভেলা ছাড়া হলেও পরে চিলমারী ঘাটকে কেন্দ্র করে এই নৌযাত্রা নিয়মিত হয়ে ওঠে। সময়ের সাথে সাথে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এই প্রথা।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম, রংপুর, লালমনিরহাটসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও নরসিংদী, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে ভক্তরা বাঁশ নিয়ে আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অনেক এলাকায় উরসের কয়েক মাস আগে থেকেই বাঁশ সংগ্রহ ও ভেলা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়।
একেকটি বড় ভেলায় ২ থেকে ৩ হাজার পর্যন্ত বাঁশ থাকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য বাঁশগুলো বিশেষ কৌশলে বাঁধা হয়। ভেলার ওপর তৈরি করা হয় ছাউনি বা অস্থায়ী ঘর। সেখানে ভক্তদের থাকার, রান্নাবান্না করার এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকে। প্রতিটি ভেলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ভক্ত অবস্থান করেন। ইঞ্জিনচালিত নৌযানের পরিবর্তে লগি, বৈঠা ও নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে চলে এসব ভেলা।
কুড়িগ্রামসহ দূরবর্তী জেলা থেকে আটরশি দরবারে পৌঁছাতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে ভক্তরা ভেলার ওপরেই অবস্থান করেন। সেখানে খাবার প্রস্তুত ও বিশ্রামের পাশাপাশি ইবাদত, জিকির, হামদ-নাত ও মোর্শেদি গানে সময় কাটান তারা।
তবে নদীযাত্রা মোটেও সহজ নয়। ভেলাগুলোকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, করতোয়া, যমুনা, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও কুমারসহ বিভিন্ন নদী ও খাল পাড়ি দিতে হয়। কোথাও নাব্যতা কম থাকলে ভেলা টেনে নিতে হয়, কোথাও কচুরিপানা কেটে পথ তৈরি করতে হয়। আবার প্রবল স্রোতের বিপরীতে বৈঠা চালিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও দীর্ঘ এই যাত্রার অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
বাঁশ সংগ্রহ থেকে শুরু করে ভেলা তৈরি এবং দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে তা দরবারে পৌঁছে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটিই ভক্তরা খেদমত হিসেবে করেন। তারা বাঁশের কোনো মূল্য নেন না, এমনকি নিজেদের শ্রমের জন্যও কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। অর্থাৎ বাঁশ সংগ্রহ, ভেলা তৈরি ও পরিবহনের পুরো কাজটি সম্পন্ন হয় স্বেচ্ছাশ্রমে। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভেলা আটরশি দরবারে পৌঁছালে ভক্তরা মানসিক তৃপ্তি পান বলে জানান।
আটরশি দরবারে পৌঁছানোর পর এসব বাঁশ উরসের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। সামিয়ানা ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, সাজসজ্জাসহ অন্যান্য আয়োজনে ব্যবহারের পাশাপাশি বাঁশের কিছু অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।
দরবার-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাঁশের ভেলা নিয়ে যাত্রার জন্য খাজাবাবা ফরিদপুরী একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলা আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহের প্রথম বুধবার জলসা এবং বৃহস্পতিবার উষালগ্ন থেকে ভক্তরা ভেলা নিয়ে দরবারের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মাত্র দুটি ভেলা দিয়ে ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই নদীযাত্রা ৫১ বছর পরও তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। নদীর স্রোত, নাব্যতা ও দীর্ঘ পথের বাধা পেরিয়ে প্রতিবছর ভক্তদের বহন করে আটরশি দরবারে পৌঁছে এসব বাঁশের ভেলা। পরে সেই বাঁশই ব্যবহৃত হয় উরসের নানা আয়োজনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে হোটেলে কক্ষ বুকিং, বিকাশের দোকান থেকে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ আদায় এবং সরকারি নিয়োগপত্র ও বিসিএস গেজেট জালিয়াতির অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
কুয়াকাটায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার বাসিন্দা।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাসেল বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। কুয়াকাটায় এসে তিনি ওই পরিচয়ে একটি হোটেলে কক্ষ বুক করেন। পরে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, বিয়ের ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, তার দুইটি বিয়ে রয়েছে এবং প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন।
সূত্র জানায়, নিজের ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ৪৪তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’র নাম পরিবর্তন করে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ করা হয়। এ জন্য এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতারক রাসেল দাবি করেছেন। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্রও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের নজরে বিষয়টি আসলে মহিপুর থানার এসআই মো. মাসুদ খানের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে রাসেল হাওলাদারকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত কাগজপত্র ও নথিপত্র যাচাই করা হয়।
পরে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, "নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একত্রিত করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবিধা যেন বিশ্ববাসী সমানভাবে পায়, সেই উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের জন্য আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে তিনি এই বক্তব্য দেন।
নারীদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে দেশে ফ্যামিলি কার্ড এবং স্পোর্টস কার্ডের বিষয়টিও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেকনোলজি এবং বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। যদিও প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবুও এর সুবিধা এখনো সবার জন্য সমান নয়।
বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, "আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।"
রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমার, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, "জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সংকটের একমাত্র সমাধান।"
সূত্র: ইউএনবি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আজ শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে জুমার নামাজ আদায় করবেন। আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন শায়খ অধ্যাপক ড. ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দোসারি। অপরদিকে, মসজিদে নববীতে জুমার নামাজ পড়াবেন শায়খ ড. সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-বুদাইর। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মসজিদুল হারামে ইমাম ইয়াসির আদ-দোসারি
শায়খ ইয়াসির বিন রাশিদ আদ-দোসারি মক্কার মসজিদুল হারামের পরিচিত ইমামদের মধ্যে অন্যতম, যার বয়স ৪৬ বছর। ১৯৮০ সালে সৌদি আরবের আল-খারজে তার জন্ম। তিনি শৈশবকাল থেকেই পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছেন।
ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়াহ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তুলনামূলক ইসলামী আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। ২০১৯ সালে তিনি মসজিদুল হারামের সর্বকনিষ্ঠ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোরআন তিলাওয়াতের স্বতন্ত্র ধরণ ও সুমধুর কণ্ঠের কারণে তিনি মুসল্লিদের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন।
আজকের সূচি অনুযায়ী, মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন ইয়াসির আদ-দোসারি।
মসজিদে নববীতে ইমাম সালাহ আল-বুদাইর
শায়খ ড. সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-বুদাইর সৌদি আরবের একটি পরিচিত আলেম, ইমাম ও বিচারক। ১৯৭০ সালের ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবের হুফুফে তার জন্ম। শৈশব থেকেই তিনি পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেন এবং পরে শরিয়াহ বিষয়ে পড়াশোনা করেন।
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি করেছেন এবং বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি মসজিদে নববীতে তারাবির অতিথি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী বছর তাঁকে স্থায়ী ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি মদিনার উচ্চ আদালতের বিচারকের দায়িত্বও পালন করেন।
আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) মসজিদে নববীতে জুমার নামাজের ইমামতি করবেন সালাহ আল-বুদাইর। সরকারি সূচি অনুযায়ী, আজ মসজিদে নববীতে জুমার নামাজের পর আসর ও অন্যান্য নামাজের জন্য আলাদা ইমাম নির্ধারিত রয়েছেন।
দুই পবিত্র মসজিদে নামাজের ফজিলত
মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দুই পবিত্র স্থান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তাঁর মসজিদে এক ওয়াক্ত নামাজ অন্য মসজিদে এক হাজার ওয়াক্ত নামাজের চেয়ে উত্তম—তবে মসজিদুল হারাম এর ব্যতিক্রম। এ বর্ণনাটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে।
আরেক বর্ণনায় মসজিদুল হারামে নামাজের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মসজিদুল হারামের এক নামাজ কত নামাজের সমান—এ বিষয়ে বর্ণনা ও আলেমদের ব্যাখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি উল্লেখ না করে বলা যায়, সেখানে নামাজের মর্যাদা ও সওয়াব অত্যন্ত বেশি।
এছাড়া সহিহ হাদিসে মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসাকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ তিন মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজকের জুমায় মক্কার মসজিদুল হারামে ইয়াসির আদ-দোসারি এবং মদিনার মসজিদে নববীতে সালাহ আল-বুদাইরের ইমামতিতে নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা।
সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ