মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৪ এম
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলায় আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
মামলাটি বাদী হয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রামে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।
এছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও আসামির তালিকায় রয়েছেন।
সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। দুদক অভিযোগ করেছে যে, ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন, চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করা হবে। এছাড়া, অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেটাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলমান যুদ্ধের নতুন করে শুরুর শঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) তেহরানে অনুষ্ঠিত হয় এবং তেহরান এটিকে ‘খুব ভালো’ বলে অভিহিত করেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিন দেশের কর্মকর্তারা ইরান সফর করেছেন। গত আগস্টে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পর এটি ছিল দেশ তিনটির কর্মকর্তাদের প্রথম যৌথ সফর।
বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা প্রকাশের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিনিধিদলটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে আলোচনা শেষে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই মন্তব্য করেছেন, তেহরানের বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তার মতে, ‘আমার মনে হচ্ছে, এই অঞ্চলে একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আলোচনায় আমি খুব ইতিবাচক পরিবেশ অনুভব করেছি।’
রেজাই আরও জানান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করতে হবে—এ বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছেন যে, "বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান।" স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, টোকিও বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।
দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার প্রদানের সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশ পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পালটা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।
শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান।
মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইপিএ বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা, চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লামীনে ইয়ামাল একবার নয়, দুবার নয়, টানা তিনবার কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড এবং বার্সেলোনা ক্লাবের সদস্য। অন্যদিকে, নারী বিভাগে বার্সেলোনার ভিকি লোপেজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতেছেন। ফলে এবারের ব্যালন ডি’অরে নারী ও পুরুষ দুই বিভাগেই সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন কাতালান ক্লাবটির দুই ফুটবলার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের হাতে পুরুষদের কোপা ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটি অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা ফুটবলারকে দেওয়া হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত কোপা ট্রফির প্রথম বিজয়ী ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
গত বছর ইয়ামাল টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার তিনি তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতে নিজের সেই কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। পুরস্কারটির ইতিহাসে টানা তিনবার এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ফুটবলার ইয়ামাল।
তবে এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের লক্ষ্য শুধুমাত্র কোপা ট্রফি জয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের আশা তার ছিল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্চালক থিয়েরি অঁরি কোপা ট্রফি হাতে পাওয়ার পর ইয়ামালকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি এই পুরস্কারই জিততে চেয়েছিলেন?
অঁরির প্রশ্নে অনুষ্ঠানস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়। কিছুটা বিব্রত হয়ে ইয়ামাল সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। পরে তিনি নিজের বার্সেলোনা সতীর্থ পাউ কুবারসিকে এই পুরস্কারের আরও যোগ্য বলে মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত মূল ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও কোপা ট্রফিতে হ্যাটট্রিক তার তরুণ ক্যারিয়ারে যোগ করল আরেকটি অনন্য অর্জন।
নারী বিভাগেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির ফরোয়ার্ড ভিকি লোপেজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো নারী কোপা ট্রফি জিতেছেন। এর মধ্য দিয়ে একই আসরে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই পুরস্কার নিজেদের ঘরে তুলেছে বার্সেলোনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন চার শিক্ষক যোগ দেওয়ার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সময় টিভিতে ‘সেন্টমার্টিনে শিক্ষায় ধস, স্বাস্থ্যসেবায় হাহাকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পরদিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন চার শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছেন।
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, নতুন পদায়ন করা শিক্ষকরা হলেন শফিকুর রহমান, আবদুল মালেক, মো. ইব্রাহিম ও মোহাম্মদ ইমরান। তাদের যোগদানের ফলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার জানান, সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ছিল। সেই সংকট দূরীকরণের জন্য চারজন সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। তারা সোমবার বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কাজ করছেন।
প্রধান শিক্ষক পদে নতুন কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে গুলশান আক্তার বলেন, সারা দেশে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা বিদ্যমান। বিদ্যালয়ে বর্তমানে একজন শিক্ষক সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই আপাতত প্রধান শিক্ষক পদে নতুন করে পদায়নের মতো শূন্য পদ নেই।
জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।
এর আগে সময় টিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে শিক্ষার পরিবেশ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা, দারিদ্র্য ও পর্যটননির্ভর জীবিকার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। পরিবারের আর্থিক চাপে কিছু শিশু পড়াশোনার পরিবর্তে মাছ ধরা, ডাব বিক্রি কিংবা পর্যটকদের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দ্বীপের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার চিত্রও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার আশা প্রকাশ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকায় জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ