ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

৫.২ মাত্রার ভূকম্পে কাঁপল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান


৫.২ মাত্রার ভূকম্পে কাঁপল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু এলাকা এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রথমে মাত্রা ৫ দশমিক ৮ হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু পরে তা সংশোধন করে ৫ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১১০ কিলোমিটার নিচে।

আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানায়, ভূমিকম্পের কারণে কাবুল, নানগারহারসহ আশপাশের বেশ কিছু প্রদেশ কেঁপে ওঠে। কিন্তু দেশটিতে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস লাতিনো ভোটাররা

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা এবং উত্তরের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চল, যা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে কম্পনের ফলে দুই দেশে কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, জিও নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বিরোধীদলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে গেলে কী করবেন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


‘বিরোধীদলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে গেলে কী করবেন’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের নেতাদের জন্য ন্যায়বিচারের কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?"

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ডা. তাসনিম জারা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই বিষয়গুলি উল্লেখ করেন।

তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, "আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।"

ডা. তাসনিম জারা আরও লেখেন, "শনিবার সকাল দশটার দিকে ৮৭ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মানুষ, মানিক পশারী, মারা গেছেন। সারাদিন তার পরিবারকে মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হয়েছে। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন, মাইকে আর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন, পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "তার জন্য বাড়িতে প্রথমে একটা কবর খোঁড়া হয়েছিল। মেয়ে সীমু আক্তার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, কিছু মানুষ এসে তা ভরাট করে ফেলে। পরে ফুফুদের নিয়ে আমি নতুন কবর খুঁড়ি। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কবর খুঁড়তে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে। অবশেষে মাঝরাতের পর পুলিশ পাহারায়, মেয়ে আর বোনেদের খোঁড়া সেই কবরে ওনার দাফন হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন ছাড়া পরিবারের বাইরের আর কেউ সেখানে ছিলেন না।"

এনসিপির সাবেক এই নেত্রী আরও লেখেন, "এই বৃদ্ধ মানুষটি একজন সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সেদিন বলেছেন—মানিক পশারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা; তাকে গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না, পিরোজপুরের মাটিতে দাফনও করতে দেওয়া হবে না। দাফনের পর সেই একই নেতা বলেছেন—জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।"

তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন, "মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেই প্রশ্নের মীমাংসা তারা করবেন দাফন করা ঠেকিয়ে দিয়ে, মাইক হাতে নিয়ে। আমাদের দেশে জানাজার আগে মৃতের ছেলে বা ভাই সবার সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমার আব্বা যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, মাফ করে দেবেন।’ আমরা মাফ করে দিই। কারণ মৃত্যুর পর মানুষের সব হিসাব-নিকাশ শেষ। যা বাকি থাকে, তার বিচার আল্লাহর হাতে। শনিবার পিরোজপুরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অন্য পথে হেঁটেছেন। নিজের গ্রামে মানিক পশারীর জানাজাটুকুও হয়নি। গ্রামের মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে মাফ চাওয়ার সুযোগটুকুও পায়নি তার পরিবার।"

ডা. তাসনিম জারা আরও লেখেন, "‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে। ওনাদের একসময় একই ভাষায় বলা হতো, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।’ এটা যে কেমন অন্যায় কথা, সেটা ওনাদের ভালোই জানার কথা। কিন্তু ক্ষমতা একটু হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই, বিরোধীদলে থাকতেই, সেটা ভুলে গেছেন। একাত্তরে জামায়াত দল হিসেবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই দলের নেতাকর্মীরা আজ ঠিক করে দিতে চাইছেন কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে ভুয়া, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন আর কার কবর কোথায় হবে।"

তিনি লেখেন, "নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ। ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদরাসাছাত্র ইয়াসিন দুই দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


মাদরাসাছাত্র ইয়াসিন দুই দিন ধরে নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

কুমিল্লা সদর এলাকার একটি এতিমখানা মাদরাসা থেকে মো. ইয়াসিন (১৩) নামে এক হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী দুই দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মাস্টার্স মিশন এতিমখানা মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে তার পরিবার।

নিখোঁজ ইয়াসিনের মামাতো ভাই পুলিশ সদস্য মো. রানা ও চাচা রমজান সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইয়াসিন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেনের ছেলে। সে মাস্টার্স মিশন এতিমখানা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

ইয়াসিনের বাবা কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় তার ছেলের পরনে ছিল নীল রঙের পাঞ্জাবি এবং মাথায় সাদা টুপি। ছেলেকে খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন। তবে এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

মাস্টার্স মিশন এতিমখানা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ইজাজুল হক বলেন, ‘এতিমখানা থেকে সিহাব ও ইয়াসিন নামে দুই শিক্ষার্থী কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঢাকার তেজগাঁও এলাকা থেকে সিহাবকে উদ্ধার করে। তবে ইয়াসিনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

নিখোঁজ ইয়াসিনের সন্ধান পেলে অথবা তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল আড়াই বছরের শিশু জাবিদ জারিফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


কালীগঞ্জে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল আড়াই বছরের শিশু জাবিদ জারিফের

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে আড়াই বছরের একটি শিশুর, যার নাম জাবিদ জারিফ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বেতলী গ্রামে ঘটে এই দুর্ঘটনা।

নিহত শিশুটি সৌদি আরবের প্রবাসী আহমদ আলীর পুত্র।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় শিশু জাবিদ জারিফ পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে জানান, ‘জাবিদ জারিফ নামে আড়াই বছরের এক শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’

এদিকে, শিশু জাবিদ জারিফের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় বেতলী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে সন্তানদের বিরোধ, বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে সন্তানদের বিরোধ, বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণ হয়নি

বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল যে তিনি নিজের পছন্দের স্থানে সমাহিত হবেন। তবে মৃত্যুর পর বড় ছেলে তিন ভাইবোনের কোনো কথাই শুনলেন না। বাকি ভাইবোনদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তিনি বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে গত ১৮ অক্টোবর রবিবার, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। পরিবার এবং স্থানীয় জনগণের দাবি, তাঁর মৃত্যুর আগে দেওয়া কথা অনুযায়ী যেন প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আলী হোসেনের ডাঙ্গী এলাকার প্রয়াত খলিলুর রহমান একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। গত ১৮ অক্টোবর তাঁর মৃত্যুর পর পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং তাঁর নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে ওহাব জমাদ্দার বাকি তিন ভাইবোনের কোনো মতামত বা অনুরোধের তোয়াক্কা করেননি। তিনি একক সিদ্ধান্তে বাবার মরদেহ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্য জায়গায় দাফন সম্পন্ন করেন। এই ঘটনার পর খলিলুর রহমানের স্ত্রী, বাকি দুই মেয়ে এবং অন্য এক সন্তান তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বড় ভাই ওহাব জমাদ্দার কেবল তাঁদের আবেগকে আঘাত করেননি, বরং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছার চরম অবমাননা করেছেন।

তার মেয়ে শেফালী বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাবা বেঁচে থাকতে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা আমাদের বলে গিয়েছিলেন। আমরা সব ভাইবোন মিলে বাবার সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বড় ভাই আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। তিনি জোরপূর্বক বাবাকে নিজের কাছে নিয়ে কবর দিলেন। আমরা এই একনায়কতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

তার আরেক সন্তান আব্দুর রব জমাদ্দার বললেন, “বাবা বেঁচে থাকতে বলেছিলেন তার মৃত্যুর পর তাকে যেন এলাকার গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়। আমরা সবাই তাই চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছা আমার বড় ভাই পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই আমার বাবাকে সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে এসে গোরস্থানে তার ইচ্ছার মতো কবর দেওয়া হোক। কারণ তাকে যেখানে কবর দেওয়া হয়েছে সেই জায়গাটি খুব ভালো জায়গা না। আমার বাবার কবর এভাবে আমরা দেখতে চাই না।”

এলাকার বাসিন্দা হাজী ইমদাদুল হক বললেন, “আমরা শুনেছিলাম তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে যেন বাড়ির পাশে গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়। তবে সেই আশা তার বড় সন্তান পূরণ করতে দেয়নি। আমরা চাই এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর যেন তার ইচ্ছামাফিক করা হয়।”

খলিলুর রহমানের স্ত্রী রুবিয়া বেগম বললেন, “আমার স্বামী মৃত্যুর আগে তার কবরের কথা গোরস্থানে যেন হয়, সেই কথা বলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর দিন তার লাশ জোর করে অন্যত্র নিয়ে কবর দিয়েছেন। এই কাজটি সঠিক হয়নি। তার ইচ্ছা থাকায় পরিবার ও এলাকাবাসী সবাই চেয়েছিল তার লাশ যেন গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়।”

এদিকে তার বড় ছেলে ওহাব জমাদ্দার বললেন, “আমার বাবার এটা পুরান বাড়ি। সে এক সময় এই বাড়িতে বসবাস করতেন। আমি তার মৃত্যুর পরে তাকে তার সেই পুরাতন বাড়িতে নিয়ে এসে কবর দিয়েছি। এখন আমার ভাই-বোন মিথ্যা কথা বলছে।”

ফরিদপুরের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পাখি বললেন, “তিনি বেঁচে থাকতে আমাদের কাছে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন গোরস্থানে কবর দেওয়া হয়। তখন তিনি বলেছিলেন আলিপুর গোরস্থানের কথা। তবে তার বড় ছেলে সেই আশা পূরণ করতে দেয়নি। তার লাশ নিয়ে একটা রাজনীতি হয়েছে। এটা আসলে আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা চাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধা খলিল ভাই যেখানে তার ইচ্ছার কথা বলে গিয়েছিলেন সেখানেই যেন কবর দেওয়া হয়। প্রয়োজন এখন তার লাশ সেখান থেকে নিয়ে এসে প্রশাসন যেন তার মৃত্যুর আগে দেওয়া কথার বাস্তবায়ন করে দেন।”

এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর কেন এভাবে পারিবারিক বিরোধের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন তার মৃত্যুর আগে দেওয়া কথা যেন প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%