মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:০৪ পি.এম
সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের পেছনে দেখা যায় নানা স্লোগান, উপদেশ এবং মজার কথা। কিছু যানবাহনে লেখা থাকে ‘মায়ের দোয়া’, আবার কোথাও দেখা যায় ‘ধাক্কা দিবেন না, আমি ছোট আমাকে মারবেন না’। কিছু গাড়িতে লেখা থাকে ‘হর্ন দিন, সাইড নিন’ অথবা ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি’। তবে ট্রাকের পেছনে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ‘Horn Ok Please’ কথাটি।
প্রায় সকল ধরনের ট্রাকের পেছনে এই লেখাটি দেখা গেলেও, এর পেছনের কারণ সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষ করে ‘Horn Please’ না লিখে মাঝখানে ‘OK’ শব্দটি কেন ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে রয়েছে কৌতূহল।
সাধারণভাবে ‘Horn Please’ কথাটির অর্থ হলো, ট্রাককে ওভারটেক করার আগে পেছনের চালক যেন হর্ন দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। কিন্তু এর সঙ্গে ‘OK’ শব্দটি যুক্ত হওয়ার কারণ কী?
এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘OK’ শব্দটি এসেছে ‘On Kerosene’ থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানির সংকট দেখা দিলে কিছু যানবাহনে ডিজেলের বিকল্প হিসেবে কেরোসিন ব্যবহারের প্রচলন ছিল বলে দাবি করা হয়। কেরোসিনের দাহ্য বৈশিষ্ট্যের কারণে পেছনের যানবাহনকে সতর্ক করতেই ট্রাকের গায়ে ‘OK’ লেখা হতো—এমন ধারণা প্রচলিত রয়েছে।
তবে ‘Horn Ok Please’ লেখাটির উৎপত্তি নিয়ে এই ব্যাখ্যার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ স্পষ্ট নয়। তাই ‘OK’ শব্দটি যে নিশ্চিতভাবেই ‘On Kerosene’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
বর্তমানে ট্রাকের পেছনে ‘Horn Ok Please’ লেখাটি মূলত একটি পরিচিত সড়ক-সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে পেছনের চালককে হর্ন দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানানোর বার্তা দেওয়া হয়।
শুধু এই লেখাই নয়, ট্রাকের পেছনে চালক ও মালিকদের পছন্দ অনুযায়ী নানা ধরনের বার্তা দেখা যায়। কোথাও লেখা থাকে জীবনমুখী কবিতা বা গানের লাইন, কোথাও থাকে প্রেমিক-প্রেমিকার উদ্দেশে ভালোবাসার কথা। আবার কোনো ট্রাকে দেখা যায় ধর্মীয় বাণী কিংবা সতর্কতামূলক উপদেশ।
এসব লেখা একদিকে যেমন চালক ও মালিকদের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রকাশ, অন্যদিকে তেমনি সড়কের চেনা দৃশ্যেরও একটি অংশ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহাসমাবেশ, যেখানে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ অংশগ্রহণ করবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মহাসমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকরা (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইতিহাসে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের সম্মান জানাতে এবং তাদের কথা সরাসরি শুনতে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।" তিনি জানান, গ্রাম পুলিশরা পূর্বে নিজস্ব অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবিদাওয়া উত্থাপন করলেও এবার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকর্মীদের মতামত ও দাবিদাওয়া শুনতে চান।
তিনি আরও যোগ করেন, গ্রাম পুলিশ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা যা আইনি কাঠামোর অধীনে রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের উপপরিচালকদের (ডিডিএলজি) আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাবনা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সমাবেশে তা ঘোষণা করা হতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করা হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি), সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে এর আগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে সরকার।" প্রতিমন্ত্রী জানান, এই নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না।
অন্যদিকে, দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ম্যাসিভ পরিসরে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গতি আনতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শ্রী শ্রী রাধামাধব আখড়া কেন্দ্রীয় মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ জারু মিয়া, যিনি আকবর হোসেন নামেও পরিচিত (৩০) এবং আকাশ মালদার, যিনি হাসিব নামে পরিচিত (২৮) নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের প্রদান করা তথ্যের ভিত্তিতে চুরি হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন স্বর্ণালংকার, রুপার চেইন, এবং পিতল ও তামার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া জারু মিয়া আখাউড়া বড় বাজার এলাকার বাসিন্দা এবং আকাশ মালদার মালদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনার সাথে জড়িত তৃতীয় ব্যক্তি, তাজুল ইসলাম (৬২), চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা, পলাতক রয়েছেন। তিনি আখাউড়ার মসজিদপাড়ায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২ অক্টোবর সকাল ৭টার মধ্যে আখাউড়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাধানগর এলাকায় অবস্থিত মন্দিরটিতে চুরির ঘটনা ঘটে। পরে ১২ অক্টোবর, আখড়া কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ একাধিক দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে জারু মিয়াকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জারু মিয়া চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আকাশ মালদারের নাম উল্লেখ করেন। পরে অভিযান চালিয়ে আকাশকেও আটক করা হয়।
জারু মিয়ার দেখানো মতে, তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় দুই আনা ওজনের এক জোড়া সোনার কানের দুল, চারটি ইমিটেশনের মুকুট, দুটি বাঁশি, একটি চাঁদ এবং একটি রুপার চেইন। পরে গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে পলাতক তাজুল ইসলামের আখাউড়া থানাধীন মসজিদপাড়ার ভাঙারির দোকান থেকে আরও মালামাল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রাধারানির একটি বড় পিতলের মূর্তি, গৌর-নিতাইয়ের দুটি পিতলের মূর্তি, গোপালের একটি ছোট পিতলের মূর্তি, একটি পিতলের কাঁসি, একটি পিতলের গাছা, একটি পঞ্চপ্রদীপ, তিন জোড়া পিতলের করতাল, একটি তামার বাটি, ছোট-বড় দুটি তামার কোসাকুসি, একটি পিতলের প্রদীপদানি এবং শঙ্খ রাখার জন্য একটি পিতলের স্ট্যান্ড।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, মামলার পর আমাদের পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক আরেক আসামিকে ধরতে পুলিশের টিম কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কোরআন কন্যাসন্তানের জন্মকে অপমান নয়, বরং সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে মেয়ের প্রতি অবহেলা, উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং বিয়েতে মতামত উপেক্ষা করার বিষয়ে।
সন্তান জন্মের পর পরিবারে আনন্দের পরিবেশ থাকা উচিত। কিন্তু সমাজের অনেক পরিবারে এখনো কন্যাসন্তান জন্মালে হতাশা দেখা দেয়। ছেলে হলে আনন্দ প্রকাশ করা হলেও, মেয়ে হলে অনেক সময় স্বজনেরা মুখ ভার করেন। এমনকি সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া মাকেও এ কারণে দোষারোপ করা হয়।
অথচ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ মানুষের ইচ্ছাধীন নয়। পবিত্র কোরআনে কন্যাসন্তানের জন্মকে সুসংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কন্যাসন্তানের জন্মে অসন্তুষ্ট হওয়া এবং তাকে অপমানের চোখে দেখার মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সুরা শুরার ৪৯-৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান, যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। আবার কাউকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দেন এবং কাউকে নিঃসন্তান রাখেন।
ইসলামের এই শিক্ষা অনুযায়ী, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার কারণে মাকে দোষারোপ করা বা তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সন্তানের লিঙ্গের জন্য মাকে দায়ী করা অন্যায়।
ইসলামপূর্ব আরব সমাজে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে কন্যাসন্তান জন্মকে লজ্জার বিষয় মনে করার প্রবণতা ছিল। পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলের ৫৮-৫৯ নম্বর আয়াতে সেই মানসিকতার সমালোচনা করা হয়েছে।
আয়াতগুলোতে বলা হয়েছে, কন্যাসন্তানের সুসংবাদ পেয়ে কারও মুখ কালো হয়ে যেত এবং সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হতো। এমনকি অপমানের ভয়ে সে সন্তানকে রাখবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে, তা নিয়েও চিন্তা করত।
এ ছাড়া সুরা তাকভিরের ৮-৯ নম্বর আয়াতে জীবন্ত সমাহিত কন্যাশিশুকে হত্যার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার কথা বলা হয়েছে।
কোরআনের এসব বক্তব্য কন্যাসন্তানকে অবহেলা ও অপমান করার মানসিকতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দেয়। মেয়ে হয়ে জন্মানো কোনো অপরাধ নয়; বরং প্রতিটি শিশুর প্রতি ভালোবাসা, যত্ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইসলামে কন্যাসন্তানকে ভালোভাবে লালন-পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিহ মুসলিমের ২৬৩১ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুটি মেয়েকে সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কেয়ামতের দিন সে তার সঙ্গে থাকবে। এ কথা বলার সময় তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখান।
আরেকটি হাদিসে কন্যাসন্তানের প্রতি সদাচরণের প্রতিদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। সহিহ মুসলিমের ২৬২৯ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কন্যাসন্তানের দায়িত্ব নিয়ে তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা জাহান্নাম থেকে রক্ষার কারণ হতে পারে।
কন্যাসন্তানকে যথাযথভাবে বড় করার অর্থ শুধু খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করা নয়। তার শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ নিশ্চিত করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
কন্যাসন্তানকে বঞ্চিত করার আরেকটি প্রচলিত প্রবণতা হলো উত্তরাধিকার না দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়াকে সম্পত্তিতে তার অধিকার না দেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৭ নম্বর আয়াতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও উত্তরাধিকারের অধিকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে পুরুষ ও নারীর জন্য নির্ধারিত অংশ রয়েছে।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকারের পরিমাণ নির্ধারিত হয় মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধিকারী ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ভিত্তিতে। তবে মেয়ের বিয়ে দেওয়া বা বিয়েতে খরচ করার অজুহাতে তার প্রাপ্য উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
ইসলামে বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নারীর সম্মতির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সুনান আবু দাউদের ২০৯৬ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক নারী তার অনিচ্ছায় দেওয়া বিয়ের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলে তিনি তাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেন।
এই বর্ণনা বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর মতামত ও সম্মতির গুরুত্ব তুলে ধরে। অভিভাবকের দায়িত্ব উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচনে সহযোগিতা করা, মেয়ের ওপর জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া নয়। বিয়ের বৈধতা ও অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্ন থাকলে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
বিয়েতে স্ত্রীকে যে মোহরানা দেওয়া হয়, তা তার নিজস্ব অধিকার ও সম্পদ। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে নারীদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে আদায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্ত্রী স্বেচ্ছায় মোহরানার কোনো অংশ ছেড়ে দিলে তা গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে চাপ সৃষ্টি করে কিংবা তাঁর সম্মতি ছাড়া মোহরানা নিয়ে নেওয়া ইসলামের নির্দেশনার পরিপন্থী।
কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী, কন্যাসন্তানের জন্ম কোনো অপমান বা হতাশার কারণ নয়। ছেলে ও মেয়ে উভয় সন্তানই পরিবারের জন্য আল্লাহর দান। তাই উভয়কেই সমান ভালোবাসা, যত্ন ও মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
শুধু জন্মের সময় আনন্দ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের শিক্ষা, নিরাপত্তা, মতামত ও আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করাও পরিবারের দায়িত্ব।
কন্যাসন্তানের জন্মে মন খারাপ না করে তাকে সাদরে গ্রহণ করা, তার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করা এবং যথাযথভাবে লালন-পালন করাই হোক সবার অঙ্গীকার। মেয়ে হয়েছে বলে কোনো মা যেন দোষারোপের শিকার না হন, কোনো শিশু যেন অবহেলার মধ্যে বড় না হয় এবং কোনো নারী যেন তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়ন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, তিস্তা প্রকল্প, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মন্তব্য করেন, "বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময় এখন।" তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। এ সময় তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে বাংলাদেশ সরকার স্বাগত জানায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র।" তিনি উল্লেখ করেন, ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। তিনি ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী নদীব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে।
বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও জানতে চান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ মনে করে, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায়। এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কৃষি খাতেও বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডস। দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে।" তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তার সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ