প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের অপরাধ বিষয়ক টিভি সিরিজ ‘ক্রাইম পেট্রোল’ দেখে সিরিয়াল কিলার হয়ে উঠেছেন আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক (২৪)। তিনজন অটোরিকশাচালককে খুন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকার এই বাসিন্দা রিমান্ডে পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাহিদুল ইসলাম সবুজ এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
আসামির সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকে দাম্পত্য কলহের কারণে মানিক বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। তার স্ত্রী প্রায়ই দেনমোহরের ৩০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিতেন। এই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মানিক অতিরিক্ত ভাড়ার লোভ দেখিয়ে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর চালকদের নির্জন স্থানে নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি সহযোগীদের নিয়ে তাদের মুখ ও হাত-পা বেঁধে মাথায় আঘাত করে হত্যা করতেন। নিহতদের অটোরিকশাগুলো কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন মানিক।
এসআই নাহিদুল ইসলাম সবুজ মন্তব্য করেছেন, "আমার ধারণা, মানিক একজন সাইকো কিলার। কিশোর চালকদের হত্যা করে সে একধরনের পৈশাচিক আনন্দও পেত।"
তিনি আরও জানান, গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হন নাঙ্গলকোটের অটোরিকশাচালক আরমান। তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়ার পর আসামি তিন অটোচালককে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এছাড়া, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় মো. মেহেদী (১৮) নামের এক অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। আরমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ মানিককে সহযোগীদের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক।
পুলিশের দাবি, তিনটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তদন্তে উঠে এসেছে যে, মানিক অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করতেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন