০২:১৭ পি.এম
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে।
তিনি শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের আগে আয়োজিত সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দফা হচ্ছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। এটা বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাকি ছয় দফা জন্ম নিয়েছে। যদি একটা দফা বাস্তবায়ন হতো, তাহলে বাকি ছয় দফাও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারতো না।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লা বোর্ডের এইচএসসি পাশের হার ৪৮.০৪ শতাংশ
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি জাতিকে হতাশ করেছে। কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে। আমরা বিএনপিকে বলেছিলাম, ভালোয় ভালোয় এখান থেকে ফিরে আসুন। গণরায় বাস্তবায়ন করুন। না হলে আপনাদের উচ্চ মূল্য দিতে হবে। সেদিকেই সম্ভবত বিএনপি এগোচ্ছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষের কপালে যখন দুর্ভোগ লেখা থাকে, তখন ওই দুর্ভোগের ঠিকানায় না পৌঁছে তার শান্তি হয় না। বিএনপি ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। অতীত স্বৈরাচারের ইতিহাস থেকেও শিক্ষা নেয়নি। এর সঙ্গে প্রতিদিন নতুন নতুন জঞ্জাল জাতির জন্য সৃষ্টি করছে তারা।’
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে চার দিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে ফিরেছেন। কী জন্য গিয়েছিলেন, কী করে এসেছেন, জাতির সামনে তাকে এটা খোলাসা করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লুকোচুরি হচ্ছে কি না, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেয়া চলবে না। অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিল, পরিণতি তারা এখন ভোগ করছে।’
দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নেন, সুস্থ ধারায় ফিরে আসুন। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ বসার আগেই নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসে ঘোষণা দিন, আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করব। যদি এই ঘোষণা দেন, তাহলে পরবর্তী আর কোনো কর্মসূচি আপাতত বিরোধী দলের নেয়ার প্রয়োজন হবে না। যদি তা না দেন, তাহলে জনগণের এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়ব।’
আরও পড়ুন: শাহজাদপুর প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন; সভাপতি আল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রাসেল সরকার
বৃহত্তর ত্যাগের জন্য জাতিকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যুবসমাজকে কারো ছলনায় কান না দেয়ার জন্য বলবো। কারণ তোমরা রাজপথে লড়াই করে জাতিকে সাময়িক এই মুক্তি এনে দিয়েছ। এই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য আরেকবার লড়াই করতে হবে। দেশে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে।’
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উর্ধ্বমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস-সার সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বিলোপ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি বন্ধ করা।
আরও পড়ুন: রাজশাহী বোর্ডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন