০৫:০৭ পি.এম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করার খবর পাওয়া গেছে, এর আগে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও অভিজিৎ দীপককে আটক করা হয়েছিল।
দিল্লিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রাম পুলিশ আটক করে। পরে, দিল্লিতে অবতরণের পর বিমানের ভেতর থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এ সময় পুলিশ বিমানে প্রবেশ করে তাকে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুরো ঘটনাটি ইনস্টাগ্রামে সরাসরি সম্প্রচার করেন দীপক।
বিমানের ভেতর থেকে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমনটা করেননি। পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ। আমরা সবাই গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য প্রস্তুত।’
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের কারণে এই ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। এসব স্টেশনের মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেট।
এছাড়া শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন ও স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এর আগে গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ওই ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনো দুই পক্ষের মনে থাকায় এবারের বিক্ষোভও ভিন্ন রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন