ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: স্মৃতি ও গল্পের পটভূমি


কিশোর নজরুলের ত্রিশাল: স্মৃতি ও গল্পের পটভূমি

রুদ্র আল মুত্তাকিন

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের জীবনকে কি ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? সম্ভব নয়, হয়তো! তবে কিছু স্থান ও কাল মানুষের জীবনের সঙ্গে এতটাই সম্পর্কিত থাকে যে, তাদেরকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য ফিরে যেতে হয় সেই মাটির কাছে। সেই ধুলো-মাটি, জল-হাওয়া, লোকজীবন এবং বিস্মৃত স্মৃতির কাছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বোঝার জন্যও এমন একটি ফিরে দেখা অপরিহার্য। বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন ধূমকেতুর মতো। যাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, যাঁর কবিতায় প্রেম ও বিদ্রোহ পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছিল—তাঁর জীবনেও রয়েছে কিছু ভৌগোলিক সফরের স্মৃতি, যাদের কথা বললে ইতিহাসের ‘গম্ভীর’ বয়ান কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়, কান পাততে হয় মাটির নিজস্ব ভাষায়।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল এমন একটি স্থান যা কবি নজরুলের জীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখানে নজরুল কবি হিসেবে আসেননি, বরং এসেছিলেন এক কিশোর হিসেবে। সামনে ছিল অনিশ্চিত জীবনের দীর্ঘপথ। ত্রিশালযাপনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে প্রথম জানতে পারেন। কে জানত যে এই কিশোরের নাম একদিন বাংলা ভাষার সবচেয়ে দুর্দম উচ্চারণগুলোর একটি হয়ে উঠবে! আজ এত বছর পর ‘ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতির’ পথে হাঁটতে হাঁটতে তাই শুধু নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজলেই হবে না, খুঁজতে হবে সেই সময়ের সেই কিশোরের স্পন্দন, কিশোরের বেড়ে ওঠার অনুষঙ্গ, এবং ত্রিশাল কীভাবে ধারণ করে রেখেছে তার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অথচ বহুমাত্রিক অধ্যায়। কারণ, নজরুলকে ফিরে দেখা মানে কেবল একজন কবিকে স্মরণ করা নয়, বরং তার সময়কেও নতুন করে পাঠ করা।

আরও পড়ুন: ২৪ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনাবলী কী ছিল?

কবি নিজেও বিভিন্ন বয়সে ত্রিশালের স্মৃতি স্মরণ করেছেন। তাঁর রচিত একটি গল্প ‘অগ্নিগিরি’ এর মাধ্যমে আমরা কিশোর নজরুলের ত্রিশাল ভ্রমণ সম্পর্কে জানব।

‘অগ্নিগিরি’ গল্পের পটভূমি ও বাস্তব ত্রিশাল:

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অগ্নিগিরি’ ছোটগল্পটির প্রেক্ষাপট হলো ত্রিশাল। গল্পটিতে সরাসরি উল্লেখ রয়েছে ‘ত্রিশালের মাদ্রাসা’, ‘গফরগাঁও-এর জমিদারের হাতি’ এবং ‘ময়মনসিংহের হাসপাতাল’-এর মতো বাস্তব উপাদান। নজরুল তাঁর এই গল্পে যে ‘বীররামপুর’ গ্রামের চিত্র এঁকেছেন, তা মূলত বাস্তব জীবনের ‘দরিরামপুর’ গ্রামকেই নির্দেশ করে।

বাস্তবতার সঙ্গে গল্পের এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্ট হয় ভৌগোলিক অবস্থানের বর্ণনায়। নজরুল ত্রিশালে থাকাকালীন শেষপর্যন্ত নামাপাড়ার বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীবাড়িতে জায়গির ছিলেন। এই বাড়ির ঠিক পাশের গ্রামটি হলো ছলিমপুর। ছলিমপুরের মানুষজন বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়ি পেরিয়ে এবং একটি বটগাছ অতিক্রম করে দরিরামপুর বাজারে যাতায়াত করতেন। এই বাস্তব ভৌগোলিক চিত্রটিই গল্পে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: ২৩ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত যে ঘটনা ঘটেছিল

কৈশোরের স্মৃতি ও নজরুলের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি:

ত্রিশালের মাটিতে পা রাখার সময় কাজী নজরুল ইসলামের বয়স ছিল চৌদ্দ কি পনেরোর কাছাকাছি। এই বয়সে পৃথিবীকে দেখার চোখ তৈরি হয়। নিজের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। কিন্তু জীবন তখনো নজরুলের জন্য স্থির কোনো আশ্রয় সাজিয়ে রাখেনি। পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে আসা, নতুন মানুষের সংসারে জায়গা করে নেওয়া, এক আশ্রয় ছেড়ে অন্য আশ্রয়ে যাওয়া—এই ছিল তাঁর ত্রিশাল জীবনের বাস্তবতা। পরে যে মানুষটি বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহের এক অনন্য ভাষা হয়ে উঠবেন, তাঁর কৈশোরের দিনগুলোতেও কি সেই স্বাধীনচেতা সত্তার কোনো আভাস ছিল?

প্রশ্নটি আরও কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে নজরুলের ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের কাছে গেলে। গল্পের চরিত্র, সম্পর্ক ও ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কবির ত্রিশাল-জীবনের কিছু সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে উঠে এসেছে সবুর, নূরজাহান ও রুস্তমের প্রসঙ্গ। গল্পের ভেতরকার মানুষদের সঙ্গে নজরুলের বাস্তব জীবনের কোনো মানুষের মিল ছিল কি না, কিংবা কৈশোরের কোনো অভিজ্ঞতা গল্পের উপাদান হয়ে উঠেছিল কি না—এসব প্রশ্ন পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক শতাব্দীরও বেশি আগের ত্রিশালে।

নজরুল ১৯১৪ সালের জুনে দারোগা রফিজউল্লাহর সঙ্গে ত্রিশালে এসেছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন দরিরামপুর ইংরেজি হাইস্কুলে, বর্তমানে যা নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। শুরুতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল কাজীর শিমলা গ্রামে। সেখান থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন এই পথ হেঁটে যাতায়াত করতে হতো তাঁকে। পরে রফিজউল্লাহ তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন নামাপাড়া গ্রামের কাজী হামিদুল্লাহর বাড়িতে। সেখানেও বেশিদিন থাকা হয়নি তাঁর। এরপর আশ্রয় মেলে বিচ্যুতিয়া ব্যাপারী বাড়িতে, পুকুরের পাশে ছোট্ট একটি ঘরে।

আরও পড়ুন: শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, নিরাপদ থাকতে মেনে চলুন অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম

এই বাড়ি বদলের ঘটনাগুলো নিছক জীবনী-তথ্য বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কিশোর বয়সে জায়গির থাকার অভিজ্ঞতা, নিজের ইচ্ছা ও অন্যের নিয়মের মধ্যে টানাপোড়েন, আর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার বাস্তবতা—এসবের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে মানুষের বেড়ে ওঠার গল্প। ‘অগ্নিগিরি’র সবুরের সঙ্গে নজরুলের জীবনের তুলনা টানতে গেলে এই অভিজ্ঞতার জায়গাটিই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কেননা সবুরের জীবনেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। তবে মিল থাকলেই যে চরিত্রটি কবির আত্মপ্রতিকৃতি, তা নিশ্চিত বলা যায় না।

ত্রিশাল তাই এখানে শুধু নজরুলের জীবনের একটি অধ্যায়ের নাম নয়। তাঁর কৈশোরের বাস্তবতা আর সাহিত্যের সম্ভাব্য অনুরণনকে পাশাপাশি রেখে দেখা যায়। ‘অগ্নিগিরি’ সেই দেখার একটি জানালা খুলে দেয়।

ত্রিশালের এই দিনগুলোতে একদিকে যেমন ছিল ময়মনসিংহের শ্যামল প্রকৃতি ও আতিথেয়তা, অন্যদিকে ছিল নিঃসঙ্গতা ও কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। ‘ভিনদেশি’ কথনরীতির কারণে স্থানীয় বালকদের কাছে উত্ত্যক্ত হওয়া, কিংবা তাঁর প্রতিভা (গান গাওয়া, বাঁশি বাজানো, পরীক্ষায় প্রথম হওয়া) দেখে সহপাঠীদের ঈর্ষা করার মতো ঘটনাও তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল।

কৈশোরের সেই অম্লমধুর স্মৃতি নজরুল কখনো ভোলেননি। ১৯২৬ সালের গফরগাঁওয়ের প্রজা সম্মিলনীতে পাঠানো চিঠিতেও তিনি ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের প্রতি তাঁর অশেষ ঋণ এবং শৈশবের উজ্জ্বল স্মৃতির কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন। ‘অগ্নিগিরি’ গল্পের মাধ্যমে নজরুল তাঁর কিশোর বেলার সেই চেনা ভূমি, চেনা মানুষ আর ফেলে আসা দিনগুলোকেই সাহিত্যের পাতায় চিরদিনের জন্য অমর করে রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন: পোষা বেড়াল ভেবে এক বছর লালন-পালন, নতুন প্রজাতি ‘লিওপার্ডাস টিলকাও’ শনাক্ত

এই প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, ‘ত্রিশাল অধ্যায় বাদ দিয়ে নজরুলের জীবন বিচার করার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি ত্রিশালে এসেছিলেন 'মানুষ হতে' এবং ময়মনসিংহ জেলার কাছে তিনি 'অশেষ ঋণে ঋণী'। তাঁর জীবনে প্রথমত ত্রিশাল এবং দ্বিতীয়ত করাচি ছিল দূরদেশ ভ্রমণ বা অবলোকন। তাঁর সৃষ্টিশীল সাহিত্যকর্মে এই দুই অঞ্চলের প্রকৃতি ও মানুষের সমাহার ঘটেছে। 'অগ্নিগিরি' ছোটগল্প, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁকে লেখা চিঠি ও গফরগাঁও নিখিল বঙ্গীয় প্রজা সম্মেলনে পাঠানো অভিভাষণে ত্রিশাল কেন্দ্রিক তাঁর স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যিক সত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।’

বর্তমানে ত্রিশালে নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে করণীয়:

কবি নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণে ত্রিশালে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কাজীর শিমলায় দারোগা রফিজউল্লাহর বাড়ি ও নামাপাড়ায় বিচ্যুতিয়া ব্যাপারীর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুটি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র। সেখানে কবির স্মারক, আলোকচিত্র ও বই সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর হাইস্কুল বর্তমানে নজরুল একাডেমি নামে পরিচিত। ২০০৬ সালে ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। একই বছর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে চালু হয় ‘নজরুল পর্যটন’ কর্মসূচি। এছাড়া প্রতিবছর কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়। তবে স্মৃতিকেন্দ্রগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন নিদর্শন সংগ্রহ ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে করা যায় সে প্রসঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও লেখক মাওলা প্রিন্স বলেন, কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঢাকাস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এবং ত্রিশালস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে যৌথভাবে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: সন্তান হারানোর শোক অন্য প্রাণীদেরও সমান কষ্ট দেয়, সাক্ষী অতল সমুদ্র

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু দায়িত্ব দিলেই হবে না, কে বা কারা দায়িত্ব নিচ্ছেন, পরিচালনা করছেন, তিনি বা তারা আদৌ নজরুল অনুরাগী কিনা, দক্ষ ও আন্তরিক কিনা, তিনি বা তারা সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো নিশ্চিত করে উদ্যোগ নিলে কার্যকর সুফল মিলবে। জাতীয় জীবনের বিকাশের লক্ষ্যে নজরুলচর্চায় যেমন বাজেট বাড়াতে হবে তেমনি বাজেটের সুষ্ঠু ও সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নজরুল স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো সর্বসাধারণের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসাবে দাঁড় করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসায়নিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশক প্রত্যাহারের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


রাসায়নিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশক প্রত্যাহারের নির্দেশ

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : রাসায়নিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল না পাওয়ার কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশকের একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের পুনরায় প্যাকেটজাত করা সকল পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে।

গত ১৯ অক্টোবর, অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে মেসার্স সিয়াম ক্রপ কেয়ারকে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটির ‘ড্যানজিন ১০জি’ বালাইনাশকের এপি নম্বর ৩৭৭০ এবং ব্যাচ নম্বর ০৯৬৩২১-এর নমুনা উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের বালাইনাশক গবেষণাগারে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না।

এই প্রেক্ষাপটে, নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লিখিত ব্যাচের পুনরায় প্যাকেটজাত করা সকল বালাইনাশক বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে সাত কর্মদিবসের মধ্যে। একইসাথে, প্রত্যাহার করা পণ্যের পরিমাণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদি নির্দেশনা প্রতিপালনে ব্যর্থতা ঘটে, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার অনুলিপি অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশনকে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, নির্দেশনাটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাট, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ : জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে।

এই বিশেষ উপলক্ষ্যে আজ সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে মাল্যদান এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জয়পুরহাট জেলা যুবদল।

অনুষ্ঠানে জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজভী আহমেদ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু, মহিদুল ইসলাম খান রাজিব, রেজহাত হোসেন রনি, শাকিল আহমেদ, শাজাহান, ফজল, বশির, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশীদ প্রধান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম রিপন, সাবেক সহ-সভাপতি রাজীব এবং সাবেক দপ্তর সম্পাদক রাসেল আহমেদ আকাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পতাকা উত্তোলন ও প্রতিকৃতিতে মাল্যদান সম্পন্ন হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন, গেজেট প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন, গেজেট প্রকাশ

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সোমবার একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন নাম অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনের নির্দেশ অনুযায়ী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বাংলায় পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ রাখা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের ইংরেজি নাম ‘Ministry of Women and Children Affairs' অপরিবর্তিত থাকবে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন। এতে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে অবিলম্বে। ফলে সরকারি কার্যক্রমে মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম ব্যবহারে নতুন নামটি কার্যকর হবে।

গত ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হলো।

মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের ফলে সরকারি নথিপত্র, দাপ্তরিক যোগাযোগ, প্রজ্ঞাপন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নতুন বাংলা নাম ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। তবে ইংরেজি নাম অপরিবর্তিত থাকায় ইংরেজি ভাষায় মন্ত্রণালয়ের পরিচিতি ও নামের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

নারী ও শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় এ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রাম, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আজ চট্টগ্রামে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।

এছাড়া, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনও আসামির তালিকায় রয়েছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ রয়েছে, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদক জানায়, ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর প্রক্রিয়ায় নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%