প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীতে আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মহাসমাবেশ, যেখানে সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ অংশগ্রহণ করবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মহাসমাবেশ সফলভাবে আয়োজনের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের ৬৪ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকরা (ডিডিএলজি) উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইতিহাসে এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে সারা দেশের প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের সম্মান জানাতে এবং তাদের কথা সরাসরি শুনতে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।" তিনি জানান, গ্রাম পুলিশরা পূর্বে নিজস্ব অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবিদাওয়া উত্থাপন করলেও এবার প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তৃণমূলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকর্মীদের মতামত ও দাবিদাওয়া শুনতে চান।
তিনি আরও যোগ করেন, গ্রাম পুলিশ একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা যা আইনি কাঠামোর অধীনে রয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং আইনি ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের উপপরিচালকদের (ডিডিএলজি) আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রস্তাবনা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পরবর্তী সময়ে সমাবেশে তা ঘোষণা করা হতে পারে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করা হবে না।" তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি), সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে এর আগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে সরকার।" প্রতিমন্ত্রী জানান, এই নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না।
অন্যদিকে, দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ম্যাসিভ পরিসরে মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে।
তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গতি আনতে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন