বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২১ পি.এম
মুরগির মাংস সহজলভ্য এবং পুষ্টিকর প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে অনেকের খাদ্যতালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। যদিও এই মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, তবে মুরগির শরীরের সব অংশ মানুষের জন্য নিরাপদ নয়। চিকিৎসকদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট অংশ সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা কিংবা রান্নার অসাবধানতা থেকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, মুরগির মাথা, গিলা-কলিজা এবং কিডনি মূলত শরীরের বর্জ্য ও টক্সিন ফিল্টার করার কাজ করে। বাণিজ্যিক ফিডে থাকা ক্ষতিকারক উপাদান বা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এসব অংশে জমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এসব অংশ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকেরা মুরগির নির্দিষ্ট ১০টি অংশ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
মুরগির চামড়া
মুরগির চামড়ায় প্রচুর পরিমাণে চর্বি ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা অনেকের প্রিয় হলেও। নিয়মিত বা অতিরিক্ত চামড়াসহ মাংস খেলে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
ফুসফুস
মুরগির ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রে প্রচুর অণুজীব বিদ্যমান। ফুসফুস মুরগির শরীরের গভীরে অবস্থান করে, যা সাধারণ রান্নার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত নাও হতে পারে।
অন্ত্র বা নাড়িভুঁড়ি
মুরগির অন্ত্র ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ থাকে। এটি সঠিকভাবে পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন। নাড়িভুঁড়িতে সালমনেলা ও ক্যাম্পিলোব্যাকটারের মতো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা মারাত্মক ফুড পয়জনিং ঘটাতে সক্ষম।
মাথা
বাণিজ্যিক খামারের ফিডে ব্যবহৃত কীটনাশক বা রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ মুরগির মাথায় জমা হতে পারে। এসব রাসায়নিক দীর্ঘমেয়াদে শরীরে জমা হয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
পা
মুরগির পা মাটির সংস্পর্শে থাকায় এতে প্রচুর জীবাণু লেগে থাকে। রান্নার আগে এটি নিখুঁতভাবে পরিষ্কার না করলে ক্ষতিকর জীবাণু পেটে গিয়ে পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
হৃদপিণ্ড
মুরগির হৃদপিণ্ডে পুষ্টি থাকলেও এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত হৃদপিণ্ড খেলে হরমোনজনিত সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
গিলা
মুরগির গিলা বা পাকস্থলীতে ছোট পাথর, বর্জ্য বা ময়লা জমে থাকতে পারে। এটি অত্যন্ত ভালোভাবে পরিষ্কার ও সিদ্ধ না করে খেলে শরীরে জীবাণু প্রবেশ করতে পারে।
গলা
মুরগির গলার অংশে অন্যান্য জায়গার তুলনায় জীবাণুর উপস্থিতি বেশি থাকে। অনেক সময় ভালো করে সিদ্ধ করার পরেও কিছু জীবাণু থেকে যায়। তাই গলার অংশ এড়ানো বা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সিদ্ধ করা জরুরি।
ডানা
মুরগির ডানায় প্রোটিনের চেয়ে চর্বি ও ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। পাশাপাশি যথাযথ তাপমাত্রায় রান্না না হলে এটি থেকে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মুরগির অস্থিমজ্জা
মুরগির হাড় উপকারী হলেও এতে থাকা ব্লাড বা কাঁচা অংশ সবসময় স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়। রান্নার সময় পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় হাড়ের ভেতর পর্যন্ত সেদ্ধ না হলে এতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয় না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, খামারে বা জবাইয়ের সময় পরিপাকতন্ত্রের বর্জ্য ও ব্যাকটেরিয়া মাংসের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই কারণে কাঁচা মাংস সংরক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত তাপমাত্রায় সিদ্ধ করে রান্না করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে ঘরে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার বিরুদ্ধে জনসাধারণের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভারতের বিভিন্ন স্থানে চলমান তীব্র বন্যা পরিস্থিতি এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির মাঝে সরকার কর্তৃক প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে তিনি ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে, নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিকে তিনি ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে শ্রীলেখা মিত্র তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিনেত্রী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মানুষকে বলা হচ্ছে প্রদীপ জ্বালাতে। কী এক অদ্ভুত বৈপরীত্য... আমাদের জীবনকে নরকে পরিণত করার পর এমন আবদার! ঠিক যেন এক বেদনাদায়ক পরিহাস।’
শ্রীলেখা বিজেপি ও সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে আরও লিখেছেন, ‘একজন স্বৈরাচার—অথবা এক স্বৈরাচারী গোষ্ঠী—সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে; সম্পত্তি ধ্বংস করছে, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে, আর সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর করছে; অথচ একই সঙ্গে তারা দাবি করছে যে তারা স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর অবতার!’
বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছি? আমরা কেমন এক সমাজ গড়ে তুলছি, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মহিমান্বিত করা হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের তকমা দেওয়া হয় দিমাগি নকশাল হিসেবে? এমন এক সময় যখন ভয়ই হয়ে ওঠে শাসনের হাতিয়ার আর ভিন্নমতকে দেখা হয় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে?’
ভারতের এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি ‘ঘোরতর পরিহাস’ এবং ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচির বিপরীতে সামাজিক মাধ্যমে শ্রীলেখার এই অবস্থান ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন কমেন্ট বক্সে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হত্যাচেষ্টা ও মারামারি সংক্রান্ত মামলার প্রথম আসামি মো. রাব্বি শরীফকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ওই মামলার এজাহারভুক্ত প্রথম আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অগ্রিম জামিনের জন্য হাজির হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাব্বি শরীফ আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় রতন মিয়ার বাড়ির সামনে পাকা সড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাব্বি শরীফসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী— ১৪৩/ ৩৪১/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৫/ ৩০৭/ ৩৭৯/ ৫০৬ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী মো. ফারুক হাওলাদার অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের কারণে আসামিরা পথরোধ করে হামলা চালায়। এই হামলায় ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড ব্যবহার করে মারধর ও হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করার অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মামলার এজাহারে রাব্বি শরীফ (২৭), সাব্বির হোসেন (২২), সালাম শরীফ (৫০), মো. আবু রহিম (২২) ও রিয়াদুল শরীফ (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম রাব্বি শরীফের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাব্বি শরীফ নামের আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতের অপরাধ বিষয়ক টিভি সিরিজ ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠেছেন আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক (২৪)। তিনজন অটোরিকশাচালককে খুন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার এই বাসিন্দা রিমান্ডে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদুল ইসলাম সবুজ এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
আসামির সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহের কারণে মানিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তার স্ত্রী প্রায়ই দেনমোহরের ৩০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিতেন। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানিক অতিরিক্ত ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর চালকদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি সহযোগীদের নিয়ে তাদের মুখ ও হাত-পা বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করতেন। নিহতদের অটোরিকশাগুলো কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন মানিক।
এসআই নাহিদুল ইসলাম সবুজ মন্তব্য করেছেন, "আমার ধারণা, মানিক একজন সাইকো কিলার। কিশোর চালকদের হত্যা করে সে একধরনের পৈশাচিক আনন্দও পেত।"
তিনি আরও জানান, গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হন নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক আরমান। তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার পর আসামি তিন অটোচালককে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এছাড়া, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় মো. মেহেদী (১৮) নামের এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। আরমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ মানিককে সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক।
পুলিশের দাবি, তিনটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করতেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সিঙ্গাপুর সরকার নাগরিকদের বই পড়ার জন্য উৎসাহিত করছে, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানো বা ক্ষতিকর তথ্য স্ক্রল করার ‘ডুমস্ক্রলিং’ প্রবণতা কমানো যায়। ডিজিটাল আসক্তি থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে বইয়ের প্রতি মনোযোগী করতে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটির ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগে অংশ নিতে পাঠকদের একটি নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে প্রতিদিনের বই পড়ার তথ্য ও সময় নথিভুক্ত করতে হবে। নাগরিকরা যদি প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়েন, তাহলে ২০টি ভার্চুয়াল পয়েন্ট বা কয়েন অর্জন করতে পারবেন। দিনে একটি পড়ার সেশন নথিভুক্ত করার সুযোগ থাকবে। ১ হাজার কয়েন জমা হলে নাগরিকরা ১ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৮০ সেন্ট) পাবেন। অর্থাৎ, একটানা ৫০ দিন প্রতিদিন ১৫ মিনিট বই পড়লে ১ ডলার পাওয়া যাবে।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা টাম জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো ছোট ও সহজলভ্য পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। দ্য স্ট্রেইটস টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা এমন এক যুগে বসবাস করছি, যেখানে বিপুল পরিমাণ তথ্যের ভিড়ে আমরা যেকোনো মুহূর্তে শত শত খবরের শিরোনাম স্ক্রল করতে পারি। কিন্তু ছোট ছোট চর্চা নিয়মিত করলেই তা স্থায়ী অভ্যাসে রূপ নেয়।" বাসে যাতায়াত, রাতে ঘুমানোর আগে বা দুপুরের খাবারের ফাঁকে দিনে অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই পদক্ষেপ মূলত তরুণদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ডুমস্ক্রলিং এবং অ্যাপের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিকে তরুণদের মানসিক অবসাদের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে নাগরিকদের শারীরিক সুস্থতায় হাঁটার অভ্যাস গড়তে সুপারমার্কেটের ভাউচারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেছে সিঙ্গাপুর সরকার।
এদিকে নাগরিকদের বই পড়ার অভ্যাস গড়তে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে দেশটির শিক্ষার্থীরা শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচির (পিআইএসএ) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের বই পড়ার ও তথ্য বোঝার দক্ষতায় বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা। এই তালিকায় তারা চীন ও তাইওয়ানকে পেছনে ফেলে প্রথম অবস্থান অর্জন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ