১১:৪৭ এম
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উচ্চকক্ষ সিনেটে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, বিরোধীরা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১টি আসন জয় নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে তারা দুইটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে, রিপাবলিকান পার্টি ৩৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং ৬টি আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নাটকীয় জয় অর্জন করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসনে জয়লাভ করেছেন ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। তিনি প্রয়াত দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেন। অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় লাভ করেছিলেন।
এছাড়া, নর্থ ক্যারোলাইনাতেও সিনেটের একটি আসন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। সেখানে সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
আরও পড়ুন: আমি ব্যালটে থাকলে বিপুলে ভোটে জিতে যেতাম: ট্রাম্প
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও বড় চমক দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। তিনি অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে জয় লাভ করেছেন। টেক্সাসে সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন।
এছাড়া, ওহাইওতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডকে হারিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
বর্তমান ১১৯তম কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫টি আসন। তাদের সঙ্গে জোটে ছিলেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর।
মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকানদের একক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্ট—এই তিন ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল দলটি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই অবস্থাকে ‘ট্রাইফেক্টা’ বলা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: ৯৪ বছর পর কানসাসে সিনেট আসন পেলেন ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কারণ, এবারে সিনেটে তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন