প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নতুন চার শিক্ষক যোগ দেওয়ার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সময় টিভিতে ‘সেন্টমার্টিনে শিক্ষায় ধস, স্বাস্থ্যসেবায় হাহাকার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পরদিন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) নতুন চার শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছেন।
টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, নতুন পদায়ন করা শিক্ষকরা হলেন শফিকুর রহমান, আবদুল মালেক, মো. ইব্রাহিম ও মোহাম্মদ ইমরান। তাদের যোগদানের ফলে বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।
কক্সবাজারের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার জানান, সেন্টমার্টিনের জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট ছিল। সেই সংকট দূরীকরণের জন্য চারজন সহকারী শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। তারা সোমবার বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ছয়জন শিক্ষক কাজ করছেন।
প্রধান শিক্ষক পদে নতুন কাউকে পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে গুলশান আক্তার বলেন, সারা দেশে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা বিদ্যমান। বিদ্যালয়ে বর্তমানে একজন শিক্ষক সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাই আপাতত প্রধান শিক্ষক পদে নতুন করে পদায়নের মতো শূন্য পদ নেই।
জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। টেকনাফ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।
এর আগে সময় টিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেন্টমার্টিন দ্বীপে শিক্ষার পরিবেশ বিভিন্ন সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতা, দারিদ্র্য ও পর্যটননির্ভর জীবিকার কারণে অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। পরিবারের আর্থিক চাপে কিছু শিশু পড়াশোনার পরিবর্তে মাছ ধরা, ডাব বিক্রি কিংবা পর্যটকদের বিভিন্ন কাজে যুক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে দ্বীপের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার চিত্রও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও চিকিৎসক, নার্স ও কারিগরি জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গুলশান আক্তার আশা প্রকাশ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকায় জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার ফলে শিক্ষার মানোন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন