০৩:০৪ পি.এম
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য, বিমানবন্দরে হট্টগোলের ঘটনায় গ্রেফতারের এক মাস পর অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
মুক্তির সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ঢাকা জেলা আমির দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসেন, এমপি, জয়নাল আবেদীন, এমপি, উত্তরের প্রচার- মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, আইজীবী রুকন রেজা প্রমুখ। এ সময় নেতারা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আরও পড়ুন: বড়দিনের জন্য দুই কোটি অনুদানের বদলে প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি টাকা
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার গোলাম ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে আখতারুজ্জামান কারামুক্তি পেয়েছেন। তার পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীরা কারাফট থেকে তাকে গ্রহণ করেন।
এর আগে বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় আখতারুজ্জামানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। সোমবার (২ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গত রোববার (১ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ জামিন আদেশ দেন।
গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: রাজপথে সরকারকে জবাব দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-৩৩৮ ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি-সংকট দেখা দিলে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে গালাগাল করেন এবং ‘আমি কিন্তু পিটাব ধইরা’ ও ‘ঘাড় ধরে বের করে দেব’ বলে হুমকি দেন। একই সময়ে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
এ ছাড়া যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ফেলে দিয়ে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: নওগাঁ জেলা কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেনের মৃত্যু
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন