১১:৩৪ পি.এম
নিজের হাতে বসতঘরের মেঝেতে তিনি দুটি কবর তৈরি করেছিলেন। পরে প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করে সজীব বেপারী কোদাল দিয়ে নিজ হাতে কথিত সেই কবর দুটো ভেঙে ফেলেন। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা বসতঘরের মধ্যে ‘কবর জেগে ওঠার’ রহস্য এভাবেই উদ্ঘাটিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের কদমবাড়ি গ্রামের ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল ও আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সজীব বেপারী এবং তার মা শিউলী বেগমের সঙ্গে কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ঢাকা দক্ষিণে ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ, মূল্য ১০০ টাকা
একপর্যায়ে সজীব নিজেই কবর দুটো তৈরির কথা স্বীকার করেন। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে কোদাল দিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলেন তিনি। তবে কেন তিনি কবর দুটো তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সজীব। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলেও উপজেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী প্রায় ছয় মাস ধরে ধ্যানে বসে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন নারী-পুরুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসতেন। প্রতি সোমবার রাতে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যেত কয়েক গুণ।
এরইমধ্যে গেল ২৬ অক্টোবর সকালে সজীবের বসতঘরের মেঝেতে একটি কবর জেগে ওঠার দাবি করে তার পরিবার। একই দিন রাত ১২টার দিকে পাশে আরও একটি কবর জেগে ওঠে বলেও জানানো হয়। পরিবারটির দাবি ছিল, কবর দুটো বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী ও খাজা মঈনউদ্দিন চিশতির।
এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কথিত কবর দুটো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। একই সঙ্গে সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফরে উপকূলবাসীর উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিল হোসেন তমাল বলেন, ‘এ ধরনের একটি ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে তদন্তে যায়। মানুষ যাতে প্রতারিত না হয়, সে জন্য সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি কবর দুটো নিজের তৈরি বলে স্বীকার করেন এবং নিজেই সেগুলো ভেঙে ফেলেন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন