ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছোট ভাইয়ের হাতে খুন বড় ভাই, গ্রেফতার ২


ছোট ভাইয়ের হাতে খুন বড় ভাই, গ্রেফতার ২

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলের ৪১ নং ওয়ার্ড খিলগাও এলাকায় ঘটেছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানে মাদকাসক্ত ছোট ভাই চাঁন মিয়ার হাতে বড়ভাই জুয়েল (২৬) খুন হয়েছেন। রবিবার সকালে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েলের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত চাঁন মিয়া ও রুবেলকে পুলিশ আটক করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে জুয়েল একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করেছিল। গাড়ির মালিক রুবেল এই বিষয়টি জানতে পেরে জুয়েল’র মাকে জানায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে একটি বিচার শালিষের আয়োজন করে। শনিবার বিকালে ওই শালিসে ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। নিহত জুয়েল এর মা এই জরিমানার টাকা দিতে রাজি হননি এবং তিন দিনের সময় নেন। রবিবার বিকালে জরিমানার অর্ধেক টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকাল হওয়ার পূর্বেই, সকাল ১১টা নাগাদ চাঁন মিয়ার সহযোগিতায় রুস্তম, রুবেলসহ কয়েকজন মিলে জুয়েলকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত চাঁন মিয়া বলেন, "জুয়েল তুচ্ছ একটি ঘটনা নিয়ে কিছুদিন আগে আমাকে মারার পর রক্তাক্ত জখম করেছে। তাই আমি তাকে মেরেছি।" স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তারা উভয়েই মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দুই সৎ ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এই ঘটনার বিষয়ে পূবাইল থানার পরিদর্শক(তদন্ত) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সৎভাই চাঁন মিয়াকে পূবাইল বড়দল গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া রুবেল ও তমিজউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চর দখলকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় সংঘর্ষ, টেঁটার আঘাতে নারী নিহত; আহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৩ পি.এম


চর দখলকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় সংঘর্ষ, টেঁটার আঘাতে নারী নিহত; আহত ৪০

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার চরভাটেরা ও মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের ফলে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। নিহত নারী হলেন, মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম, যিনি ৩৫ বছর বয়সী।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরের দিকে তিতাসের চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজের জন্য মেঘনা উপজেলার দিকে গেলে চর বিনতপুর এলাকার আলী আকবর ও তার কর্মীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন। সেই খবর পাওয়ার পর, চরভাটেরা গ্রামের লোকজন মেঘনা নদী পার করে গিয়ে তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

এই ঘটনার পর, বিকেল বেলায় মেঘনার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তিতাসের চরভাটেরাবাসীর মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের প্রায় ৪০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিতাসের ১৫ জন এবং মেঘনার ২৫ জন রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে চরভাটেরা গ্রামের আহতদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আলীপুর ও বিনতপুর এলাকার আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজন বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৫) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষের পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় এক নারীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে মরদেহ উদ্ধার করায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। নিহত নারী আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই তিতাস থানা থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অশান্তির ঘটনা যেন না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

এতে উল্লেখ্য যে, মেঘনা নদীর এক পাশে তিতাস উপজেলা এবং অন্য পাশে মেঘনা উপজেলা অবস্থিত। নদীর বিভিন্ন চর নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ১৫ জুনেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রায় ২০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে নতুন নির্দেশনা দিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


সরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে নতুন নির্দেশনা দিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে যে ২০২৭ সালের ২৫ মে পর্যন্ত সব দাপ্তরিক চিঠিতে নজরুল বর্ষের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করতে হবে। রবিবার এ নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ চিঠিতে উল্লিখিত হয়েছে যে, সরকার চলতি বছরের ২৫ মে থেকে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত সময়কে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী গত ২ জুলাই ‘নজরুল বর্ষ’র নির্ধারিত লোগো উন্মোচন করেছেন।

এছাড়াও বলা হয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ, চেতনা ও সৃষ্টিকে জাতির কর্ম ও মননে সমুন্নত রাখার জন্য এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সব দপ্ত্রিক পত্রে নির্ধারিত লোগো ব্যবহারের জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ নির্দেশনাটি জারি করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা আরএমপিকে হস্তান্তর করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


রাসিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা আরএমপিকে হস্তান্তর করেছে

রাজশাহী, ২৬ জুলাই, ২০২৬ : রাজশাহী মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অপরাধ দমন, যানবাহন চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ডিজিটালি সিকিউরড সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশকে (আরএমপি) মোট ১৫৫টি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজ (রোববার) দুপুরে আরএমপি কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিসি ক্যামেরাগুলো তুলে দেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।

অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন বাস্তবায়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে আমাদের কাজ করতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা প্রদান করা হলো। আমরা সম্মিলিতভাবে নিরাপদ ও শান্তির মহানগরী গড়তে কাজ করে যাব। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আরএমপিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরাগুলো পুলিশের প্রিভেন্টিভ ও ডিটেকটিভ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন করে ১৫৫টি স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে রাজশাহী নগরী আরও নিরাপদ হবে এবং যানজট মুক্ত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এবিএম আসাদুজ্জামান সুইট উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিহার) মাইনুল ইসলাম, বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি) মো. আবুল কালাম সাহিদও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এই সিসি ক্যামেরাগুলো রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধ প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণে বন বিভাগের উদ্যোগ জোরদারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সংরক্ষণে বন বিভাগের উদ্যোগ জোরদারের দাবি

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৬ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

বারংবার ঝড়-জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঘুর্ণিঝড়ের গ্রাসে থাকা জনপদ কলাপাড়ার গোটা উপকূলকে রক্ষা করে আসছে ম্যানগোভ প্রজাতির বনাঞ্চল। এই গাছপালা সবুজ দেয়ালের মতো জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা ঠেকিয়ে দেয়। মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। বেচে থাকার অবলম্বন হিসেবে এই বনাঞ্চলের নিধনে অনিরাপদ উপকূলে ফের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়নের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় বনবিভাগ। এটি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে শুরু করা হয়েছিল। এর ফলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল বাড়তে শুরু করেছে। কোথাও প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এ প্রজাতির গাছের চারা যেমন ছইলা, কেওড়া, গোল, বাইনসহ অন্যান্য গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বনবিভাগ কঠোর নজরদারি রাখছে। নতুন চরে নতুনভাবে লাগানো হয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের লাখো চারা। গঙ্গামতির চরাঞ্চল ও আন্ধারমানিক নদী তীরের নতুন চরে এটি লাগানো হয়েছে। এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় হিসেবে কলাপাড়া ও পায়রা বন্দরের মানুষকে রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের এবং তাদের সম্পদ রক্ষা হবে। ইতিবাচক এ উদ্যোগটিকে দুর্গতিতে মানুষকে নিরাপদ রাখবে এ বিষয়ে স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতামত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞ মহলটি বনাঞ্চলের আশপাশে নির্মিত স-মিল বন্ধের সুপারিশ করেছেন। উপকূলবাসীর দাবি, ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলে বাড়িঘর তোলা বন্ধ করতে হবে।

কলাপাড়া উপজেলায় বনবিভাগের মোট আয়তন ১০ হাজার ১৭৭ দশমিক ১১ একর। এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে তিন হাজার নয় শ’ ৭৮ দশমিক ৩৩ একর। এর মধ্যে কুয়াকাটা বিটে ১৯৩ একর, কুয়াকাটা ক্যাম্পে ১৮১৮ দশমিক ৯৩ একর, গঙ্গামতি ক্যাম্পে ১১২৮ একর, খাজুরা ক্যাম্পে ৩৪৬ দশমিক ৮৭ একর এবং ধুলাসার ক্যাম্পের অধীন ৪৬১ দশমিক ৫৩ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এছাড়া ফুলবুনিয়া, বালিয়াতলী ও লালুয়া এলাকায় বনায়ন করা হচ্ছে।

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ১৯৫৭ সাল থেকে সাগরপাড়ের এই জনপদে বনায়নের কাজ শুরু হয়। ম্যানগ্রোভ ও ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়ন করা হয়। ষাটের দশকের মাঝামাঝি কৃষিকাজের স্বার্থে নদী ও সাগরের পাড় ঘিরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। লোনা পানির কবল থেকে মানুষকে তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ভিতরে খালের সংযোগস্থলে স্লুইসগেট করা হয়। এরপর বেড়িবাঁধের বাইরে সবচেয়ে বেশি গোলগাছের বাগান সৃজন করা হয়েছে। অধিকাংশই সৃজিত হয়েছে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান। ওই সময় থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুসারে কলাপাড়ায় ৪৬ একর জমিতে সেগুন গাছ এবং ২১০ একর নারিকেল বাগান তৈরি করা হয়েছে। গোলপাতা ২৭৯৪ একর, কড়ই বাগান ৬২৭ একর, গেওয়া বাগান ৩২০ একর এবং হোগলা পাতা ৪০ একর। সুন্দরী পশুর কেওড়া গাছের জন্য ১০৫ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটিও দেখা গেছে যে ১৯২৯ একর ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ এবং ৩১২ একর ননম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছও লাগানো হয়েছে। পরবর্তীতে কমপক্ষে ১১৫ কিলোমিটার এলাকায় স্ট্রীপ সংযোগ সড়ক এবং বাগান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু একটি শ্রেণির বনদস্যু বনবিভাগের কর্মীদের প্রকাশ্য যোগসাজশে বনাঞ্চল নিধন ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, মানুষ নিজের নিত্যকাজে এবং জ্বালানির জন্য বন উজাড় করতে থাকে। বনাঞ্চলের আশপাশে স-মিল গড়ে তোলা হচ্ছে কোনও কিছু তোয়াক্কা না করেই। সরকারিভাবে এসব স মিলের অধিকাংশের বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অভিযোগ রয়েছে যে মাসোহারায় চলছে এসব। ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মীর কারণে বনবিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন, মধুখালীর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলকে কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে, যেখানে প্রাচীন শত শত ছইলা, কেওড়া, বাইনগাছ কাটা হচ্ছে। বসতবাড়ি নির্মিত হচ্ছে এবং এটি চলতে থাকছে। বর্তমানে দৃষ্টিনন্দন মধুখালী লেকসহ দুই পাড়ের বনাঞ্চলটি ধ্বংসের মুখোমুখি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান যে, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বনটিকে বনবিভাগ দেখভাল করে আসছে। গাছ কাটার ঘটনায় অসংখ্য বনদস্যুসহ সাধারণ মানুষকে আসামি করে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশাল এলাকা উজাড় করে অন্তত ছোট-বড় ১০টি মাছের ঘের করা হয়েছে। মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দূর্যোগেও সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণ হয়েছে। ধুলাসার ক্যাম্পের অর্ধেকটা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। একই দৃশ্য গঙ্গামতি, কুয়াকাটা ও খাজুরা লেম্বুরচর বনাঞ্চলের অবস্থা। বনবিভাগের মহীপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা আবুল কালাম জানিয়েছেন যে পাঁচ বছর আগে গঙ্গামতি এলাকায় তারা নতুন করে ২০০ একর বনায়ন করেছেন। কলাপাড়ার বনকর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তিনি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে আন্ধারমানিক ও টিয়াখালী নদীর তীরে ৩০ হাজার গোলগাছের চারা লাগিয়েছেন। লাগানো হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার কেওড়া গাছের চারা। সলিমপুর গ্রামের কাছে নীলগঞ্জের সুলতানগঞ্জ গ্রামের নদী তীরে এই গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো ক্রমশ সতেজ হয়ে উঠছে। ফলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনবৃক্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ আব্দুর রহিম জানিয়েছেন যে, সুপার সাইক্লোন সিডরের সময় যেসব বেড়িবাঁধের বাইরে ম্য্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল ছিল, ওই এলাকার বেড়িবাঁধ খুবই কম বিধবস্ত হয়েছে। তাই তার দৃষ্টিতে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। স্থানীয়দের মন্তব্য, ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়ন নদীর পাড়ে জন্মায় এবং যা শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণ করলেই হয়, যাতে নষ্ট না হয়ে যায়। এ ছাড়া বেড়িবাঁধের বাইরের কোনো ভূমি অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কৃষিজমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে বেড়িবাঁধ মেরামত কিংবা পুনরাকৃতিককরণ কাজে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চল কেটে ফেলা হচ্ছে। স্কেভেটর মেশিনে বাঁধ মেরামতের জন্য মাটি কাটতে গিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরের ম্যানগ্রোভ প্রজাতির ছইলা-কেওড়া, বাইন ও গোলগাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে।

পরিবেশবাদীদের ভাষ্য হলো, অন্যান্য প্রজাতির গাছের তুলনায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের কার্বণ শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বেশি। তাই উষ্ণায়ণ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনাঞ্চলের বিকল্প নেই। পরিবেশ কর্মী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় বেড়িবাঁধ মেরামত করতে গিয়ে মাইলের পর মাইল সর্বনাশ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে লেবারদের দিয়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ করা হতো। এতে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থান হতো, অন্যদিকে বাঁধটিকে জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটা থেকে রক্ষা করার জন্য গাছটিও রক্ষা পেত। লেবাররা গাছের চারদিকের মাটি রেখে কাটত, ফলে কোন গাছ মারা পড়ত না। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এই পদ্ধতি না মানায় ম্যানগ্রোভ প্রজাতির হাজারো গাছ গত ৫-৬ বছরে মারা পড়েছে। ফলে বাঁধ মেরামত কিংবা পুনরাকৃতিককরণে বাঁধ উচু করলেও জলোচ্ছ্বাসের ঝাপটায় চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মূলত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রক্ষা এখন উপকূলের জন্য খুব জরুরি, কারণ সবুজ দেয়াল হিসেবে এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় মানুষের জীবন ও সম্পদকে রক্ষা করে। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। উপজেলায় বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়ার ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান জানান, শীঘ্রই এ কমিটির সভা ডেকে অবৈধ করাতকল বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বন রক্ষায় পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%