বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ পি.এম
সৌদি আরব নিজেদের স্কুলের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যাতে ইসরায়েল ও ইহুদি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা যায়। ইসরায়েলকে ‘খুশি করতে’ এবং পশ্চিমা কূটনৈতিক চাপ সামলানোর উদ্দেশ্যে রিয়াদ পাঠ্যবই থেকে ইসরায়েলবিরোধী বার্তা ও অনুচ্ছেদ ছেঁটে ফেলেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই।
নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, আগের পাঠ্যবইয়ের মধ্যে থাকা ‘মুসলিমরা কখনোই জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি ওই সংস্থার মতে, পূর্ববর্তী বাক্যে জেরুজালেমে মুসলিমদের উপস্থিতি হুমকির মুখে রয়েছে বলে ফুটিয়ে তোলা হতো, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের বৈরিতা বাড়াত।
এই পরিবর্তনগুলো এমন সময় এসেছে, যখন ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা উন্মুক্তভাবে আল-আকসা মসজিদ ধ্বংস করে ‘ইহুদি মন্দির’ নির্মাণের দাবি তুলছেন। এমনকি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও জেরুজালেমের জনমিতি পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-এসইর দাবি অনুযায়ী, সৌদি পাঠ্যবই থেকে তথাকথিত ‘ইহুদি-বিদ্বেষী’ সকল বিষয় বাদ দেওয়াকে তারা ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে। পাঠ্যবই থেকে কিছু পবিত্র কোরআনের আয়াত, হাদিস এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষণীয় ঘটনাও বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অসুস্থ এক ইহুদি বালককে মহানবী (সা.) দেখতে গেলে বালকটি ইসলাম গ্রহণ করেছিল—এই ঘটনাটি ২০২৫ সালের সংস্করণে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অমুসলিমদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।
পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে আগে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। নতুন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে সেই ফিলিস্তিন নামটি মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও মানচিত্রে এখনও ইসরায়েল নামটি লেখা হয়নি, তবে পুরো এলাকাকে ‘ফিলিস্তিন’ হিসেবে চিহ্নিত করার নীতি থেকে সরে এসেছে সৌদি আরব। একাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘ইহুদি শত্রু’ শব্দের বদলে ‘ইসরায়েলি দখলদারত্ব’ শব্দগুচ্ছ উল্লেখ করা হয়েছে।
বাস্তবে, সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজকে ইসরায়েলের প্রথম প্রেসিডেন্ট চাইম ওয়াইজম্যান ফিলিস্তিন ইস্যু থেকে সরে আসতে বিপুল অর্থ ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঐতিহাসিক নথিতে এর সত্যতা থাকলেও, এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি বইয়ে রাখার সমালোচনা করে একে ইহুদিদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক বর্ণনা’ বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তার ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েলি গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরব দেশগুলোর ওপর মনস্তাত্ত্বিক এবং প্রশাসনিক চাপ দিয়ে আসছে। সৌদি পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তনকে সেই কূটনৈতিক কৌশলের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে ইসরায়েল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি সুযোগ পায় তাহলে দলের নেতারা আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবে, এ কথা বলেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সাথে গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত হন সোহান।
নুর বলেন, চলতি ছয় মাস যেতে না যেতেই জামায়াতে ইসলামী সরকারের দিকে যাওয়ার বাসনা পোষণ করছে। বর্তমান সরকারকে নিয়ে দলটির নেতারা বিভিন্ন বিরক্তিকর বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলাম থেকে ইসলাম নামটি বাদ দিতে হবে এবং জামায়াতের সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের চাইতে বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে যাবে। জামায়াত ইসলাম লেবাস পরিধান করে ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে বলেও মন্তব্য করেন। জামায়াতের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটেছে, এর বড় উদাহরণ হলো কুষ্টিয়ার এমপি জামায়াত নেতা আমির হামজা এবং গাজী নজরুল।
আমির হামজা সম্পর্কে নুর বলেন, এই উন্মাদ সংসদ সদস্য বিভিন্ন সময় আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে থাকেন। এই সঙ্গে তিনি আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েও অত্যন্ত নোংরা মন্তব্য করেছেন। জামায়াত এসব নোংরা কথা সমর্থন করে আসছে।
প্রতিমন্ত্রী যোগ করেন, আমির হামজা এবং সাতক্ষীরার এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মতো নেতাদের এসব কর্মকাণ্ডের পরেও জামায়াত যদি নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে দাবি করে, তাহলে সেটি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই আমি জামায়াতে ইসলাম থেকে ইসলামী নামটি বাদ দিতে বলবো, কারণ তারা ‘ইসলামী’ নাম ব্যবহার করে ইসলামের লেবাস ধারণ করে ইসলামেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক পথচলা পাঁচ দশকেরও অধিক সময় ধরে বিস্তৃত হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রজ্ঞা, সংকটকালে নেতৃত্বদান এবং তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে এ দেশের জাতীয় রাজনীতির একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, “একজন শিক্ষাবিদ, অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তাঁর এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে।”
তিনি তাঁর বার্তায় যোগ করেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।সঙ্গে, তিনি রাষ্ট্রপতির জন্য সুস্বাস্থ্যের কামনা এবং দীর্ঘায়ু ও দায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর পাংশায় নিখোঁজের দু’দিন পর এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে, তাকে নির্যাতনের পর একটি চোখ উপড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে পাংশা উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণগড়া ঠাকুরের বাগান এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাবেয়া খাতুন (৩৫) পাংশা উপজেলার নারানপুর পূর্ব রেলগেট এলাকার হোসেন আলীর কন্যা।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে রাবেয়া নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তার বড় বোন পাংশা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এ দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় ব্যক্তিরা বাগানের মধ্যে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশের খবর দেন। খবর পেয়ে পাংশা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রাবেয়াকে অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এমনকি তার একটি চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলেও স্বজনরা দাবি করেছেন। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই নারীকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয়ে একটি মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ হয়েছে—সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের এমন দাবি সঠিক নয় বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, নওগাঁয় বর্তমানে এইচআইভি পজিটিভ রোগী রয়েছেন মাত্র দুজন। তাদের মধ্যে দুজনই ২০২৫ সালে শনাক্ত হয়েছেন। ২০২৬ সালে নতুন করে কোনো এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়নি।
এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে তিনি এসব তথ্য জানান নওগাঁর সিভিল সার্জন মো. আমিনুল ইসলাম। সাম্প্রতিক একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল দাবি করেন, তার জেলায় ১২ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের সবাই মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং তারা হোস্টেলে থাকেন।
তবে সিভিল সার্জন আমিনুল ইসলাম বলেন, নওগাঁয় ১২ জন মাদরাসাশিক্ষার্থী এইচআইভি পজিটিভ—এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তাদের সবার এইচআইভি পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। সিভিল সার্জন জানান, ওই ১২ শিক্ষার্থী রক্ত দিতে এসেছিলেন। রক্তদাতাদের নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাদের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় সবার ফল নেগেটিভ এসেছে। এর ফলে তাদের এইচআইভি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই এবং তারা অন্যকে রক্ত দিতে পারবেন।
এইচআইভি প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, রক্ত নেওয়ার আগে রক্তের প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিং পরীক্ষা যথাযথভাবে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও এইচআইভি ছড়াতে পারে। এ ছাড়া একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই অনিরাপদ যৌন আচরণ ও মাদক গ্রহণের ক্ষেত্রে একই সুচ ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এইচআইভির বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ