ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ফুটবলারের মৃত্যু, শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে দায়ী গোলরক্ষক


ফুটবলারের মৃত্যু, শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে দায়ী গোলরক্ষক

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু ঘটেছে, যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার (২ নভেম্বর) ম্যাচ চলাকালে গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা হতে পারে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির এই গোলরক্ষকের বিরুদ্ধে।

এল পাইস–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত হত্যার সম্ভাব্য অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের জাতীয় পুলিশ। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের হাইকোর্ট জানিয়েছে, অস্বাভাবিক কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করা বাধ্যতামূলক। তবে এর মানে এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্পেনের দণ্ডবিধির ১৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গুরুতর অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর ঘটনায় এক থেকে চার বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তুলনামূলক কম গুরুতর অবহেলার ক্ষেত্রে তিন থেকে ১৮ মাসের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: মোস্তাফিজ প্রথমবার বিগ ব্যাশে, খেলবেন মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে

তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই গোলরক্ষককে অভিযুক্ত করা হবে কিংবা দোষী সাব্যস্ত করা হবে, এমন নয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণের জন্য প্রমাণ করতে হবে যে তার আচরণে আইনগতভাবে প্রাসঙ্গিক অবহেলা ছিল এবং সেই পরিণতি আগে থেকে অনুমান করা ও এড়ানো সম্ভব ছিল কি না।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনার পরিণতি কী হতে পারে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন। কারণ স্পেনে কোনো সংস্পর্শভিত্তিক খেলায় দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের কারণে একজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়ার নজির নেই।

কী শাস্তি হতে পারে গোলরক্ষক ওওনোর?

ক্রীড়াগত শাস্তির ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১০২ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, খেলা চলাকালে সহিংস আচরণের কারণে গুরুতর চোটের ঘটনা ঘটলে চার থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগে রাফিনিয়ার জোড়া গোলে ৩-০ জয়

ওই ম্যাচে গোলরক্ষক ওওনো লাল কার্ড দেখেছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে এই ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ওপর।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার ভয়াবহ পরিণতির কারণে ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন। তবে প্রতিপক্ষের মৃত্যুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও গোলরক্ষকের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

গোলরক্ষকের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আইনজীবীর বক্তব্য?

ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ মারিয়ানা গালভান ‘এস্তুডিও ফুটবল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ওওনোর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: ইতিহাসে কখনো হয়নি, এমন ২ রেকর্ড পিএসজি ভাঙল ৬ গোল করে

তিনি বলেন, ‘এখানে তদন্তের তিনটি দিক রয়েছে, ক্রীড়াগত, ফৌজদারি এবং শ্রম আইনসংক্রান্ত। এর মধ্যে ফৌজদারি বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুতর। ওওনোর পক্ষে একটি বিষয় রয়েছে, সেটি হলো সংঘর্ষের সময় বলটি খেলার মধ্যে ছিল। তবে এখনই এটিকে দুর্ঘটনা বলা যাচ্ছে না। গোলরক্ষকের কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়াগত দিকটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাই হোক, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গোলরক্ষককে আদালতে হাজির হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যুর কোনো পূর্ববর্তী নজির নেই। এমন পরিস্থিতিতে আইএফএবের (আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং এ ধরনের ঘটনার শাস্তি আরও কঠোর করা উচিত। ফুটবলাররা অনেক সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা পান না। মাথায় আঘাত একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে, আর এই ঘটনায় তা কেড়ে নিয়েছে একটি জীবন।’

গালভান আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ফৌজদারি আইনে যেটিকে আমরা অবহেলা বলি, ফুটবলের ক্ষেত্রে সেটিকে বেপরোয়া আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা সামান্য হোক কিংবা গুরুতর। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একজন বিচারক ঘটনাটিকে সামান্য বেপরোয়া আচরণ হিসেবে দেখতে পারেন, কারণ তার বিবেচনায় এটি খেলার স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপরই ক্রীড়াগত শাস্তি এবং পরবর্তী নৈতিক মূল্যায়ন নির্ভর করবে।’

যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:

আরও পড়ুন: পিএসজির গোল উৎসব, বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের বড় জয়

হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯৭তম মিনিটে ঘটে এই দুর্ঘটনা। বলের দখল নিতে গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন ওওনো। এ সময় টেনেরিফের স্ট্রাইকার দে মিগেলের সঙ্গে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর মাঠেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দে মিগেলের। চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে তার হৃদ্‌স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু পরদিন সকালে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই ফুটবলার।

ঘটনার পর রেফারি ওওনোকে লাল কার্ড দেখান এবং ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুরো ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ২৫ বছর বয়সী ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলরক্ষক। দিয়ারি ডি'আন্দোরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতীর্থদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে রাত কাটানোর সময় কেঁদেছেন এবং প্রার্থনা করেছেন তিনি। দে মিগেলের শারীরিক অবস্থার খবর পাওয়ার জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন: মেসি ছাড়া ২১ বছর পর আর্জেন্টিনার দল ঘোষণা

এ ছাড়া স্পোর্ত জানিয়েছে, নিহত ফুটবলারের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওওনো।

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এখন তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে স্প্যানিশ ফুটবল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমি অবশ্যই নির্বাচনের ফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব। আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার কোনো পথ বের করতে পারব।"

ট্রাম্প রিপাবলিকানদের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য নিজের নাম ব্যালটে না থাকার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, দলের প্রার্থীরা প্রত্যাশিত ফল পাননি কারণ তিনি নিজে প্রার্থী ছিলেন না।

ট্রাম্প মন্তব্য করেন, "ব্যালটে আমি ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিপুল ব্যবধানে জয়ী হতাম!"

তিনি নির্বাচনে সমর্থন দেওয়া পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। তবে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, "দেখলাম ডারলিন হেরে গেছেন। বাহ, এটা তো অবিশ্বাস্য!"

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসন এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ; দুটির নিয়ন্ত্রণই রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হলো প্রতিনিধি পরিষদ। সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণত আইন প্রণয়নের প্রস্তাব প্রথমে এই কক্ষে উত্থাপন ও আলোচনা করা হয়, পরে তা সিনেটে পাঠানো হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা আজ

আজ গার্মেন্টস শিল্প খাতে নিযুক্ত সকল শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নিম্নতম মজুরি হার সুপারিশ করার উদ্দেশ্যে গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সভা বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গঠিত নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ একটি চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অসন্তোষ এবং এ খাতে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এই সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ১৩৯ ধারা অনুযায়ী ‘গার্মেন্টস’ শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত সকল শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিম্নতম মজুরি হার সুপারিশ করার জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা বুধবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা জজ) সভাপতিত্ব করবেন এবং সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বোর্ডের সভাকক্ষে (শাহ পোরশিয়া, (১৪তম তলা), ৪০, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০)।

সভায় আলোচনা হবে বিভিন্ন বিষয়ে, যার মধ্যে রয়েছে অভ্যাগতদের পরিচয়-পর্ব, গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরে নিযুক্ত সকল শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য নিম্নতম মজুরি হার সুপারিশ প্রণয়ন। শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব নির্ধারিত বিকেল ৩টার পরিবর্তে সভাটি বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১ নভেম্বর, সরকার তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে। বিচারপতি আশফাকুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে ৬ সদস্যের এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসলিউদ্দিন আহমেদ, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়া, বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামসুদ্দিন মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে সড়ক দখল করে ওয়ার্কশপ, যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


সিরাজগঞ্জে সড়ক দখল করে ওয়ার্কশপ, যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে যানচলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের মুলিবাড়ি থেকে নলকা পর্যন্ত ২ লেনের সড়ককে ৪ লেনে উন্নীত করেছে সড়ক বিভাগ। যদিও বাজার স্টেশন থেকে বাস কাউন্টারগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে, কিন্তু কাটওয়াবদা থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দখল করে ট্রাক, সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড, গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠার কারণে প্রায়ই সড়ক জুড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই পথে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয়দের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ অয়াহাব জানান, জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে আমাদের জন্য একটি নির্ধারিত ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যদি সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তাহলে আমরা সকল ট্রাক রাস্তা থেকে সরিয়ে টার্মিনালে রাখবো। সড়ক থেকে ট্রাক সরানোর জন্য প্রশাসনের সহায়তা দাবি করেছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাসের মতো সকল যানবাহনের টার্মিনাল সড়ক থেকে সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের মুলিবাড়ি মোড় থেকে নলকা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে ৮ দিন ধরে জ্বলছে গ্যাস, মাটির নিচে বড় মজুতের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ এম


কক্সবাজারে ৮ দিন ধরে জ্বলছে গ্যাস, মাটির নিচে বড় মজুতের সম্ভাবনা

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানিতে নলকূপ খননের সময় মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসের কারণে আগুন জ্বলছে টানা আট দিন ধরে। গত ২৭ অক্টোবর ভোর ৫টায় গ্যাস নির্গমন শুরু হয় এবং এখনও তা বন্ধ হয়নি। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণকারী বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের প্রবাহ ও আগুনের শিখা ক্রমাগত বাড়ছে।

এই ঘটনার ফলে নতুন প্রশ্ন উঠেছে, ইনানির ভূগর্ভে কি প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় উৎস বিদ্যমান? সেখানে কি বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেটও কি বেরিয়ে আসছে?

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং পেট্রোবাংলার বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, এলাকাটি হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের জন্য সম্ভাবনাময়। সাঙ্গু ও সেমুতাংয়ের মতো গ্যাসক্ষেত্রের নিকটবর্তী অবস্থান এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা আগুনের শিখার কালো রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস নির্গমন বা আগুন জ্বলার ঘটনা বড় গ্যাসক্ষেত্র থাকার প্রমাণ নয়। গ্যাসের প্রকৃত উৎস, রাসায়নিক গঠন, ভূগর্ভস্থ আধারের আকার এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা জানার জন্য আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।

বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) শামসিয়া মুক্তাদির জানিয়েছেন, ইনানির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হাইড্রোকার্বন সৃষ্টি ও জমা হওয়ার জন্য অনুকূল। এই কারণে এলাকাটি তাদের কাছে অনুসন্ধানের জন্য আগ্রহের জায়গা ছিল। সেখানে প্রাকৃতিকভাবে গ্যাস নির্গমনের একটি সিপেজও আগে শনাক্ত হয়েছিল।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘পুরো স্ট্রাকচারটাই আসলে হাইড্রোকার্বন জেনারেশন এবং এন্ট্রাপমেন্টের জন্য একটা ফেভারেবল কন্ডিশন। যেখানে আমরা সিপেজটা পেয়েছি, অনেক আগে থেকেই সেটা আমাদের একটা ইন্টারেস্টিং জোন হিসেবে ছিল।’

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, ইনানি কাঠামোর কাছাকাছি এলাকায় এরই মধ্যে কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে সাঙ্গু ও সেমুতাং উল্লেখযোগ্য।

তার মতে, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় ভাঁজ বলয়ে (ইস্টার্ন ফোল্ডেড বেল্ট) হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে মিয়ানমারের সোয়ে গ্যাসক্ষেত্র পর্যন্ত একটি কাল্পনিক রেখা টানলে ইনানি অঞ্চলও সেই ভূতাত্ত্বিক বিবেচনার মধ্যে পড়ে।

নাফিফুন আরহাম আরও বলেন, বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল ও সমুদ্র এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত অনুসন্ধান চালানো হয়নি। এসব এলাকায় অনুসন্ধানের বড় সুযোগ রয়েছে। তবে আর্থিক সক্ষমতা ও অনুসন্ধান ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার তুলনামূলক কম খরচে আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন কূপগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।

তিনি জানান, ইনানির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে ফল্ট ও ফ্র্যাকচারের মতো বিষয় রয়েছে। আরও জরিপের মাধ্যমে সঠিক স্থান চিহ্নিত করে অনুসন্ধান কূপ খনন করা গেলে বাণিজ্যিক গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইনানি অঞ্চল বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় ভাঁজ বলয়ের অংশ। এই বলয়ের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন হিমালয়ান অরোজেনি ও আরাকান-ইয়োমা অঞ্চলের টেকটনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের মতে, একই ধরনের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে ভারতের ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। মিয়ানমারের সোয়ে গ্যাসক্ষেত্রও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

নাফিফুন আরহাম বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর এসব আবিষ্কার বাংলাদেশের পাহাড়ি ও সমুদ্রসংলগ্ন এলাকায় অনুসন্ধানের সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সাধারণত অগভীর ভূগর্ভে সীমিত পরিমাণে জমা হওয়া গ্যাসকে পকেট গ্যাস বলা হয়। এ ধরনের গ্যাসের আধার ছোট হলে কয়েক দিন বা তারও কম সময়ের মধ্যে গ্যাসের চাপ কমে গিয়ে নির্গমন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের সদস্য মোহাম্মদ ইমামুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের গ্যাস নির্গমনের ঘটনা দেখা যায়। সাধারণত অগভীর স্তরে জৈব পদার্থ চাপা পড়ে তৈরি হওয়া বায়োজেনিক গ্যাস এ ধরনের ঘটনার একটি উৎস। এসব গ্যাসের মজুত সাধারণত কম এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের উপযোগী নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, কক্সবাজারের মহেশখালীতেও আগে একই ধরনের একটি গ্যাস নির্গমনের ঘটনা ঘটেছিল। সেটি আট থেকে দশ দিন স্থায়ী হয়েছিল। পরে গ্যাসের চাপ কমে গেলে নমুনা সংগ্রহ করে বাপেক্সের পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে মিথেনের পাশাপাশি ইথেনের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল।

তবে ইনানির গ্যাসের উৎস একই রকম কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইনানির গ্যাসের প্রকৃতি জানতে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন ও মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব। এর আগে বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলায় বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে এ ঘটনা বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে মো. শোয়েব বলেন, সভায় ধারণা করা হয়েছে, নির্গত গ্যাসটি থার্মোজেনিক ও বায়োজেনিক প্রকৃতির হতে পারে। তবে আগুনের শিখার রং দেখে গ্যাসের সঙ্গে তেল বা কনডেনসেট থাকার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, আগুনের শিখার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে শুক্রবার রাতে তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে আগুনের শিখার রং কালো দেখা গেছে। এটি গ্যাসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল বা কনডেনসেট নির্গমনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

মো. শোয়েব আরও বলেন, বাপেক্সের কর্মকর্তারা কয়েকদিন ধরে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরিস্থিতির প্রতিবেদন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, আগুনের শিখা ক্রমেই বাড়ছে।

তবে কালো শিখা দেখে তেল বা কনডেনসেটের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায় না। এ জন্য গ্যাস ও তরলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করতে হবে।

গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি

ইনানির গ্যাসের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে প্রথমেই এর রাসায়নিক গঠন জানা প্রয়োজন। কিন্তু প্রচণ্ড চাপ ও তাপের কারণে ঘটনাস্থলে নিরাপদে পৌঁছে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা।

নাফিফুন আরহাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মাটি ও পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা যায়নি। গ্যাসের মধ্যে মিথেন, ইথেন, প্রোপেন ও বিউটেনের মতো উপাদান কী পরিমাণে রয়েছে, তা পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে হবে। বিশেষ করে গ্যাসটি বায়োজেনিক, নাকি থার্মোজেনিক, তা নির্ধারণ করা জরুরি।

বায়োজেনিক গ্যাস সাধারণত অগভীর স্তরে জৈব পদার্থের পচন থেকে তৈরি হয়। অন্যদিকে থার্মোজেনিক গ্যাস ভূগর্ভের গভীর স্তরে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ ও চাপের প্রভাবে তৈরি হয়। গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা গেলে ভূগর্ভে বড় কোনো হাইড্রোকার্বন আধারের সঙ্গে এর সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে।

তেলের উপস্থিতি এখনো নিশ্চিত নয়

গ্যাসের পাশাপাশি ইনানিতে তেলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাফিফুন আরহাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা পানির নমুনায় প্রাথমিকভাবে তেলের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে পরীক্ষাগারে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তার মতে, গ্যাসের সঙ্গে উচ্চতর হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হলেও তেলের অস্তিত্ব সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

আগুন জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে কেন

বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের সদস্য মোহাম্মদ ইমামুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরাসরি বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্গত গ্যাস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।

তার মতে, জোর করে গ্যাসের নির্গমন বন্ধ করার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি নির্গমণপথ বন্ধ হয়ে গেলে ভূগর্ভস্থ গ্যাস অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

ইনানির ঘটনাস্থলে মূল নির্গমনস্থলের আশপাশে ছোট ছোট ফাটল তৈরি হয়েছে। সেসব ফাটল দিয়েও গ্যাস বের হতে দেখা গেছে। এমনকি পাশের একটি স্থাপনার দেয়াল ও মাটির সংযোগস্থল দিয়েও গ্যাস নির্গমনের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

তাহলে পর্যাপ্ত কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়া গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা উচিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

১৫ দিন পর্যবেক্ষণ, রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা

গ্যাসের নির্গমন অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আশপাশের প্রায় ২০০ বর্গমিটার এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের উৎস একটি অগভীর গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার। সাধারণত বাংলাদেশে ভূগর্ভের দেড় থেকে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে গ্যাসের মজুত পাওয়া যায়। তবে ইনানির ক্ষেত্রে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ সময় আগুনের শিখার উচ্চতা ও গ্যাস নির্গমনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্ভাবনা আছে, তবে এখনই আবিষ্কারের ঘোষণা নয়

ইনানির ঘটনা বাংলাদেশের উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাবনা সামনে এনেছে। তবে আট দিন ধরে আগুন জ্বলছে বলে সেখানে বড় গ্যাসের মজুত রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে যুক্তিসংগত নয়। গ্যাসের প্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণ ভূগর্ভস্থ বড় কোনো আধারের সঙ্গে সংযোগও হতে পারে, আবার অন্য কোনো ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াও এর পেছনে থাকতে পারে।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ ও রাসায়নিক বিশ্লেষণ, নির্গমনের চাপ ও প্রবাহ পরিমাপ এবং ভূতাত্ত্বিক ও ভূকম্পন জরিপের মাধ্যমে উৎস শনাক্ত করতে হবে।

প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান কূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের আধারের প্রকৃতি ও বিস্তৃতি নির্ধারণ করতে হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফলই বলে দেবে, ইনানির নিচে সত্যিই বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%