রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১০ এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুর সময় প্রায় ৪ হাজার নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিয়েছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল, কলমদানি, কুরআন, অনুপ্রেরণামূলক বইসহ বিভিন্ন উপহার প্রদান করা হয়।
এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং নিবন্ধন কোড সংগ্রহ করে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেয়, কিন্তু অল্প কিছু সংখ্যক পড়ার সুযোগ পায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই সবাইকে পড়াশোনায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তিনি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখতে চান।
তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির হলো দেশের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, শিবির আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত এখন থেকেই নিজেদের গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে কোথায় নিজেদের দেখতে চান, তার লক্ষ্য ঠিক করা উচিত। তিনি বলেন, নিজের অধ্যয়নরত বিষয়ে গভীর ধারণা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন স্বপ্নগুলো যেন বিনষ্ট না হয়। তিনি একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার কথা বলেন, যে প্রজন্ম ভবিষ্যতে দেশের সেবায় নিজেকে সর্বোচ্চ নিয়োজিত রাখবে।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। শিক্ষিত যুবকদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয় না, ফলে তারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে কর্মস্থান হিসেবে বিদেশকে বেছে নেয়। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অবশ্যই দলীয়করণ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রেকর্ড ভাঙার মিছিল যেন থামছেই না জো রুটের। ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার পাকিস্তানের বিপক্ষে বার্মিংহ্যাম টেস্টে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলে রুট এখন টেস্টে সবচেয়ে বেশি অর্ধশতকের মালিক।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের ৮ উইকেটের জয়ে রুটের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ৬৯ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি রেকর্ড বইয়ে নিজের নামও লিখিয়েছেন।
এই ইনিংসের ফলে টেস্টে রুটের অর্ধশতকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯-এ। এর আগে ৬৮টি অর্ধশতক নিয়ে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। এবার তাকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন ৩৫ বছর বয়সী রুট।
টেস্টে সর্বাধিক অর্ধশতকের তালিকায় ৬৬টি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি শিবনারায়ণ চন্দরপল। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার ও ভারতের সাবেক অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের অর্ধশতক সংখ্যা ৬৩টি করে।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজটি রুটের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। পাঁচ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে মোট ১৬৪ রান। সিরিজে কোনো সেঞ্চুরি পাননি তিনি, এমনকি দুবার এক অঙ্কের রানেও ফিরতে হয়েছে তাকে। এমন পরিস্থিতিতে বার্মিংহ্যামে তার অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসটি হয়ে ওঠে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
অর্ধশতকের রেকর্ড দখলে নেওয়ার পর এবার শচীন টেন্ডুলকারের আরও বড় একটি রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছেন রুট। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডও এখন তার নাগালের মধ্যে।
শচীন টেন্ডুলকার ৩২৯ ইনিংসে করেছেন ১৫ হাজার ২৯১ রান। অন্যদিকে জো রুট ৩০৯ ইনিংসে সংগ্রহ করেছেন ১৪ হাজার ২৭৮ রান। ফলে টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ড নিজের করে নিতে শচীনের চেয়ে আর ১ হাজার ১৪ রান দূরে রয়েছেন ইংলিশ ব্যাটার।
ক্যারিয়ারের বর্তমান ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে খুব শিগগিরই টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডও শচীনের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে রুটের সামনে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোর, ডাকাত, মাদকসেবী, মাদক কারবারি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ফেনী পুলিশ সুপারের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) দিকনির্দেশনায় ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, তিন বোতল বিয়ার এবং ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি সোনাগাজীর আশরাফুল জামান সোহাগ (২০) ও সাইফুল ইসলাম রিয়াজ (২৮), ধর্মপুরের মাদক ব্যবসায়ী মো. সেলিম (২৪) এবং ৫০ বোতল বিদেশি মদ ও ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ মা-ছেলে মো. হৃদয় (২০) ও রাবেয়া আক্তারকে মধ্যম চাড়ীপুর (খাজুরিয়া) জজ কোর্ট কলোনির ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া শাহরিয়ার হোসেন (২২), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪) এবং মো. রবেলকে (২৬) মোট ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এবং তিন বোতল বিয়ারসহ আবু বকরকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদকসেবীসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মাদক নির্মূলে ফেনী সদর থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘গণভোটের রায় বাতিল করার অনেক কারণ আছে। এবারের পার্লামেন্টে ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পার্লামেন্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ তারা বাতিল করে দিয়েছে। এর মধ্যে একটা ছিল গুম-খুন কমিশন। আমরা এর বিরোধিতা করেছি। তারা (বিএনপি) আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায় বাংলাদেশে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘তারা যে আইন করেছে, আমরা বলেছি, আগের অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল, গুম-খুনের বিরুদ্ধে যাদের গুম-খুনের ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সেই সংস্থা এর তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু সেইটা পরিবর্তন করে পুলিশ গুম করবে, খুন করবে, আবার এটার অভিযোগের তদন্ত করবে পুলিশ। আবার সেখানে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগকারী যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাহলে কোন মানুষ অভিযোগ করতে যাবে? এগুলো করার উদ্দেশ্য কী? এগুলো করার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশ কোনো পরিবারের বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, এটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে যদি কেউ ব্যত্যয় তৈরি করতে চায়, এর মধ্যে যদি কেউ অন্য কোনো চিন্তা করে, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে এই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, যারাই এই কর্মকাণ্ড করবে, তাদেরকেও বিতাড়িত হতে হবে।’
শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতিমুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদল আদর্শ, সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ তৈরি করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শ মানুষ তৈরি করার কোনো কারিকুলাম নাই, কোনো সিলেবাস নাই। তাই সে কাজটি ইসলামী ছাত্রশিবির স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরও জানান, ‘কিন্তু আমরা দেখেছি, গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অতিষ্ঠ ছিল। কিছুই করার ছিল না। গত ১৬ বছরে গেস্টরুম কালচার, টর্চার সেল কালচার, গণরুম কালচার, জেন্ডারবাজির কালচার, চাঁদাবাজির কালচার, নেশাখোরের কালচার গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে ফেলেছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এর পরিবর্তন হয়েছে এবং এই পরিবর্তনকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে।’
রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এই বাংলাদেশের মানুষেরা আজ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ পায় নাই। আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকারও একই দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা কি দলীয়করণ করছে না? মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের ইশতেহারে বলেছিলেন, সকল ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সমস্ত সিটি করপোরেশনে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে তো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি সেটা ছিল না। তাই এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে।’
বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তার থাকার সিটের বন্দোবস্ত করতে পারে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে বিরোধীদল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ উল্লেখ করেন, গুলশান একটি ভিআইপি এলাকা; যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বসবাস করেন। এই এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়; সেখানে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করতে পারে?
তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকাতেই নয়; সারাদেশে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করছে। তাছাড়া প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই মিছিলের সুযোগ তৈরি করছে। সরকার যদি একটি পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধ হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করবে, সেখানকার ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনওকে বান্দরবান পাঠালে সারাদেশের প্রশাসন সতর্ক হয়ে যাবে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র বলেন, সরকারকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কারণ এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন স্থানে খুন, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
আবু হানিফ আরও বলেন, বর্তমানে বিরোধীদল বিশেষ করে জামায়াত-এনসিপি সারাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে। সরকারকে ঠেকানোর জন্য জামায়াত-এনসিপি নিষিদ্ধ লীগকে পুনর্বাসন করছে। তারা পুনর্বাসনের মাধ্যমে মূলত নিষিদ্ধ লীগকে মিছিল করার সুযোগ দিচ্ছে। বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান— আপনারা অর্থের বিনিময়ে লীগকে পুনর্বাসন করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এই লীগ ফিরে এলে কাউকেই ছাড়বে না।
গণঅধিকার পরিষদ, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা নিরাপদে বিদেশে আরাম আয়েশ করছেন। অথচ, দেশে থাকা নিরীহ কর্মীদের উসকানি দিয়ে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করছেন। আপনাদের পলাতক নেতাদের কথায় আর রাস্তায় নেমে বিপদে পড়বেন না।
গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক আবির ইসলাম সবুজের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব আলমগীর, সহ সভাপতি ফারজানা কিবরিয়া, রেজওয়নুল শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক রুবেল, ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক নুরুজ্জামান ইমন প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ