ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ


কর্ণফুলীর উপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল-স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ

দেশের প্রথম চার লেনের ‘ক্যাবল-স্টেইড’ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর। সেতুর মূল কাঠামো উঁচু পাইলন বা স্তম্ভ থেকে টানা ইস্পাতের তারের সাহায্যে ধরে রাখা হবে। আধুনিক এই সেতু, যা দেখতে বীণার তারের মতো, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর রাঙামাটির কাপ্তাই ও চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সংযোগস্থলে কর্ণফুলী নদীর চন্দ্রঘোনা-রাইখালী ফেরিঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ৫৩২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু চালু হলে চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার মানুষের প্রায় চার দশকের ভোগান্তি কমবে।

সওজ সূত্র জানাচ্ছে, ১৯৮৯ সালে রাঙামাটির সঙ্গে রাজস্থলী ও বান্দরবান জেলার যোগাযোগ সহজ করতে কর্ণফুলী নদীতে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়। ৩৭ বছর পরও কেবল একটি ফেরির মাধ্যমেই দুই পাড়ের শত শত যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এই ফেরি ব্যবস্থাই বর্তমানে ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পন্টুনের সমস্যা, ডুবোচর কিংবা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে যাত্রী ও চালকদের দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নড়াইলে প্রকৌশলীর বাড়িতে ডাকাতি, কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

সওজ রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা গণমাধ্যমকে জানান, সেতুটির মূল অংশের দৈর্ঘ্য হবে ৫৩২ মিটার, যা স্টিল ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নির্মিত হবে। এতে ৪৫৫ মিটার ভায়াডাক্ট এবং ১ হাজার ২৫০ মিটারের বেশি দীর্ঘ এলিভেটেড সড়ক থাকবে। এই চার লেনের সেতুতে আধুনিক ‘ব্রিজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম’ যুক্ত করা হবে, যা সেতুর অবস্থা ও স্থায়িত্ব নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় টোল প্লাজা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাবল-স্টেইড সেতুতে সেতুর সড়কপথের ভার মূল টাওয়ার বা পিলারের সঙ্গে যুক্ত তির্যক তারের মাধ্যমে বহন করা হয়। শক্তিশালী স্টিলের তারের সাহায্যে সেতুর ডেক বা চলাচলের পথ টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। টাওয়ার, তার ও ডেক একসঙ্গে সেতুর ভার বহন করে, ফলে নদীর মাঝখানে পিলার নির্মাণের প্রয়োজন হয় না। এর ফলে বড় পরিসরের স্প্যান তৈরি করা সম্ভব হয়, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌযান চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে না।

নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি-বান্দরবান আঞ্চলিক মহাসড়কের (আর-১৬১) ২১তম কিলোমিটারে সেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৭ দশমিক ৫২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণে ২৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুর চূড়ান্ত নকশা তৈরি করে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন ডিপিপি পুনর্গঠন করে আবার পাঠাতে হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে যান চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ফেরিতে একবারে মাত্র ৮ থেকে ১০টি ট্রাক বা বাস এবং ১৫ থেকে ২০টি ছোট ও হালকা যানবাহন পারাপার করা যায়। একবার নদী পার হতে আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বাড়লে, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাঁধের গেট খুলে দিলে কিংবা নদীতে পানি কমে গেলে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় বান্ধবী দিশা গ্রেফতার

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ফেরি পারাপারের দুর্ভোগ কমবে। এর ফলে পর্যটন ও বাণিজ্যে গতি আসবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

চন্দ্রঘোনার ব্যবসায়ী ফরিদ আহমদ জানান, চন্দ্রঘোনা ফেরি দিয়ে দৈনিক ৯০০ থেকে ১ হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়। তবে ফেরির কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ছোট ছোট সাম্পানে নদী পার হন।

তিনি বলেন, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার কয়েক লাখ মানুষ চন্দ্রঘোনা ফেরির ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজার যাওয়ার এই পথটি বেশ জনপ্রিয়।

কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা থোয়াই অং মারমা বলেন, ‘ফেরি অচল থাকলে আমরাও থেমে থাকি। দুই-তিন মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা, কখনো তারও বেশি সময় লাগে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকেন জরুরি রোগীরা। রাত-বিরাতে অ্যাম্বুলেন্সকেও ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। অথচ সেতু থাকলে কয়েক মিনিটেই নদী পার হওয়া যেত।’

আরও পড়ুন: এশিয়ান পেইন্টসের সহযোগিতায় আইএবি অ্যাওয়ার্ডসে ১০টি পুরস্কার প্রদান

রাইখালী বাজারের ব্যবসায়ী তনয় তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ফেরির ঝামেলায় পাহাড়ি এলাকার কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো যায় না। অনেক সময় ফেরি বিকল হয়ে মাঝনদীতে আটকে পড়ে। এই সেতু হলে বান্দরবান ও রাঙামাটির সঙ্গে ব্যবসার চেহারাটাই বদলে যাবে।

ট্রাকচালক রহিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ইট আনা-নেওয়ার কাজে তাকে এই ফেরি পার হতে হয়। কখনো এক ঘণ্টায় নদী পার হওয়া যায়, আবার কখনো দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়। সেতুটি হলে সময়ের অপচয় ও জীবনের ঝুঁকি—দুটিই কমবে।

সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কীর্তি নিশান চাকমা জানান, সেতুটি শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, রাঙামাটি ও বান্দরবানের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘দুই পার্বত্য জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশে এই সেতু মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

আরও পড়ুন: মিরপুরে মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন, সংঘর্ষের ঘটনা

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, চন্দ্রঘোনায় সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং দুই জেলার আর্থসামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাস্টার খলিলুর রহমান শেখ বলেন, সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য বান্দরবান, রাজস্থলী, চন্দ্রঘোনা, রাইখালী, রাঙ্গুনিয়া ও কাপ্তাই এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্ম কারাগারে, সংগ্রাম ও মেধায় ১৮ বছর বয়সেই হার্ভার্ড জয় তরুণীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


জন্ম কারাগারে, সংগ্রাম ও মেধায় ১৮ বছর বয়সেই হার্ভার্ড জয় তরুণীর

অরোরা স্কাই কাস্টনার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন, মাত্র ১৮ বছর বয়সে সংগ্রাম, মেধা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পান। ২০২৩ সালে কনরো হাই স্কুল থেকে অসাধারণ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি। হার্ভার্ডে ভর্তির আবেদনের ব্যক্তিগত রচনায় তিনি নিজের জীবনের কঠিন শুরুর কথা তুলে ধরে লিখেছিলেন, "আমার জন্ম কারাগারে।"

অরোরার জন্ম টেক্সাসের গ্যালভেস্টন কাউন্টি জেলে, যেখানে তার মা কারাভোগ করছিলেন। জন্মের কয়েক দিন পর তার বাবা তাকে কারাগার থেকে নিয়ে আসেন এবং পরে টেক্সাসের কনরো শহরে বাবার কাছে বেড়ে ওঠেন। বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত বাবা একা মেয়ে অরোরাকে বড় করেন। মায়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না এবং ১৪ বছর বয়সে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল।

শৈশব থেকেই অরোরা পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০২৩ সালের ২৫ মে কনরো হাই স্কুল থেকে নিজের ব্যাচের তৃতীয় সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেন। অসাধারণ একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সামা কাম লাউডে সম্মাননা অর্জন করেন।

অরোরার এই সাফল্যের পেছনে শুধুমাত্র তার নিজের পরিশ্রম নয়, বরং একজন মেন্টরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। স্কুলের একটি কমিউনিটি মেন্টরিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে মোনা হ্যাম্বির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। স্কুল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি নোট থেকে প্রথম অরোরার কথা জানতে পারেন হ্যাম্বি। নোটটি পড়ে তার মনে হয়েছিল, মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী। হিউস্টন ক্রনিকলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই নোটটি এখনো তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

মেন্টর হিসেবে অরোরার পাশে দাঁড়ান মোনা হ্যাম্বি। নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তাকে উৎসাহ দিতে থাকেন। তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র স্কুলে সপ্তাহে একদিন দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অরোরার স্বপ্ন পূরণে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেন হ্যাম্বি ও তার স্বামী। ২০২২ সালের মার্চে তারা অরোরাকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখাতে নিয়ে যান।

হার্ভার্ডের ক্যাম্পাসে সেই সফর অরোরার সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্লি অ্যাকশন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন এবং ভর্তির সুযোগ পান। তার জন্য পূর্ণ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। কারাগারে জন্ম নেওয়া এবং একক অভিভাবকের পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর শিক্ষাজীবনের সাফল্য তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশের সঙ্গে মেন্টরের পরিবারের পরিবেশের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন অরোরা। তিনি জানান, হ্যাম্বির পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। সেই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন তিনি। অরোরার কাছে মেন্টরের সহযোগিতা শুধুমাত্র পড়াশোনার পরামর্শ ছিল না, বরং নিজের ভবিষ্যৎকে আরও বড় পরিসরে কল্পনা করার সুযোগও তৈরি করেছিল।

২০২৩ সালে প্রকাশিত অরোরার এই জীবনকাহিনি শিক্ষা ও মেন্টরশিপের গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আইন নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথাও তিনি জানিয়েছেন। কারাগারে জন্মের পর বাবার কাছে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার যাত্রায় ছিল ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, পারিবারিক সহযোগিতা এবং একজন মেন্টরের দীর্ঘদিনের সমর্থন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইবিতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় ছাত্রদলের সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


ইবিতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় ছাত্রদলের সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিদ্যুৎ সংকট এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সমস্যা মোকাবেলার লক্ষ্যে প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের কাছে স্মারকলিপিটি জমা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন, সদস্য-সচিব রাফিজ আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ সংকট এবং লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদান, পরীক্ষা, গবেষণা এবং আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রচলন করা প্রয়োজন। সোলার প্যানেল স্থাপন হলে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে, যা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে এবং বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় করবে, পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের প্রভাবও হ্রাস পাবে।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ, ৪৮ ঘণ্টার নোটিশ

চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এক্সক্লুসিভিটি চুক্তি লঙ্ঘন এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগও রয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘ঠিকানা’ সিনেমার প্রযোজক ও রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের স্বত্বাধিকারী মিসেস শাহরিন আক্তার আইনজীবীর মাধ্যমে তাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীফুল রাজকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এর জবাব দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি জবাব না পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক।

প্রযোজকের অভিযোগ হলো, সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে এবং এক্সক্লুসিভিটি চুক্তিও লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে চিত্রনায়ক শরীফুল রাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান: নতুন হামলার ক্ষেত্রে কোনো রেডলাইন মানবে না আব্বাস আরাঘচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


ইরান: নতুন হামলার ক্ষেত্রে কোনো রেডলাইন মানবে না আব্বাস আরাঘচি

ইরানে নতুন করে হামলা হলে ইউরোপকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে, এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি উল্লেখ করেন, তেহরান কোনো রেডলাইন মানবে না। এই হুঁশিয়ারি তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের একটি তীর্যক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জানান, যেখানে ইউরোপের জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জার্মানির চ্যান্সেলর বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের কারণে গত আট মাসে ইউরোপের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় ১০০ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে, যা প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলারের সমান।

তিনি আরও বলেন, সংঘাতের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হয়েছে। তাই যুদ্ধের অবসান দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মান চ্যান্সেলরের সমালোচনা করে বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সময় তিনি সেই অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অথচ এখন যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

ইউরোপের অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ইউরো জ্বালানি ব্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে আরাঘচি বলেন, যারা ইরানের জনগণের ক্ষতি করার সাহস দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যে ‘ভূমিকম্পসম আঘাত’ হানতে সক্ষম, তার তুলনায় এই অর্থ কিছুই নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সব সীমারেখা এখন অতীত।’

ইউরোপের জ্বালানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সমালোচনা করেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, যখন আপনারা যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন করেছিলেন, তখন কি ভেবেছিলেন না যে এর পরিণতি আপনাদেরও ভোগ করতে হবে?

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%