০৩:৪১ এম
সাতকানিয়ায় মিনিবাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং ৪ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করে। এছাড়া, দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশ ও সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বিক্ষুদ্ধ জনতা ধাওয়া করে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত, ২ জন গুরুতর আহত
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের শাইর-এর বর বাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০) এবং তার মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত (২)।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া অংশের পাঠানিপুলের উত্তর পাশে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগামী একটি মিনিবাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন ও তার মেয়ে ওয়াসিফা জান্নাত ঘটনাস্থলে নিহত হন।
এছাড়া, দেলোয়ারের স্ত্রী ও ছেলেসহ ৪ জন আহত হন। স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এর ফলে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
পরে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
সাতকানিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশের অস্ত্র লুটের চেষ্টা করা হয়। এরপর সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এসে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। তারা পুলিশের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে তাদেরও ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল আবছার জানান, মিনিবাসের সঙ্গে সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মিনিবাসটিতে আগুন দেন। হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: গাজীপুরের কারখানার গুদামে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন