রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১১ এম
ফেনীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে চোর, ডাকাত, মাদকসেবী, মাদক কারবারি এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেনী মডেল থানা-পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ফেনী পুলিশ সুপারের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (সদর সার্কেল) দিকনির্দেশনায় ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫০ বোতল বিদেশি মদ, ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, তিন বোতল বিয়ার এবং ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ঘটনায় জড়িত আসামি সোনাগাজীর আশরাফুল জামান সোহাগ (২০) ও সাইফুল ইসলাম রিয়াজ (২৮), ধর্মপুরের মাদক ব্যবসায়ী মো. সেলিম (২৪) এবং ৫০ বোতল বিদেশি মদ ও ১০ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ মা-ছেলে মো. হৃদয় (২০) ও রাবেয়া আক্তারকে মধ্যম চাড়ীপুর (খাজুরিয়া) জজ কোর্ট কলোনির ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া শাহরিয়ার হোসেন (২২), শহিদুল ইসলাম সুমন (৩৪) এবং মো. রবেলকে (২৬) মোট ২০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এবং তিন বোতল বিয়ারসহ আবু বকরকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদকসেবীসহ মোট ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় মাদক নির্মূলে ফেনী সদর থানা এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) সভাপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, ‘গণভোটের রায় বাতিল করার অনেক কারণ আছে। এবারের পার্লামেন্টে ১৩৩টি অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পার্লামেন্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ তারা বাতিল করে দিয়েছে। এর মধ্যে একটা ছিল গুম-খুন কমিশন। আমরা এর বিরোধিতা করেছি। তারা (বিএনপি) আগের মতোই গুম-খুনের রাজনীতি করতে চায় বাংলাদেশে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘তারা যে আইন করেছে, আমরা বলেছি, আগের অধ্যাদেশের মধ্যে ছিল, গুম-খুনের বিরুদ্ধে যাদের গুম-খুনের ব্যাপারে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, সেই সংস্থা এর তদন্ত করতে পারবে না। কিন্তু সেইটা পরিবর্তন করে পুলিশ গুম করবে, খুন করবে, আবার এটার অভিযোগের তদন্ত করবে পুলিশ। আবার সেখানে বলা হয়েছে, কোনো অভিযোগকারী যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারে, তাহলে তাদের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাহলে কোন মানুষ অভিযোগ করতে যাবে? এগুলো করার উদ্দেশ্য কী? এগুলো করার উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে আবার স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যাওয়া। আবার ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশ কোনো পরিবারের বাংলাদেশ নয়। এই বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কীভাবে পরিচালিত হবে, এটা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে যদি কেউ ব্যত্যয় তৈরি করতে চায়, এর মধ্যে যদি কেউ অন্য কোনো চিন্তা করে, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, বাংলাদেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে যেভাবে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে এই বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, যারাই এই কর্মকাণ্ড করবে, তাদেরকেও বিতাড়িত হতে হবে।’
শিক্ষাঙ্গনে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতিমুক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একদল আদর্শ, সৎ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ তৈরি করার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শ মানুষ তৈরি করার কোনো কারিকুলাম নাই, কোনো সিলেবাস নাই। তাই সে কাজটি ইসলামী ছাত্রশিবির স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি আরও জানান, ‘কিন্তু আমরা দেখেছি, গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা অতিষ্ঠ ছিল। কিছুই করার ছিল না। গত ১৬ বছরে গেস্টরুম কালচার, টর্চার সেল কালচার, গণরুম কালচার, জেন্ডারবাজির কালচার, চাঁদাবাজির কালচার, নেশাখোরের কালচার গোটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে ফেলেছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে এর পরিবর্তন হয়েছে এবং এই পরিবর্তনকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য অনেকেই ষড়যন্ত্র করছে।’
রাষ্ট্রব্যবস্থায় দলীয়করণ ও স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এই বাংলাদেশের মানুষেরা আজ পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো কিছু করার সুযোগ পায় নাই। আমাদের আন্দোলন ছিল বৈষম্য, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সরকারও একই দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা কি দলীয়করণ করছে না? মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তারা তাদের ইশতেহারে বলেছিলেন, সকল ক্ষেত্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। সমস্ত সিটি করপোরেশনে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত জেলা পরিষদে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছে। সমস্ত সরকারি করপোরেশনগুলোতে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগে তো জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি সেটা ছিল না। তাই এমন একটা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো স্বৈরাচারের জন্ম না হতে পারে।’
বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এত কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তার থাকার সিটের বন্দোবস্ত করতে পারে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারে, আর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী বাইরে থাকে। এই ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর থাকার বন্দোবস্ত বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিএসসিতে হাজার হাজার কোটি টাকা বাজেট দেওয়া হয়, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয় না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করা শিখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে, আগামী ২ বছরের মধ্যে শতভাগ আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, শিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪ হাজার নিবন্ধিত নবীন শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকারকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে বিরোধীদল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আবু হানিফ উল্লেখ করেন, গুলশান একটি ভিআইপি এলাকা; যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বসবাস করেন। এই এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়; সেখানে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করতে পারে?
তিনি আরও বলেন, শুধু ঢাকাতেই নয়; সারাদেশে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করছে। তাছাড়া প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থায় থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এই মিছিলের সুযোগ তৈরি করছে। সরকার যদি একটি পদক্ষেপ নেয়, তাহলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল বন্ধ হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, যেখানেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল করবে, সেখানকার ডিসি, এসপি, ওসি, ইউএনওকে বান্দরবান পাঠালে সারাদেশের প্রশাসন সতর্ক হয়ে যাবে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র বলেন, সরকারকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কারণ এই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সারাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, বিভিন্ন স্থানে খুন, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে।
আবু হানিফ আরও বলেন, বর্তমানে বিরোধীদল বিশেষ করে জামায়াত-এনসিপি সারাদেশে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করছে। সরকারকে ঠেকানোর জন্য জামায়াত-এনসিপি নিষিদ্ধ লীগকে পুনর্বাসন করছে। তারা পুনর্বাসনের মাধ্যমে মূলত নিষিদ্ধ লীগকে মিছিল করার সুযোগ দিচ্ছে। বিরোধীদলের প্রতি আহ্বান— আপনারা অর্থের বিনিময়ে লীগকে পুনর্বাসন করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এই লীগ ফিরে এলে কাউকেই ছাড়বে না।
গণঅধিকার পরিষদ, মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা নিরাপদে বিদেশে আরাম আয়েশ করছেন। অথচ, দেশে থাকা নিরীহ কর্মীদের উসকানি দিয়ে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করছেন। আপনাদের পলাতক নেতাদের কথায় আর রাস্তায় নেমে বিপদে পড়বেন না।
গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক আবির ইসলাম সবুজের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব আলমগীর, সহ সভাপতি ফারজানা কিবরিয়া, রেজওয়নুল শাওন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান, শ্রমিক অধিকার পরিষদের মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক রুবেল, ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক নুরুজ্জামান ইমন প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কর্নাটকে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার মোবাইল ফোনে পাওয়া গেছে কয়েক ডজন পর্ন ভিডিও। কারাগারে তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভের ফরেনসিক বিশ্লেষণে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এর প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১১ আগস্ট বেঙ্গালুরুর পরাপ্পানা আগ্রাহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে আকস্মিক তল্লাশি পরিচালনা করে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই সময় উচ্চনিরাপত্তার ব্যারাকে মোবাইল ফোন ব্যবহাররত অবস্থায় প্রজ্বল রেভান্নাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি চার্জার, একটি পেনড্রাইভ ও একটি নোটবুকও জব্দ করা হয়।
পরে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও পেনড্রাইভ ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মোবাইল ফোনে বহু পর্ন ভিডিও এবং পেনড্রাইভে বিভিন্ন ওয়েব সিরিজের ভিডিও থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
কারাগারে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনায় এক কারা কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারাগারের ভেতরে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, সিম কার্ড ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্দিদের যোগাযোগের জন্য কেবল নজরদারির আওতায় থাকা ল্যান্ডলাইন, পাবলিক কল অফিস (পিসিও) ও নির্দিষ্ট ভিডিও-কলিং ব্যবস্থার অনুমতি রয়েছে।
প্রজ্বল রেভান্না ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়ার নাতি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর ভাতিজা। ধর্ষণ ও এক নারীর যৌন নির্যাতনের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গত বছর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগকারী ৪৮ বছর বয়সী ওই নারী হাসান জেলার হোলেনারাসিপুরায় রেভান্না পরিবারের একটি খামারবাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তার অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে প্রজ্বল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কারাগারে প্রজ্বল রেভান্নার কাছে মোবাইল ফোন পাওয়ার ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠেছে কারাগারের ভেতরে প্রভাবশালী বা ‘ভিআইপি’ বন্দিদের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির পরের ঘটনা। এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ জেলা নির্বাহী আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হামলার ঘটনার পর বাড্ডা থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি হিসেবে এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—একই হলের বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও বাড্ডা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিত ও ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, হামলার পরিকল্পনা মুরাদ ও জোবায়ের পাটোয়ারীর ইন্ধনে করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যার সদস্যসচিব হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ দায়িত্ব পালন করবেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, প্লাবন এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন। তবে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এই আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
প্লাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন, এবং ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী কালাম মুহাম্মদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তার আবেদন করার পরেও প্রক্টর আবুল কালাম আজাদ সাহেব আমার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার অদক্ষতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে হলে এই বিবাদীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা সময়ে অত্যাচার করে আসছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইনসাফ চাই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা প্রক্টরের এই অদক্ষতার কারণেই আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুরো বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ