প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাদিয়া আক্তার (১৮) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহবধু নাদিয়া আক্তার উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মোঃ কাউসারের (২৫) স্ত্রী এবং লংগাইর ইউনিয়নের নামা বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের পুত্রীর। নাদিয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অটো চালক কাউসার ও শাশুড়ী পলাতক রয়েছেন। গত বুধবার দিবাগত রাতে গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিহত গৃহবধূর মা মইফুল গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয়, নিহতের পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে গফরগাঁও উপজেলার হাতিখলা গ্রামের মৃত নুর চান মিয়ার ছেলে মোঃ কাউসারের সাথে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার নামা বাগবাড়ী গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে নাদিয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নাদিয়া স্বামী ও শাশুড়ির সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় স্বামী নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শ্বশুর পরিবারের সদস্যরা রাতেই গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর প্রচার করে। পরে এই খবর নিহতের পরিবারকে জানানো হয়।
নাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা থানায় পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের না পেয়ে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। গৃহবধূ নাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাতিখলা গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা? তবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানানো হচ্ছে। নিহতের দূর সম্পর্কের দুলাভাই মফিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে কাউসার নাদিয়াকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। তার অভিযোগ, নাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার পর স্বামী ও শাশুড়ি পালিয়ে গেছেন। গফরগাঁও থানার এস আই কবির হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ থানায় নিয়ে আসেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে লাশ জেলা মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন