ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে


পাইকগাছায় গদাইপুর ইউনিয়নের চারার হাট জমে উঠেছে

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই চারার হাট জমে ওঠে। দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের চারা সারি সারি করে সাজানো থাকে। পাইকারি ক্রেতারা তাদের পছন্দের চারা কিনে নিয়ে যান দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন হাটে। স্থানীয় ক্রেতারাও বিকেলে এসে বাড়ির আঙিনা কিংবা বাগানের জন্য পছন্দের চারা কিনে নেন।

এমনই জমজমাট চিত্র দেখা যাচ্ছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে। গদাইপুর বাজার ও আশপাশের নার্সারিগুলোতে প্রতিদিন চলছে চারা ও কলমের বেচাকেনা। সপ্তাহের শুক্রবার, সোমবার ও বুধবার গদাইপুরে নিয়মিত হাট বসে, তবে চারা বিক্রি প্রতিদিনই হয়ে থাকে।

স্থানীয় নার্সারি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ৫০০টি বাণিজ্যিক নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে সারা বছর চারা উৎপাদন ও পরিচর্যা করা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময় হওয়ায় এ সময় চারা বিক্রি বেড়ে যায়। নার্সারি মালিকেরা ভোরে চারা তুলে হাটে নিয়ে আসেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা দিনের শুরুতেই চারা কিনে বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে দেশি জাতের আম, কাঁঠাল, জাম, জামরুল, লিচু, কদবেল, কুল, পেয়ারা, বাতাবি লেবু, মাল্টা, কমলা ও নারিকেলের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি জাতের ফলের চারাও পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত, ডগ মাই, বেগুনি ম্যাঙ্গো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউ জায় ও চিংমাই আমের চারা ক্রেতাদের আগ্রহ কাড়ছে। রামবুটানসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের চারা এবং নানা প্রজাতির ফুলের চারা রয়েছে।

চারা বিক্রির দাম ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আকার, জাত ও মানভেদে দাম কমবেশি হয়। বিদেশি নারিকেলের চারা প্রায় ৫০০ টাকা এবং বড় মাল্টা ও কমলা লেবুর চারা ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

তালা উপজেলা থেকে গদাইপুরের চারার হাটে এসেছেন সবুর গাজী। তিনি বলেন, "বাজারে প্রচুর গাছের চারা উঠেছে। ঘুরে ঘুরে পছন্দের চারা কেনা যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক কম।"

পাইকগাছা উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল সরদার বলেন, "গদাইপুর এলাকায় প্রায় ৫০০টি নার্সারি রয়েছে। এসব নার্সারিতে উৎপাদিত চারা দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও এখানকার চারা যায়।"

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

সমিতির সভাপতি আছাদুল ইসলাম জানান, করোনার সময় কয়েক বছর চারা বিক্রি কমে গিয়েছিল। বর্তমানে আবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। নার্সারি মালিকদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে এ ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. একরামুল হোসেন বলেন, "কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে নার্সারি পরিচালনা করলে আরও মানসম্মত চারা উৎপাদন করা সম্ভব। নার্সারি মালিকদের সহজ শর্তে বা কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা এ ব্যবসায় আরও লাভবান হতে পারবেন।"

নার্সারি মালিকেরা জানান, ভোরে চারা কেনাবেচার অন্যতম কারণ হলো সূর্যের তাপ বাড়ার আগেই চারা গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া। এতে চারার ক্ষতি কম হয়। গদাইপুরের নার্সারিগুলোতে মানসম্মত চারা পাওয়ায় পাইকগাছার পাশাপাশি কয়রা, আশাশুনি, দাকোপসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা এখানে আসেন।

স্থানীয়দের মতে, একই জায়গায় বিভিন্ন জাত ও আকারের চারা পাওয়ায় গদাইপুরের চারার হাট দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে ভোর থেকে জমে ওঠা এই হাট এখন এলাকার নার্সারি ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


বিক্রি করতে না পেরে শিশু বায়জিদকে রাস্তায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা

রাজধানীর রূপনগর থেকে অপহৃত ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৪। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের বালক শাখা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি-৪ জানায়, অপহরণের পর শিশুটিকে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় অপহরণকারীরা। পরে তারা শিশুটিকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুরের একটি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে। সেখানেই এতদিন অবস্থান করছিল বায়জিদ।

এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানার দুয়ারীপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ অপহৃত হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪-এর একটি দল।

তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তাদের গতিবিধির আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

তদন্তে এসআরবি জানতে পারে, বায়জিদের বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েক দিন ধরে ওই বাসায় অবস্থান করছিল। প্রাথমিক তদন্তে নাসরিনের একটি শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে লিপির সঙ্গে মিলে শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাজীপুরে নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এসআরবি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও তদন্তের মাধ্যমে বায়জিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়ায় সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর বায়জিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাসরিন ও লিপি তাকে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির চেষ্টা করেছিল। তবে কোথাও তাকে বিক্রি করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয় থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে যায়।

শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বায়জিদের বাবা রিকশাচালক এবং মা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার মা বায়জিদ ও তার বাবাকে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে কাজে বেরিয়ে যান। পরে দুপুরে ঘুম থেকে উঠে বাবা দেখতে পান, বায়জিদ বাসায় নেই। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে রূপনগর থানায় মামলা করেন তিনি।

শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের মানসিক চিকিৎসক ইসমত আরা মিতা জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের বাসন থানা থেকে বায়জিদকে তাদের কেন্দ্রে দিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, আগের রাতে শিশুটিকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় তাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়।

এদিকে বায়জিদকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-৪।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন যুক্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকার ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সহজলভ্য করতে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যুক্ত করতে যাচ্ছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ১১টি মেশিন স্থাপন করা হবে, এই ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও ম্যানপাওয়ার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কারণে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু অর্থের অভাব এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের কারণে দরিদ্র মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে এবং আগামী দিনে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ এই ক্যাম্পেইন চলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। কর্মসূচিতে র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি জানান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও শুরু হচ্ছে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


আবারও শুরু হচ্ছে মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

দেশের নদীগুলোতে আবারও ২২ দিনের জন্য মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে যাচ্ছে। মা ইলিশের বাঁধাহীন প্রজনন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সরকারের আরোপিত আইন অনুযায়ী গভীর সমুদ্র থেকে জেলে ট্রলারগুলো তীরে ফিরে আসছে। ইতোমধ্যে পটুয়াখালীর মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালীসহ উপকূলের হাজারো জেলে বিভিন্ন নদনদীতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর আবারও ২২ দিনের অবরোধ নিয়ে জেলেদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জেলেদের অভিযোগ, এখনও ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবুও তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন রোধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনীসহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। তারা প্রণোদনার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বণ্টনেরও দাবি তুলেছেন।

মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চলছে শেষ সময়ের বেচাকেনা। ক্রেতা ও বিক্রেতার মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।

কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলেরাই শূন্য হাতে তীরে ফিরে আসছেন। সমুদ্রে মাছ ধরার আগের মতো পরিস্থিতি নেই। দেশি বিদেশি ট্রলিং বোর্ডের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোনো উদ্যোগ না থাকলেও বারবার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর।

জেলে আ. রহিম বলেন, সাগরে মাছ পাচ্ছি না, এরপর আবার নিষেধাজ্ঞা। সরকারি আইন মানতেই হবে। তবে সরকার যে প্রণোদনা প্রদান করেন, তা সঠিক সময় দেয় না এবং চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই সব জেলেদের দাবি, কিছু চাল দেয় সেটি সঠিক সময় আরো বৃদ্ধি করা হোক।

ট্রলারের মাঝি মো. সোলায়মান বলেন, আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংকে ঋণে জর্জরিত, তার সঙ্গে আবার দাদনের বোঝা। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসায় জড়িত সব ব্যবসায়ী হতাশ।

মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফজলু গাজী বলেন, এই দুই তিন বছর সাগরে মাছ পড়ছে না। যখনই একটু মাছের মুখ দেখা মেলে তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডকে ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে বার্মা ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে চুরি করে মাছ ধরে নিয়ে যায়।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির নেতা আ. জলিল ঘরামি বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান রেখে জেলেরা বুধবার মধ্যরাতের আগেই সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসবে। এরই মধ্যে অনেক ট্রলারে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রেতাশ্রয়ে এসে নোঙর করে বাড়ি ফিরে গেছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু জেলে ট্রলার মাঝে মাঝে কিছু মাছ পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়।

৫৮ দিনের অবরোধের শেষে একের পর এক দুর্যোগে জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারেনি। ৫৮ দিনের অবরোধের রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ দিনের অবরোধ জেলে আড়তদারদের হতাশ করেছে। তারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমেই জেলেদের দুর্যোগের মধ্যদিয়ে গেছে। সমুদ্রে মাছ নেই, জেলে ও আড়তদারদের ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। এরপরও জেলেরা সরকারের আইন মেনে মাছধরা থেকে বিরত থাকছে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মা ইলিশসহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এতে মৎস্যজীবীদের লাভ হবে।

তিনি বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে কলাপাড়া উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান। যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ চুরি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অবস্থানের কারণে তিনি দ্রুত যাত্রীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশংসা ও ‘ফাটাকেষ্ট’ নামেও পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

তবে কিছুদিন ধরে নওশাদ খানকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা না যাওয়ার কারণে বিভিন্ন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক এবং ইউটিউবে তার বদলির খবরও ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখন কোথায় অবস্থান করছেন?

এ সকল গুঞ্জনকে অস্বীকার করে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি এখনও শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাস থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন নওশাদ খান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি কমানোর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। লাগেজ হ্যান্ডলিং ও রিলিজের সাথে যুক্ত কর্মীদের জন্য বডি-ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ কন্টাক্ট জোনে সিসিটিভি স্থাপন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফুটেজ সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

এই কারণে বিমানবন্দরে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে নওশাদ খানের নাম আলোচনায় আসত। তার কার্যক্রমের ফলে অনেক যাত্রী ও প্রবাসীর মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি বিমানবন্দরের যাত্রীসেবার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষা, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং ট্রলির সংকটসহ নানা বিষয়ে যাত্রীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সম্প্রতি মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে উত্তেজনার ঘটনা ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মেজর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও নওশাদ খানের পুরোনো অভিযানগুলোর ভিডিও ও খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যাত্রীদের অভিযোগে দ্রুত ছুটে যাওয়া সেই কর্মকর্তা এখন কোথায়? কিছু মানুষ আবারও তাকে বিমানবন্দরের অনিয়ম তদারকিতে সক্রিয়ভাবে দেখতে চেয়ে পোস্ট ও মন্তব্য করেন।

তবে নওশাদ খান জানিয়েছেন, তিনি বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখনও বিমানবন্দরেই আছি। একটু আগে লাগেজের কাজ করলাম। এসব খবর আমি অনলাইনে দেখছি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে আগের মতো দেখা না যাওয়ার কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় আসি না। এড়িয়ে চলি।

বিমানবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু আসলে শোনা যায়। কিন্তু আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে কেউ কোনো অভিযোগ জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। সাধারণ মানুষকে বলব, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানাতে। তাহলে প্রতিকার পাবেনই।

অর্থাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও ‘ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ’ এখনও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%