ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মিরপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত


মিরপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহত

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যকে একা পেয়ে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত করেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কালশী সড়কে এই ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্য মো. সাইমন বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর-১১ এলাকা থেকে পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর শ্রমিকরা কালশীর দিকে চলে যান। এ সময় পল্লবী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিরপুর-১১-এর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে দলছুট অবস্থায় কনস্টেবল সাইমনকে পেয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করছেন। এ সময় কয়েকজন তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।

আরও পড়ুন: বড়দিনের জন্য দুই কোটি অনুদানের বদলে প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি টাকা

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশও জবাবে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। সংঘর্ষের সময় মেট্রো স্টেশনের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন।

সকাল থেকেই পল্লবীর শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটাও দেখা যায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, পূরবী শিল্প এলাকার বিভিন্ন গলি থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

আরও পড়ুন: রাজপথে সরকারকে জবাব দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে ঘরোয়া চিকিৎসার কার্যকর পদ্ধতি

হঠাৎ শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এটি অ্যালার্জি, ঠান্ডা, হাঁপানি, গরম আবহাওয়া কিংবা ধুলাবালুর প্রভাবে হতে পারে। তবে গুরুতর শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সাময়িক স্বস্তি পাওয়ার জন্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট হলে তাৎক্ষণিক কী করবেন?

১. সোজা হয়ে বসুন: শুয়ে না থেকে সোজা হয়ে বসলে ফুসফুসের প্রসারণ সহজ হয় এবং শ্বাস নিতে সুবিধা হয়।

২. ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন: নাক দিয়ে ধীরে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এই পদ্ধতি শরীরকে কিছুটা শান্ত করে এবং অক্সিজেন গ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে সহায়তা করে।

৩. কুসুম গরম পানি পান করুন: গলা শুকিয়ে গেলে বা কফ জমলে কুসুম গরম পানি স্বস্তি প্রদান করতে পারে।

৪. বাষ্প নিন: গরম পানির ভাপ নিলে নাক বন্ধভাব ও কফ কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে খুব গরম ভাপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।

৫. আদা ও মধু: আদা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। হালকা গরম পানিতে আদা ও সামান্য মধু মিশিয়ে পান করলে গলা আরাম পেতে পারে।

৬. ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন: ধূমপান, রান্নার ধোঁয়া বা ধুলাবালি শ্বাসকষ্ট বাড়াতে পারে। তাই পরিষ্কার ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় অবস্থান করুন।

৭. ইনহেলার থাকলে ব্যবহার করুন: যাদের হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের পুরোনো সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইনহেলার ব্যবহার করতে পারেন।

যেসব কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে

- হাঁপানি

- অ্যালার্জি

- ঠান্ডা বা ফ্লু

- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাক

- ফুসফুসের সংক্রমণ

- হৃদরোগ

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ করুন—

- ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাওয়া

- বুকব্যথা

- কথা বলতে কষ্ট হওয়া

- খুব দ্রুত শ্বাস নেওয়া

- অচেতন বা ঝিমিয়ে পড়া

- ইনহেলারেও কাজ না হওয়া

প্রতিরোধে করণীয়

- ধূমপান এড়িয়ে চলা

- নিয়মিত ব্যায়াম

- পর্যাপ্ত পানি পান

- অ্যালার্জির কারণ থেকে দূরে থাকা

- ঘর পরিষ্কার রাখা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালগঞ্জে মাদক কারবারি নাইমুর রহমান আটক, ইয়াবা-গাঁজা জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


গোপালগঞ্জে মাদক কারবারি নাইমুর রহমান আটক, ইয়াবা-গাঁজা জব্দ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নাইমুর রহমান নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতের কাছে পাওয়া গেছে এক হাজার ৩৮০ পিস ইয়াবা, সাত শ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির এক লাখ ৬৯ হাজার ১৫০ টাকা। এসআরবি-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় কাশিয়ানী উপজেলার ভাট্টাইধোপা এলাকার মাজরা বাজার সরকারি মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসআরবি ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নাইমুর রহমানকে ইয়াবা, গাঁজা, মাদক বিক্রির টাকা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। তবে, তার সঙ্গে থাকা অপর এক ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এসআরবি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার জন্য আটক নাইমুর রহমান এবং পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিকে এবং জব্দকৃত আলামতকে কাশিয়ানী খানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া মাদক কারবারিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তরাখণ্ডে ভারী তুষারপাতে ট্রেকারসহ নিখোঁজ ৮ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩২ পি.এম


উত্তরাখণ্ডে ভারী তুষারপাতে ট্রেকারসহ নিখোঁজ ৮ জন

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হিমালয় অঞ্চলে ভারী তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আটজন ট্রেকার নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুষারপাতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় উদ্ধারকারীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

হিন্দি দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তরকাশী জেলার কেদারতালের কাছে প্রায় চার হাজার মিটার উচ্চতায় বরফের নিচে চাপা পড়া একটি তাঁবু উদ্ধারকারীরা খুঁজে পেয়েছেন। আশপাশে পোশাক, স্যান্ডেল ও খাদ্যসামগ্রীও পাওয়া গেছে, যা নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়ক হতে পারে।

দুই থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে অনুসন্ধান চালানোর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান মেলেনি। অব্যাহত তুষারপাতের কারণে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ১০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে করে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিখোঁজদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পাঁচজন ট্রেকার, উত্তর প্রদেশের দুই নারী এবং একজন স্থানীয় গাইড অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

তারা গত ২৭ অক্টোবর গঙ্গোত্রী থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ২৯ অক্টোবর তাঁদের ফিরে আসার কথা ছিল। এর আগে বরফধসে পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শনিবার চারজনকে উদ্ধার করা হয়, যাদের মধ্যে তিনজন পোর্টার ও একজন বাবুর্চি ছিলেন।

উত্তরাখণ্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেকিং রুটে একাধিক বরফধসের কারণে স্থলপথে অনুসন্ধান এবং হেলিকপ্টার পরিচালনা—দুই কাজই জটিল হয়ে পড়েছে।

অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে চার হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার সব হাই-অল্টিটিউড ট্রেকিং রুট বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়ার উন্নতি হলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কারখানায় ৩ দিনের ছুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ পি.এম


কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কারখানায় ৩ দিনের ছুটি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের এক দফা দাবিতে চরম আকার ধারণ করেছে। টানা বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের প্রেক্ষাপটে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শ্রমিকদের সুরক্ষার স্বার্থে কালিয়াকৈর ও আশপাশের অঞ্চলের অর্ধশতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা মালিকপক্ষ তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো শিল্পাঞ্চলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের ক্ষোভের পাশাপাশি মালিকদের আতঙ্কও লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আর এর মাঝে রাস্তায় আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী। ফলে পুরো মহাসড়ক যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল নয়টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মুহূর্তের মধ্যে চন্দ্রা, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও তেলিচালাসহ পুরো শিল্পাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডসহ কয়েকটি কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক একযোগে বেরিয়ে এসে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরা হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী সব যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এর ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং দূরপাল্লার বাসসহ হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার শ্রমিক পায়ে হেঁটে মিছিল করছেন। একপাশে সম্পূর্ণ রাস্তা জুড়ে মানুষের ঢল, অন্যপাশে দাঁড়িয়ে আছে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেটকার। বাসের ভেতরে বসে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছেন, কেউ খাবারের খোঁজ করছেন, আবার কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

শিল্প পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২ নভেম্বর) একই এলাকায় শ্রমিকেরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেই সময় পুলিশের একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, কারখানার গুদামে হামলা ও ভাঙচুরের মতো মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সংঘাত চলাকালে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। সোমবারের আগুনের আতঙ্ক এখনও এলাকার মানুষের মনে তাজা রয়েছে।

এই কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কারখানার মালিকরা ভয়ে ছিলেন, শ্রমিকেরা ক্ষোভে, আর পুলিশ ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের একমাত্র দাবি হল- ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।

এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভাই, বাজারে চালের দাম কত জানেন? বাসা ভাড়া কত? একটা ডিমের দাম কত? বর্তমান বেতনে ১০ দিনও সংসার চলে না। বাকি ২০ দিন ধার করে চলতে হয়। আমরা বিলাসিতা চাই না, আমরা শুধু বাঁচতে চাই।"

আরেক নারী শ্রমিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার দুটো বাচ্চা, স্বামী অসুস্থ। আমি একা কাজ করি। বেতন দিয়ে বাসা ভাড়া দেব, নাকি বাচ্চাদের খাওয়াব, নাকি ওষুধ কিনব? আমাদের কথা কেউ শোনে না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।"

শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, বিনা নোটিশে ছাঁটাই আর ব্ল্যাকলিস্টের ভয়ে তাঁরা কথা বলতে পারেন না। কেউ ন্যায্য দাবি তুললেই তাঁকে ছাঁটাই করে অন্য কোনো কারখানায় চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সাধারণ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। ঢাকাগামী এক যাত্রী বলেন, "সকাল ৯টা থেকে বাসে বসে আছি। ৩ ঘণ্টায় ২ কিলোমিটারও যেতে পারিনি। বাচ্চাটা ক্ষুধায় কাঁদছে, সঙ্গে থাকা পানিও শেষ হয়ে গেছে।"

অন্য এক রোগীর স্বজন বলেন, "আমার মাকে নিয়ে ঢাকার হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তায় আটকে আছি। ডাক্তার বলেছেন দেরি হলে বিপদ হতে পারে। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।"

চন্দ্রা থেকে ভোগড়া বাইপাস পর্যন্ত এলাকা জুড়ে বিশাল এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। শত শত বাস, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন।

মাঠে বিজিবি, পুলিশ ও যৌথবাহিনী:

মঙ্গলবারের পরিস্থিতি মোকাবেলায় কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সড়কজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি, পুলিশ ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তাঁরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, কিছু এলাকায় আজও শ্রমিক আন্দোলন চললেও নাওজোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। আন্দোলনরত শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে- শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু মহাসড়ক বন্ধ করে, ভাঙচুর চালিয়ে ও আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত টানা তিন দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কারখানা সচল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক কারখানা মালিক বলেন, "আমরা চাই না কোনো শ্রমিকের গায়ে আঘাত লাগুক। কারখানার মেশিনের চেয়ে শ্রমিকের জীবনের দাম অনেক বেশি। তাই আপাতত ছুটি দেওয়া হয়েছে।"

তবে এই ছুটির সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, ছুটি দিয়ে তাঁদের আন্দোলন দমানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

কালিয়াকৈর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে লাখ লাখ শ্রমিকের ঘামে চলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প। এই শিল্প বন্ধ হলে ক্ষতি হবে সবার- শ্রমিকের, মালিকের এবং পুরো দেশের।

সাধারণ মানুষের দাবি হল- শ্রমিকের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া হোক, তবে রাস্তায় আগুন বা ভাঙচুর নয়, আলোচনার টেবিলেই আসুক সমাধান। শ্রমিক ফিরুক কারখানায়, যাত্রী ফিরুক নিরাপদে বাড়িতে, আর চাকা ঘুরুক মহাসড়কে। আগামী ৩ দিন পরিস্থিতি কেমন যায়, তা এখন নির্ভর করছে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%