ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা


এল নিনোর প্রভাবে ছয় মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল এবং পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটি এই আশঙ্কার কথা জানায়।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইরান যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকট ও জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই চলছে।

গবেষণার সহলেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।

গ্রিনস্টোন বলেন, "আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।" ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।

গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে বলে গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক 'সাহেল অঞ্চল' সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০; ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে। এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

এর মধ্যে রয়েছে দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা। পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য 'পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের' আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম দাবদাহের দিন তৈরি করবে। সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা। গবেষকেরা বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতিকে ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি 'আগাম বার্তা' হিসেবেও দেখছেন। তাদের মতে, এর ফলে যে মাত্রার তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু সংকটের কারণে প্রায় ২০ বছর পর সেটিই স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পরিণত হতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুগল রেটিংয়ে ইংল্যান্ডের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে শীর্ষে অ্যানফিল্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ পি.এম


গুগল রেটিংয়ে ইংল্যান্ডের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে শীর্ষে অ্যানফিল্ড

ইংল্যান্ডের ফুটবল স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে গুগল রেটিংয়ে শীর্ষে রয়েছে লিভারপুলের অ্যানফিল্ড। ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের রেটিং ৪.৭, যা ৫৪ হাজার ৫৪৬টি ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে। একই রেটিং অর্জন করেছে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম এবং নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ড। তবে, অ্যানফিল্ডের ভোটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে।

ফুটবল লিগের প্রতিটি দলের হোম গ্রাউন্ডের গুগল রেটিং সংগ্রহ করে তৈরি করা তালিকায় সর্বোচ্চ রেটিং ৪.৭ এবং সর্বনিম্ন ৪.০। সমান রেটিংয়ের ক্ষেত্রে বেশি ভোট পাওয়া স্টেডিয়ামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অ্যানফিল্ডের পর ৪.৭ রেটিং নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়াম, যেখানে ভোট পড়েছে ২৬ হাজার ৫৪৫টি। অন্যদিকে, নটিংহাম ফরেস্টের সিটি গ্রাউন্ড ২ হাজার ২৪৫ ভোটের ভিত্তিতে ৪.৭ রেটিং পেয়েছে।

৪.৬ রেটিং নিয়ে পরবর্তী সারিতে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওল্ড ট্রাফোর্ড, আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়াম, ম্যানচেস্টার সিটির সিটি অব ম্যানচেস্টার স্টেডিয়াম, চেলসির স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেন্ট জেমস পার্ক এবং লিডস ইউনাইটেডের এল্যান্ড রোড।

চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া মাঠ হলো উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মলিনিউক্স, যার রেটিং ৪.৬ এবং ভোটের সংখ্যা ৭ হাজার ৪০৮। লিগ ওয়ানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে লেস্টার সিটির কিং পাওয়ার স্টেডিয়াম, যার রেটিং ৪.৬। লিগ টুতে সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছে এক্সেটার সিটির সেন্ট জেমস পার্ক, যার রেটিং ৪.৫।

প্রিমিয়ার লিগের স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রেটিং রয়েছে হাল সিটির এমকেএম স্টেডিয়ামের, যা ৩ হাজার ৬৭৬টি ভোটে ৪.৩ রেটিং পেয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের লফটাস রোডের রেটিং ৪.১।

পুরো ইংলিশ ফুটবল লিগে মাত্র দুটি মাঠের রেটিং ৪.০। সেগুলো হলো অক্সফোর্ড ইউনাইটেডের কাসাম স্টেডিয়াম এবং স্টিভেনেজের স্পোর্টা অ্যারেনা।

সিরি আতে পাঁচ রাউন্ডে কোনো গোলশূন্য ম্যাচ হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সিরি আতে পাঁচ রাউন্ড শেষ হলেও এখনো কোনো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়নি। গত ৩০ বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এটি ২০১৫-১৬ মৌসুমের সমান, যখন পঞ্চম রাউন্ডে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল।

তবে ইংলিশ ফুটবলে গোলশূন্য ড্রয়ের জন্য অপেক্ষার নজির আরও দীর্ঘ। ১৮৮৯-৯০ মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল ১৭তম রাউন্ডে। দ্বিতীয় স্তরে ১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথম গোলশূন্য ম্যাচের দেখা মিলেছিল ২৫তম ম্যাচে। স্কটল্যান্ডের তৃতীয় স্তরে ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম ০-০ ড্র হয়েছিল ২৫তম রাউন্ডে।

ফুটবল সমর্থকদের রেপ্লিকা জার্সি পরার ইতিহাসও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ১৯৭৩ সালে লিডস ইউনাইটেডের জার্সিকে সমর্থকদের জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক রেপ্লিকা কিট হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পাঠকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকের আরও আগের কিছু উদাহরণের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ছোট মাঠে শিরোপা জয়ের নজির

লিগ জয়ের সময় সবচেয়ে কম ধারণক্ষমতার মাঠ নিয়ে থাকা ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ যুগে ১৯৯৫ সালে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের এউড পার্কে দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৩১ হাজারের কিছু বেশি। ২০০৪ সালে আর্সেনালের হাইবারিতে ধারণক্ষমতা ছিল ৩৮ হাজার ৪১৯।

২০১৬ সালে লিগ শিরোপা জয়ের সময় লেস্টার সিটির কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার ২৫৯। এরও আগে, ১৯৬১-৬২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইপসউইচ টাউনের পোর্টম্যান রোডকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে লিগ শিরোপা জেতা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ছোট মাঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ছিল প্রায় ২৯ হাজার দর্শক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিকশাচালক থেকে হ্যাকিং গুরু: ওহিদুল মোল্লার কাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


রিকশাচালক থেকে হ্যাকিং গুরু: ওহিদুল মোল্লার কাহিনী

রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে রিকশাচালক হয়ে ওঠা ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা নাটোরের লালপুরে হঠাৎ করে পরিবর্তিত হয়। রিকশা চালানো ছেড়ে হ্যাকিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। এর ফলে তিনি এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

ওহিদুল মোল্লা (৩২) লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রাব্বেল মোল্লার পুত্র। পুলিশ জানায়, তিনি হ্যাকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিজের বাড়ি ও আশপাশে অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কবুতরের খামারের আড়ালে গোপন আস্তানা তৈরি করে সেখানেই হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতেন।

ওহিদুলের চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি ওহিদুল। মাদ্রাসার পড়াশোনা বন্ধ করে দিনমজুরি এবং পরে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে হঠাৎ রিকশা চালানো ছেড়ে স্থানীয় হ্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি।

অল্প সময়ের মধ্যে হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন ওহিদুল। পরে তার তত্ত্বাবধানে একটি বড় হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন।

স্থানীয়দের মতে, মোহরকয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ির পাশাপাশি বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর তীরে আরেকটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। তার রয়েছে মহিষ ও কবুতরের বড় খামার। বাড়িটি উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রবেশের জন্য একটি মাত্র ফটক রয়েছে। স্থানীয়দের যাতায়াত কম হলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে তরুণদের আনাগোনা দেখা যেত।

পুলিশ জানায়, কবুতরের খামারের একটি ঘরকে হ্যাকিংয়ের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওহিদুল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ওই কক্ষে স্মার্ট মনিটর, ওয়াইফাই ও খাট ছিল। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের বসবাসের বিষয়টি বোঝার উপায় ছিল না।

পুলিশের নজরদারি থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৬৮টি সিম কার্ডের অদলবদল করা হতো। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছকের মাধ্যমে লেখা ছিল। বিকাশ, নগদ ও রকেটের হিসাব রাখতেও সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।

স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণ জানতে চাইলে ওহিদুল বলতেন, কবুতর ও মহিষ চুরি ঠেকাতে এগুলো লাগানো হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, পুলিশের গতিবিধি নজরদারির জন্যও ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হতো।

পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ওই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করতেন ওহিদুল। তিনি দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন যাতায়াতের জন্য। অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে দামি গাড়ি ভাড়া করে রাজশাহী ও পাবনায় যাতায়াত করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রাইভেটকার চালক।

তবে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং নানা কৌশল অবলম্বনের পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাননি ওহিদুল।

লালপুর থানা সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে মোহরকয়া গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কবুতরের খামারের ওই গোপন কক্ষ থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ওহিদুলসহ ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আলামিন (২৩) নামে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন।

আলামিন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ।

অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

মামলায় ওহিদুলসহ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুলের কাছ থেকে আশপাশের অনেক মানুষ হ্যাকিং শিখে এই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


সরকার ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ও ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিল

দেশের বর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার আমদানি করার অনুমোদন প্রদান করেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চলতি বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ৪৬তম সভায় এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।

প্রথম প্রস্তাবের আওতায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য খুলনার ফুলতলার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’কে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। কর ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর ফলে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম দাঁড়াচ্ছে ৭৬ দশমিক ৮৯ টাকা।

এছাড়া, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মোট চার লটে সার আমদানির সুপারিশও করেছে কমিটি।

দ্বিতীয় প্রস্তাবের অধীনে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশনের (সিসিসি) মধ্যে চুক্তির আওতায় দুই লটে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। চুক্তির ৩য় লটে সিসিসি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই চুক্তির ৪র্থ লটের আওতায় সমপরিমাণ (৪০ হাজার মেট্রিক টন) এমওপি সার একই দামে (৩৮৩.৮০ ডলার) কেনার প্রস্তাব রয়েছে, যার ব্যয়ও প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের (প্রডিনটর্গ) সঙ্গে বিএডিসির মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাক্ষরিত আরেকটি চুক্তির আওতায় ৭ম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার হিসাবে এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরবরাহকারী হিসেবে প্রডিনটর্গকেই সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, বিএডিসি ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘মা’আদেন’-এর চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের ৪র্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ মার্কিন ডলার হিসাবে এতে খরচ হবে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সরবরাহকারী কোম্পানি হিসেবে মা’আদেন-এর নাম সুপারিশ করা হয়েছে।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপিত এসব ক্রয় ও আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিষ্টি খেয়ে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ পি.এম


মিষ্টি খেয়ে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে

পকেটে অর্থ নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব করছিল। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় কিশোর নূর মোহাম্মদ সেটি কেড়ে নেয়। প্যাকেট খুলে ভাতের পরিবর্তে মিষ্টি পেয়ে সে কয়েকটি খেয়ে ফেলে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নূর মোহাম্মদকে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা দেন। জরিমানা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের কাছে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার মতো টাকা ছিল না। তার অসহায়ত্বের কথা শুনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহ-হাজতি এগিয়ে আসেন। তিনি কিশোরকে ১০০ টাকা দেন। সেই টাকা থেকে ৫০ টাকা সরকারি জরিমানা পরিশোধ করে মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে বাকি ৫০ টাকা নিয়ে সন্ধ্যার পর নড়াইলের উদ্দেশে রওনা দেন নূর মোহাম্মদ।

নূর মোহাম্মদ জানায়, তার বাড়ি নড়াইলে। সে যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজ করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিনা টিকিটে নড়াইল যাওয়ার জন্য যশোর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিল।

নূর মোহাম্মদের ভাষ্য, এ সময় তার প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব হয়। কিন্তু পকেটে কোনো টাকা না থাকায় উপায় না দেখে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট কেড়ে নেয়। পরে প্যাকেট খুলে ভাতের পরিবর্তে মিষ্টি দেখতে পেয়ে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলে।

এ সময় ওই পথচারী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে আসে। তারা নূর মোহাম্মদকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর পুলিশের মাধ্যমে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের আদেশে এক রাত হাজতে থাকার পর সহ-হাজতির দেওয়া ১০০ টাকার ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায় এই কিশোর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%