মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০৬ এম
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছেন যে, "বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান।" স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, টোকিও বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।
দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনার প্রদানের সময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।
গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশ পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুপুরে কানতেইতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পালটা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন।
শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জাপানের টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা।
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে আসোর অবদানের স্বীকৃতি জানান এবং তাঁকে আবারও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান।
মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ইপিএ বাস্তবায়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা, চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে।
কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লামীনে ইয়ামাল একবার নয়, দুবার নয়, টানা তিনবার কোপা ট্রফি জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই অসাধারণ কীর্তি গড়েছেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড এবং বার্সেলোনা ক্লাবের সদস্য। অন্যদিকে, নারী বিভাগে বার্সেলোনার ভিকি লোপেজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতেছেন। ফলে এবারের ব্যালন ডি’অরে নারী ও পুরুষ দুই বিভাগেই সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন কাতালান ক্লাবটির দুই ফুটবলার।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের হাতে পুরুষদের কোপা ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এই পুরস্কারটি অনূর্ধ্ব-২১ বছর বয়সী সেরা ফুটবলারকে দেওয়া হয়ে থাকে। ২০১৮ সালে প্রবর্তিত কোপা ট্রফির প্রথম বিজয়ী ছিলেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।
গত বছর ইয়ামাল টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার তিনি তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি জিতে নিজের সেই কীর্তিকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। পুরস্কারটির ইতিহাসে টানা তিনবার এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ফুটবলার ইয়ামাল।
তবে এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ইয়ামালের লক্ষ্য শুধুমাত্র কোপা ট্রফি জয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের আশা তার ছিল। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সঞ্চালক থিয়েরি অঁরি কোপা ট্রফি হাতে পাওয়ার পর ইয়ামালকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি এই পুরস্কারই জিততে চেয়েছিলেন?
অঁরির প্রশ্নে অনুষ্ঠানস্থলে হাসির রোল পড়ে যায়। কিছুটা বিব্রত হয়ে ইয়ামাল সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান। পরে তিনি নিজের বার্সেলোনা সতীর্থ পাউ কুবারসিকে এই পুরস্কারের আরও যোগ্য বলে মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত মূল ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও কোপা ট্রফিতে হ্যাটট্রিক তার তরুণ ক্যারিয়ারে যোগ করল আরেকটি অনন্য অর্জন।
নারী বিভাগেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির ফরোয়ার্ড ভিকি লোপেজ টানা দ্বিতীয়বারের মতো নারী কোপা ট্রফি জিতেছেন। এর মধ্য দিয়ে একই আসরে পুরুষ ও নারী দুই বিভাগেই পুরস্কার নিজেদের ঘরে তুলেছে বার্সেলোনা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন চার শিক্ষক যোগ দেওয়ার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সময় টিভিতে ‘সেন্টমার্টিনে শিক্ষায় ধস, স্বাস্থ্যসেবায় হাহাকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পরদিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন চার শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছেন।
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, নতুন পদায়ন করা শিক্ষকরা হলেন শফিকুর রহমান, আবদুল মালেক, মো. ইব্রাহিম ও মোহাম্মদ ইমরান। তাদের যোগদানের ফলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার জানান, সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ছিল। সেই সংকট দূরীকরণের জন্য চারজন সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। তারা সোমবার বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কাজ করছেন।
প্রধান শিক্ষক পদে নতুন কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে গুলশান আক্তার বলেন, সারা দেশে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা বিদ্যমান। বিদ্যালয়ে বর্তমানে একজন শিক্ষক সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই আপাতত প্রধান শিক্ষক পদে নতুন করে পদায়নের মতো শূন্য পদ নেই।
জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।
এর আগে সময় টিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে শিক্ষার পরিবেশ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা, দারিদ্র্য ও পর্যটননির্ভর জীবিকার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। পরিবারের আর্থিক চাপে কিছু শিশু পড়াশোনার পরিবর্তে মাছ ধরা, ডাব বিক্রি কিংবা পর্যটকদের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দ্বীপের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার চিত্রও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার আশা প্রকাশ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকায় জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগীতশিল্পী জামাল উদ্দিন নাসিরের মা মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উল্লেখ করেন, ‘মরহুমা মরিয়ম বেগম একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা হিসেবে নিজ এলাকার মানুষের নিকট অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। মরহুমার এলাকাবাসী, পরিবারবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনদের মতো আমিও তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। দোয়া করি— মহান রাব্বুল আলামিন যেন মরহুমা মরিয়ম বেগমকে বেহেশত নসিব এবং গভীর শোকে ম্রিয়মাণ পরিবারের সদস্যদের এই বিশাল শোকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।’
শোকবার্তায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মরিয়ম বেগম আজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৭ বছর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের দুই যুবক, যারা লিবিয়া থেকে ফিরে আসেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং দেশে ফিরিয়ে আনতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সহযোগিতা ছিল। এ কাজে স্বজনদেরও সাহায্য ছিল।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টায় বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওই দুই যুবক।
যুবক দুটি হলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের কাকুয়া গ্রামের ফজলু হকের ছেলে সবুজ আলী (২২) এবং আব্দুল মালেকের ছেলে মেহেদী হাসান (২৩)।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইতালিতে কাজ দেওয়ার আশ্বাসে বিদেশে যান সবুজ ও মেহেদী। তাদের সৌদি আরব ও মিসরসহ কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় সাত মাস পর লিবিয়ার পুলিশ তাদের আটক করে। পরে তাদের ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, তাদের বিদেশে পাঠানোর কাজে টাঙ্গাইল শহরের ঘারিন্দা এলাকার কাইয়ুম ও এলেঙ্গা এলাকার আমিন জড়িত। কাইয়ুম পেশায় সিএনজিচালিত অটোচালক। স্বজনদের দাবি, কাইয়ুমের আত্মীয় আমিনও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে এক পর্যায়ে দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মেহেদী হাসানের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৬ আগস্ট পর্যন্ত তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এরপর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তার খোঁজ পাননি স্বজনেরা।
এ অবস্থায়, প্রায় দুই মাস আগে সবুজ আলীর বড় ভাই মালয়েশিয়াপ্রবাসী রিপন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পাঠান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দুই যুবকের অবস্থান শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের লিবিয়ার তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকার তথ্য জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।
মালয়েশিয়া থেকে মুঠোফোনে রিপন আহমেদ জানান, আগস্টের শেষে ভাইয়ের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমি নিরুপায় হয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তার সহায়তা না পেলে ভাই কোথায় আছে, সেটিও হয়তো জানতে পারতাম না। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিমন্ত্রী টুকুর উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় মানবিক প্রত্যাবাসনের আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সবুজের বড় ভাই রিপন আহমেদ আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানার পর দুই যুবকের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা স্বস্তি বোধ করছি। একই সঙ্গে সবাইকে বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া ও আইওএমের সহযোগিতায় একই দিনে ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাগর থেকে উদ্ধারের পর ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩৬ জন এবং লিবিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা ১৩৮ জন রয়েছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ