ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ


স্পিকারের সঙ্গে ঢাকায় নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, নরওয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে এই সম্পর্কের বিস্তার ঘটে। নরওয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে নরওয়ে সবসময় সহযোগিতা করে আসছে।

স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকার গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, নরওয়ে ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘকাল ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে আসছে।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে সারাবিশ্বের শান্তিরক্ষায় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সবসময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ সম্পর্কে তারা মতবিনিময় করেন।

এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য নরওয়ের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে একাডেমিক নিরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


পিএসসির নতুন সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন অধ্যাপক শামীমা সুলতানা

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : পিএসসি বা বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা।

আজ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

অধ্যাপক শামীমা সুলতানা গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৫ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন-এর সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন।

এছাড়া, এই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে, তিনি দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যা আগে ঘটে, সেই সময়কাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য পদে বহাল থাকবেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ ও শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: শিমুল বিশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ ও শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন: শিমুল বিশ্বাস

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পরিবহন নেতা এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি মন্তব্য করেছেন যে, রাজধানীর সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিক, পুলিশ, পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য।

শিমুল বিশ্বাস উল্লেখ করেন, এই চারটি পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সমঝোতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে অসাধ্যকেও সাধন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা শহরে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে ছয়টি বাস রুটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, ঢাকা নগরের জন্য এটি একটি সুসংবাদ। নানা যুদ্ধ, সংকট ও দুর্বিপাকের মধ্যেও রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর এই উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করবে। ঢাকা শহরের বিশৃঙ্খল অবস্থা, অসহনীয় যানজট এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের অনিরাপত্তার অবসান সকলের কাম্য। তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হলে কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

রাজধানীর জনসংখ্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক বিভাগের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রজেক্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা নগরে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি ৬৬ লাখ মানুষ বসবাস করছে। প্রায় চার কোটি মানুষের এই নগরী বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জনবসতিপূর্ণ শহর। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের শহরে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।

শিমুল বিশ্বাস আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং বিশৃঙ্খলা অন্যতম। এসব সমস্যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বাংলাদেশের সামগ্রিক চিত্র বহন করে। একজন মানুষের মুখ দেখে যেমন তার ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক অবয়ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি ঢাকা শহরের অবস্থা দেখেও বিদেশিরা বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি করেন। বিদেশি অতিথিরা বিমানবন্দর থেকে সচিবালয় কিংবা কোনো হোটেলে যাওয়ার পথে রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট দেখলে গোটা দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরে যান। এই মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট পরিবহন মালিক, শ্রমিক বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং পুরো বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের নেতিবাচক মূল্যায়ন তৈরি হয়। তাই রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

এ সময় তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি চারটি পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এগুলো হলো— পরিবহন শ্রমিক, মালিক, পুলিশ এবং সাংবাদিক। দেশের প্রায় ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবহন খাতে যারা বিনিয়োগ করেছেন, সেই মালিকদেরও নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা পরিচালনায় এগিয়ে আসতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিশেষ করে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে এই উদ্যোগের পক্ষে ভূমিকা রাখতে হবে।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই চার পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এখন সবাই পরিবর্তন দেখতে চান। বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে বের করে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার প্রত্যাশা মানুষের। দেশের সব যুদ্ধ, সংঘাত ও লড়াইয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত দুঃখ, দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, বিশৃঙ্খলা আর সহ্য করার কোনো প্রয়োজন নেই। পরিবহন খাতের সবাইকে নিজ নিজ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে আসতে হবে।

রাজধানীর সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের আধিক্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সড়কের একটি বড় অংশ রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও যাতায়াতের প্রয়োজনে এসব যানবাহনের গুরুত্ব রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, যাতায়াতে দীর্ঘ সময় নষ্ট এবং কর্মঘণ্টার অপচয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। যানজটের কারণে প্রতিদিন যে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, তা হিসাব করলে এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করা যায়।

তিনি বলেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব হবে। মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় কম লাগবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ এ দেশের মানুষ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম। এই জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি এবং পরিবহনসহ সব খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, সমুদ্রসম্পদ, পাহাড় এবং বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকার পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা এবং স্বার্থান্বেষী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে এসব উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে এবার পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এবং জবাবদিহি ও দায়িত্বশীলতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছেন।

এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই উদ্যোগ যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে কিংবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ না হয়। বাস্তবে এর সুফল নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এ খাতের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, ত্রুটি এবং সমালোচনার বিষয়গুলো সম্পর্কে তারা অবগত। এসব বিষয়ে আত্মসমালোচনা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের পরিবহন খাতের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই অভিজ্ঞতা ও অবদানকে কাজে লাগিয়ে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার। সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং এর সুফল পুরো দেশের মানুষ ভোগ করবে।

অনুষ্ঠানে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমান, বিআরটিএর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ সড়ক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পটুয়াখালীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


পটুয়াখালীতে জাতীয় যুব দিবস পালিত, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা

পটুয়াখালী, ১ নভেম্বর ২০২৬ : আজ পটুয়াখালীতে ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যের আলোকে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এই উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং যুব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এরপর জেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসিন উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম।

আলোচনা সভায় সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহম্মেদ পিনু, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আরিফ, সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার এবং মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তৌফিকুর রহমান রাকিবসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে চারটি যুব উদ্যোগের জন্য মোট পাঁচলাখ ২০ হাজার টাকার ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রাকিব মৎস্য প্রকল্পকে একলাখ টাকা, হৃদয় মৎস্য প্রকল্পকে দুইলাখ টাকা, মরিয়ম হাঁস-মুরগির খামারকে একলাখ এবং নিশাত পোশাক তৈরি প্রকল্পকে একলাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুবির ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিং ও মাদক সেবনের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


খুবির ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিং ও মাদক সেবনের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ

খুলনা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র‌্যাগিং, মারধর, হয়রানি ও মাদক সেবনের অভিযোগে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে ১০ শিক্ষার্থীকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরদিন বুধবার ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‌্যাগিংয়ের শিকার হন।

এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকবৃন্দের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%