প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বেলজিয়ামে পরিত্যক্ত একটি মদের কারখানার পয়ঃনিষ্কাশনের ড্রেন খননকালে শ্রমিকরা প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো অথবা ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনা এবং মূল্যবান প্রাচীন মুদ্রার সন্ধান পেয়েছেন।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানী ব্রাসেলসের প্রায় ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ড এলাকায় একটি ড্রেনেজ লাইনের পুরোনো পাইপ বদলানোর কাজ চলছিল। এই কাজের জন্য গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে ১৮ বছর বয়সী তরুণ কোবে কর্মরত ছিল। কাজের সময় মাটির নিচে থাকা সোনার প্রথম সন্ধানটি তিনিই পেয়েছিলেন।
কোবে জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি মাটিতে কিছু মুদ্রা দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে তিনি এবং তার সহকর্মীরা ধরে নিয়েছিলেন, সেগুলো সম্ভবত এক ইউরোর মুদ্রা। পরে তারা একটি সোনার বার দেখতে পান। এরপর আরও খনন চালানোর পর বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরা এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
এই সোনার বারগুলো একটি ব্যাগের ভেতর জমা ছিল এবং তা সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডের একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষে ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকানো ছিল।
জানা যায়, ঐ ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। সেখানে ১৮৯৯ সালে মদ উৎপাদন শুরু হয় এবং এটি ১৯৭০ সালে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে ঐ পুরোনো ভবনটি সংস্কার করে কার্যালয় ও আবাসন তৈরির কাজ চলানো হচ্ছে। এর নির্মাণকাজের সময় আবিষ্কৃত বিপুল সোনা এবং মূল্যবান মুদ্রার কারণে কর্তৃপক্ষ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করে।
পরে উদ্ধার করা সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে রাখা হয়। এসব সম্পদের উৎস এবং প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে এখন তদন্ত চলছে।
পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, সোনা চুরি করা হয়েছিল কি না এবং এসবের সঙ্গে কোনো অপরাধের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। তার পর সম্পদের বৈধ মালিকানা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
সন্ধান পাওয়া সম্পদের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে ভবনটির মালিকপক্ষ, নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিরা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিকের দাবির জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি বৈধ দাবিদার পাওয়া যায় তবে সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কোবে, ১৮ বছর বয়সী সেই তরুণ, আশা করছেন যে এত বড় সম্পদের ভাণ্ডার খুঁজে পাওয়ার জন্য তিনি এবং তার সহকর্মীরা বড় কোনো পুরস্কার বা সম্মানী পেতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন