বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:২৮ পি.এম
রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে রিকশাচালক হয়ে ওঠা ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা নাটোরের লালপুরে হঠাৎ করে পরিবর্তিত হয়। রিকশা চালানো ছেড়ে হ্যাকিংয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। এর ফলে তিনি এলাকায় ‘হ্যাকিং গুরু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
ওহিদুল মোল্লা (৩২) লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রাব্বেল মোল্লার পুত্র। পুলিশ জানায়, তিনি হ্যাকিং কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য নিজের বাড়ি ও আশপাশে অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। কবুতরের খামারের আড়ালে গোপন আস্তানা তৈরি করে সেখানেই হ্যাকিং কার্যক্রম চালাতেন।
ওহিদুলের চাচাতো ভাই সেন্টু মোল্লা জানান, বাবার মৃত্যুর পর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি ওহিদুল। মাদ্রাসার পড়াশোনা বন্ধ করে দিনমজুরি এবং পরে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে হঠাৎ রিকশা চালানো ছেড়ে স্থানীয় হ্যাকারদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন তিনি।
অল্প সময়ের মধ্যে হ্যাকিংয়ে দক্ষতা অর্জন করেন ওহিদুল। পরে তার তত্ত্বাবধানে একটি বড় হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হন।
স্থানীয়দের মতে, মোহরকয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ির পাশাপাশি বিলমাড়িয়ায় পদ্মা নদীর তীরে আরেকটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন তিনি। তার রয়েছে মহিষ ও কবুতরের বড় খামার। বাড়িটি উঁচু ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। প্রবেশের জন্য একটি মাত্র ফটক রয়েছে। স্থানীয়দের যাতায়াত কম হলেও গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে তরুণদের আনাগোনা দেখা যেত।
পুলিশ জানায়, কবুতরের খামারের একটি ঘরকে হ্যাকিংয়ের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতেন ওহিদুল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ওই কক্ষে স্মার্ট মনিটর, ওয়াইফাই ও খাট ছিল। বাইরে থেকে দেখলে সেখানে মানুষের বসবাসের বিষয়টি বোঝার উপায় ছিল না।
পুলিশের নজরদারি থেকে রক্ষা পেতে বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। হ্যাকিংয়ের কাজে সাতটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ৬৮টি সিম কার্ডের অদলবদল করা হতো। সিমগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছকের মাধ্যমে লেখা ছিল। বিকাশ, নগদ ও রকেটের হিসাব রাখতেও সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।
স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কারণ জানতে চাইলে ওহিদুল বলতেন, কবুতর ও মহিষ চুরি ঠেকাতে এগুলো লাগানো হয়েছে। পরে তারা জানতে পারেন, পুলিশের গতিবিধি নজরদারির জন্যও ক্যামেরাগুলো ব্যবহার করা হতো।
পুলিশের দাবি, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অন্যের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনায় ওই গোপন কক্ষটি ব্যবহার করতেন ওহিদুল। তিনি দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন যাতায়াতের জন্য। অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে দামি গাড়ি ভাড়া করে রাজশাহী ও পাবনায় যাতায়াত করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রাইভেটকার চালক।
তবে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি এবং নানা কৌশল অবলম্বনের পরও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাননি ওহিদুল।
লালপুর থানা সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে মোহরকয়া গ্রামে ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কবুতরের খামারের ওই গোপন কক্ষ থেকে হ্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে ওহিদুলসহ ছয় সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে আলামিন (২৩) নামে রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) এক পুলিশ কনস্টেবলও রয়েছেন।
আলামিন লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে। তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আরআরএফ রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ।
অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০৬টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হ্যাকিং কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।
মামলায় ওহিদুলসহ ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে লালপুর আমলি আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসেন তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুলের কাছ থেকে আশপাশের অনেক মানুষ হ্যাকিং শিখে এই কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে নানা কৌশল অবলম্বন করলেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। অপরাধীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের বর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকার পৃথক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার আমদানি করার অনুমোদন প্রদান করেছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চলতি বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ৪৬তম সভায় এই অনুমোদন প্রদান করা হয়।
প্রথম প্রস্তাবের আওতায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য খুলনার ফুলতলার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’কে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। কর ও ভ্যাটসহ মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর ফলে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম দাঁড়াচ্ছে ৭৬ দশমিক ৮৯ টাকা।
এছাড়া, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মোট চার লটে সার আমদানির সুপারিশও করেছে কমিটি।
দ্বিতীয় প্রস্তাবের অধীনে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশনের (সিসিসি) মধ্যে চুক্তির আওতায় দুই লটে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। চুক্তির ৩য় লটে সিসিসি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই চুক্তির ৪র্থ লটের আওতায় সমপরিমাণ (৪০ হাজার মেট্রিক টন) এমওপি সার একই দামে (৩৮৩.৮০ ডলার) কেনার প্রস্তাব রয়েছে, যার ব্যয়ও প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের (প্রডিনটর্গ) সঙ্গে বিএডিসির মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাক্ষরিত আরেকটি চুক্তির আওতায় ৭ম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার হিসাবে এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরবরাহকারী হিসেবে প্রডিনটর্গকেই সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, বিএডিসি ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘মা’আদেন’-এর চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের ৪র্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ মার্কিন ডলার হিসাবে এতে খরচ হবে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সরবরাহকারী কোম্পানি হিসেবে মা’আদেন-এর নাম সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপিত এসব ক্রয় ও আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পকেটে অর্থ নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব করছিল। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় কিশোর নূর মোহাম্মদ সেটি কেড়ে নেয়। প্যাকেট খুলে ভাতের পরিবর্তে মিষ্টি পেয়ে সে কয়েকটি খেয়ে ফেলে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নূর মোহাম্মদকে যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (তৃতীয়) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক সঞ্জয় পাল ঘটনার বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তাকে ৫০ টাকা জরিমানা দেন। জরিমানা অনাদায়ে তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নূর মোহাম্মদের কাছে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার মতো টাকা ছিল না। তার অসহায়ত্বের কথা শুনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহ-হাজতি এগিয়ে আসেন। তিনি কিশোরকে ১০০ টাকা দেন। সেই টাকা থেকে ৫০ টাকা সরকারি জরিমানা পরিশোধ করে মুক্তির আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পরে বাকি ৫০ টাকা নিয়ে সন্ধ্যার পর নড়াইলের উদ্দেশে রওনা দেন নূর মোহাম্মদ।
নূর মোহাম্মদ জানায়, তার বাড়ি নড়াইলে। সে যশোরের ঝিকরগাছার একটি কাঁচামালের আড়তে কাজ করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিনা টিকিটে নড়াইল যাওয়ার জন্য যশোর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিল।
নূর মোহাম্মদের ভাষ্য, এ সময় তার প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভব হয়। কিন্তু পকেটে কোনো টাকা না থাকায় উপায় না দেখে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট কেড়ে নেয়। পরে প্যাকেট খুলে ভাতের পরিবর্তে মিষ্টি দেখতে পেয়ে কয়েকটি মিষ্টি খেয়ে ফেলে।
এ সময় ওই পথচারী চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে ছুটে আসে। তারা নূর মোহাম্মদকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর পুলিশের মাধ্যমে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের আদেশে এক রাত হাজতে থাকার পর সহ-হাজতির দেওয়া ১০০ টাকার ৫০ টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পায় এই কিশোর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর যাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক উবারচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৩২ বছর বয়সী ওই চালকের নাম অনুজ কুমার। অভিযোগ রয়েছে যে, গাড়িতে যাত্রার সময় তিনি কিশোরটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন এবং শিশু-নিরাপত্তা তালা চালু করে তাকে গাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সান হোসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। রাত সাড়ে ১০টার কিছু পর পাসেও দে সান আন্তোনিওর ১০০ নম্বর ব্লকে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক ব্যক্তিকে ঘিরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়।
আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুজ কুমার উবারে যাতায়াত করা ১৪ বছর বয়সী কিশোরটিকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন। এরপর তিনি গাড়ির শিশু-নিরাপত্তা তালা চালু করে দেন, যাতে কিশোরটি গাড়ি থেকে বের হতে না পারে।
ঘটনাটি কিশোরটির নির্ধারিত গন্তব্যের কাছাকাছি ঘটে, যার গন্তব্য ছিল সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির কাছে অবস্থিত হ্যামার থিয়েটার। পরে কোনোভাবে গাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হয়ে কিশোরটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সান হোসে পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র স্টেসি শিহ জানান, ভুক্তভোগী দ্রুত পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করার কাজ শুরু করে। তদন্তকারীরা স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে গাড়িটি শনাক্ত করেন। পরে গাড়িটির সঙ্গে অনুজ কুমারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ফস্টার সিটি পুলিশের সহায়তায় ১৩ সেপ্টেম্বর ফস্টার সিটিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অর্থাৎ অভিযোগের পরদিনই তাকে আটক করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর অনুজ কুমারকে সান্তা ক্লারা কাউন্টি প্রধান কারাগারে অপ্রাপ্তবয়স্কের ওপর যৌন নিপীড়নের সন্দেহে নথিভুক্ত করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রায় আড়াই বছর ধরে উবারচালক হিসেবে কাজ করছিলেন কুমার। উবারে তার যাত্রী মূল্যায়নের গড় ছিল ৪ দশমিক ৯৫।
ঘটনার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উবার অনুজ কুমারকে তাদের সেবা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং যৌন নিপীড়নের মতো আচরণের উবারের সেবায় কোনো স্থান নেই।" তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, অনুজ কুমারের বিরুদ্ধে একই ধরনের ঘটনায় আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারেন। এ কারণে তার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা একই ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কাউকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সান হোসে পুলিশের যৌন নিপীড়ন তদন্ত ইউনিট এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তথ্য থাকা ব্যক্তি বা একই ধরনের ঘটনার শিকার কেউ সান হোসে পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা হোয়াংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পুলিশের দেওয়া যোগাযোগ নম্বর হলো ৪০৮-২৭৭-৪১০২।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করায় তদন্তকারীরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট গাড়িটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে চালকের পরিচয় বের করা হয় এবং এক দিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে অনুজ কুমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগী ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
"মা, এবার ঢাকা থেকে ফিরে তোমার জন্য নতুন ঘর করে দেব"—এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঢাকায় নির্মাণশ্রমিকের কাজে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিম। তার লক্ষ্য ছিল পরিবারের অভাব দূর করা এবং জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার করা। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণের আগেই রাজধানীর বারিধারায় একটি প্রাইভেটকারের চাপায় প্রাণ হারান এই তরুণ।
মেহেদী নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর এরশাদুল হকের ছেলে। তিনি ডোমার সরকারি কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ইশারায় কথা বলতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণশ্রমিকের কাজ করে পরিবারকে সহায়তা করতেন। অবসরে কাগজের ফুল তৈরি করে গ্রামীণ মেলা ও বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করতেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে মেহেদী কয়েকজন নির্মাণশ্রমিকের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। ওই দিন বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে আসরের নামাজ শেষে ফুটপাতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেদীর মা মিনু বেগম জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে এর আগে ছেলে ঢাকায় যেতে চাইলেও তাকে যেতে দেননি। পরে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হলে সোমবার রাতে কাজে পাঠান। যাওয়ার সময় মেহেদী বলেছিলেন, ঢাকায় কাজ করে টাকা জমিয়ে ঈদের আগে বাড়ি ফিরবেন। সেই টাকা দিয়ে ভাঙাচোরা ঘরটি ঠিক করবেন।
মিনু বেগম বলেন, "আমার ছেলে ভালো করে কথা বলতে পারত না, কিন্তু সবকিছু বুঝত। ভেবেছিলাম ঢাকায় গিয়ে কিছু আয়-রোজগার করলে সংসারে সচ্ছলতা আসবে। বাড়ির ঘরটাও ঠিক করবে। কিন্তু যাওয়ার এক দিনের মাথায় আমার ছেলে লাশ হয়ে ফিরল।"
স্বজনরা জানান, মেহেদী এর আগেও নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতে ঢাকায় আসতেন। নিজের খরচ বাদ দিয়ে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িতে পাঠাতেন। বাবার সামান্য আয় ও মেহেদীর উপার্জনেই চলত তাদের সংসার।
মেহেদী তিন ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন। বড় ভাই ও ছোট বোনের বিয়ে হয়েছে। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের পাশাপাশি পুরোনো ঘরটি সংস্কারের দায়িত্বও নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন মেহেদী।
মেহেদীর বাবা এরশাদুল হক বলেন, "সোমবার রাতে আমি নিজে তাকে ঢাকার গাড়িতে তুলে দিলাম। আজ তার লাশ বাড়িতে এসেছে। এটা আমার বিশ্বাস হচ্ছে না। এভাবে আমার বাবাকে হারাব জানলে তাকে ঢাকায় যেতে দিতাম না। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেল।"
মেহেদীর ফুফাতো ভাই সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, "তাদের ১০ শতক জমির ভিটেটুকুই সম্বল। বাবার দিনমজুরি ও মেহেদীর উপার্জনে চলত সংসার। বাক্প্রতিবন্ধী হলেও মেহেদীর মধ্যে অনেক প্রতিভা ছিল। গ্রামের সবাই তাকে ভালোবাসতেন।"
বুধবার দুপুরে মেহেদীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। বাড়ির সামনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। পরে বিকেলে হাজীপাড়া কবরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে দেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গাড়ির চালকের আসনের দিক থেকে এক কিশোরকে বের হতে দেখা যায়। তবে প্রথম দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মামলায় তার নামও ছিল না।
মামলায় গাড়িটির মূল চালক হিসেবে আকাশ মারক নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
তবে পরে তদন্তে চালকের আসনে থাকা কিশোরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। গ্রেপ্তার কিশোরের নাম আজান আলী শরীফ (১৭)। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি আসলে কে চালাচ্ছিল এবং প্রথমে আটক করার পর ওই কিশোরকে কেন মামলায় আসামি করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য, ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ