ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেলজিয়ামের মদের কারখানার ড্রেন খনন করে পাওয়া গেল ১২৭ কোটি টাকার সোনা!


বেলজিয়ামের মদের কারখানার ড্রেন খনন করে পাওয়া গেল ১২৭ কোটি টাকার সোনা!

বেলজিয়ামে পরিত্যক্ত একটি মদের কারখানার পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন খননকালে শ্রমিকরা প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো অথবা ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনা এবং মূল্যবান প্রাচীন মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী ব্রাসেলসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ড এলাকায় একটি ড্রেনেজ লাইনের পুরোনো পাইপ বদলানোর কাজ চলছিল। এই কাজের জন্য গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে ১৮ বছর বয়সী তরুণ কোবে কর্মরত ছিল। কাজের সময় মাটির নিচে থাকা সোনার প্রথম সন্ধানটি তিনিই পেয়েছিলেন।

কোবে জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি মাটিতে কিছু মুদ্রা দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে তিনি এবং তার সহকর্মীরা ধরে নিয়েছিলেন, সেগুলো সম্ভবত এক ইউরোর মুদ্রা। পরে তারা একটি সোনার বার দেখতে পান। এরপর আরও খনন চালানোর পর বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরা এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এই সোনার বারগুলো একটি ব্যাগের ভেতর জমা ছিল এবং তা সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডের একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষে ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।

জানা যায়, ঐ ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং এটি ১৯৭০ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমানে ঐ পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলানো হচ্ছে। এর নির্মাণকাজের সময় আবিষ্কৃত বিপুল সোনা এবং মূল্যবান মুদ্রার কারণে কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করে।

পরে উদ্ধার করা সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস এবং প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সোনা চুরি করা হয়েছিল কি না এবং এসবের সঙ্গে কোনো অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। তার পর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সন্ধান পাওয়া সম্পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিরা বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি বৈধ দাবিদার পাওয়া যায় তবে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

কোবে, ১৮ বছর বয়সী সেই তরুণ, আশা করছেন যে এত বড় সম্পদের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি এবং তার সহকর্মীরা বড় কোনো পুরস্কার বা সম্মানী পেতে পারেন।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলেন ২ যুবক, এরপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৪ পি.এম


প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছিলেন ২ যুবক, এরপর...

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর উপজেলার জাগুরজুলি এলাকায় সাদা রঙের একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি থেকে ১৫ কোটি টাকা মূল্যমানের ৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ দুজন যুবককে আটক করা হয়েছে। ওই গাড়িটি জব্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- ফয়সাল হোসেন (২৫) এবং গাড়িচালক আমান উল্লাহ (৩৫)। তাদের উভয়ের আবাসস্থল কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকায়।

এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ্।

তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী একটি সাদা রঙের প্রাডো গাড়িকে থামিয়ে তল্লাশি করার সময় স্কচটেপ মোড়ানো এসব ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এদিকে, ইয়াবা জব্দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, আটক দুজনের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে ইয়াবার চালানটি কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোলেস্টেরল কমাতে তোকমা দানার উপকারিতা, খাবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


কোলেস্টেরল কমাতে তোকমা দানার উপকারিতা, খাবেন যেভাবে

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য অনেকেই খাবারের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। এ ক্ষেত্রে প্রায়ই চিয়া বীজ বা ইসবগুলের নাম শোনা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তোকমা বা তুলসীর বীজ স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নিয়মিত এই বীজ খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছুটা উপকার মিলতে পারে, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।

তোকমা বা তুলসীর বীজ দেখতে ছোট ও কালো এবং পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বীজগুলো ফুলে গড়িয়ে জেলির মতো আবরণ তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, আয়রন, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, পলিফেনল, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। অনেকের কাছে এটি সবজা বীজ নামেও পরিচিত।

মধুমেহ রোগের চিকিৎসক আশিস মিত্র জানিয়েছেন, তোকমার বীজে থাকা দ্রাব্য ডায়েটারি ফাইবার পানির সাথে ভিজে জেলির মতো হয়ে যায়। এই ধরনের ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণে প্রভাব ফেলতে সক্ষম। পাশাপাশি, এটি পিত্তথলি থেকে নিঃসৃত অ্যাসিড শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় সহায়তা করতে পারে। এর ফলে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তোকমার বীজ কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

চিকিৎসক আরও বলেন, ‘শুধু তুলসীর বীজ নয়, চিয়া বীজ বা ইসবগুল আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয়। মূল কথা হল, এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এগুলি খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কমতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, খাবারের মাধ্যমে যে কোলেস্টেরল আমরা পাই, তার শোষণে প্রভাব ফেলে। লিভার থেকে যে কোলেস্টেরল তৈরি হয়, তার উপর তেমন কোনও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে না। শরীরে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলকে কমানোর জন্য শুধু এই বীজ খেলে হবে না। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করাও প্রয়োজন এবং ওষুধও নেওয়া লাগতে পারে।’

সুতরাং, কোলেস্টেরল কমানোর জন্য শুধু তোকমা খাওয়া অনুশীলন করলেই হবে না। খাবারের ধরন ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও গ্রহণ করতে হতে পারে।

তোকমা, চিয়া বীজ বা ইসবগুল খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ হলো, এগুলো পানিতে ভিজিয়ে টক দই বা ইয়োগার্টের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। আবার সামান্য গরম বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে ইসবগুল ভিজিয়ে খাওয়াও সম্ভব। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে বা কোলেস্টেরলের জন্য ওষুধ খেলে খাদ্যতালিকায় এসব যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার সিগারেট ও আইফোন জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৫ পি.এম


বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার সিগারেট ও আইফোন জব্দ

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট এবং ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ এসব পণ্যের মোট মূল্য ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৮ এর তিন যাত্রীর কাছ থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন-মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া নুরুল আলম রিয়াদ নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন- মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।

এনবিআর আরও জানায়, অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে। একই বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ওপর ৬২১ শতাংশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে জব্দ ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোনের প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। আটক যাত্রীদের বিমানবন্দরের কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতীয় পাইলটদের মাদক পরীক্ষায় একাধিক গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:৩৭ পি.এম


ভারতীয় পাইলটদের মাদক পরীক্ষায় একাধিক গ্রেফতার

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট, যা মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, এই ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়া মানে চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল আসার পরেই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের এই পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, যার ফলে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরবর্তী সময়ে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।

ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয় এবং ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার তালিকা থেকে নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে এমন তথ্য একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।

তবে এ নিয়মে, কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া এবং সময়কালীন ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় আলাদা। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইটের তথ্য, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখছেন।

ঘটনাটির পেছনে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থার চাপ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে কাজ করেনি। হাইড্রোলিক চাপ আবার ফিরে আসলে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়।

এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধুমাত্র পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো এই ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে এবং এয়ারবাস ও ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরা কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।

এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করেই করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, তাদের নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর তদন্তের দুটি দিক বিশেষ প্রাধান্য পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কারণগুলো ভূমিকা রেখেছিল, সেই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%